সিলেটে হেলথ কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে পাঠানোর নামে প্রতারণা, র‌্যাবের জালে গ্রেপ্তার ১

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

হেলথ কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রায়গড় পুরান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কয়েছ আহমদ (৪০)। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার ময়নুল হকের ছেলে। র‌্যাবের দাবি, তিনি বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি প্রতারক চক্রের সদস্য।

র‌্যাব জানায়, মামলার বাদী গোলাপগঞ্জ থানার গৌরাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল আহাদ (৫৯)। আসামিদের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাদীর অসহায়ত্ব ও বেকার সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে আসামিরা তাঁকে যুক্তরাজ্যে হেলথ কেয়ার ভিসায় লোক পাঠানোর কথা বলেন। তাঁদের কাছে একাধিক ভিসা রয়েছে বলেও তাঁকে জানানো হয়।

আসামিদের কথায় বিশ্বাস করে আব্দুল আহাদ তাঁর ছেলে আব্দুল আহসান সুহেদকে হেলথ কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে পাঠাতে ৪০ লাখ টাকা দেন। এ কাজে ১ নম্বর আসামি মো. জসিম উদ্দিন সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, পরে আব্দুল আহবাব পারভেজ ও মো. সায়েমও যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁদের বলা হয়, হেলথ কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে যেতে প্রত্যেকের জন্য মোট ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন এবং ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হতে চার থেকে ছয় মাস সময় লাগবে। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ১৮ মে থেকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে মোট ৬০ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

টাকা দেওয়ার পর তাঁদের মেডিকেল পরীক্ষা ও বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয়। এরপর তাঁরা ভিসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভিসা প্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তাঁরা আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় আসামিরা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হলে ৭ নম্বর আসামি রিমি বেগমের দেওয়া ভিসাসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এতে কাগজপত্রগুলো জাল ও ভুয়া বলে তাঁরা জানতে পারেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

পরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা টাকা ফেরত না দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।

মামলার পর র‌্যাব-৯ সিলেটের একটি দল অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি কয়েছ আহমদকে গ্রেপ্তার করে। গোলাপগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-০৯, তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৬। মামলাটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(২), ৭, ৮(২) ও ৯(২) ধারায় করা হয়েছে।

র‌্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪