বিশ্বনাথে ইউপি চেয়ারম্যান ধলা মিয়ার ওপর হামলার অভিযোগে ১৭ জনের নামে মামলা

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকী ও ইশবপুর গ্রামবাসীর মধ্যে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার একদিন পর ভুরকী গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন ধলা মিয়ার ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগে ১৭ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চেয়ারম্যানের নাতি, একই গ্রামের মদরিছ আলীর ছেলে কবির আলী বাদী হয়ে মামলাটি (নম্বর ১৭) দায়ের করেন। মামলায় আরও ৪০/৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার নামোল্লেখ করা আসামিরা হলেন ইশবপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ওলিউর রহমান জনি (৩৫), আব্দুল মস্তানের ছেলে তাজ মিয়া (৫৫), আব্দুল কালামের ছেলে বাচ্চু (৫০), মৃত আবরু মিয়ার ছেলে সফির মিয়া (৬২), বাদশা মিয়ার ছেলে আব্দুল গফ্ফার বারিক (৩৫), আব্দুল মস্তানের ছেলে আব্দুল মন্নান সরকার (৬২), আব্দুস সালামের ছেলে সেজু (২৫), বাচ্চু মিয়ার ছেলে পারভেজ (২৫), আব্দুল মন্নানের ছেলে বাবলু (২৩), আনা মিয়া মেম্বারের ছেলে আওলাদ (৫০), আছাবরের ছেলে আক্তার হোসেন (২৮) ও আলী হোসেন (৩৭), মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মানিক মিয়া (৪৫), আব্দুল মন্নান সরকারের ছেলে মিজান (২২), কুরশিদের ছেলে সমুজ (৪৫), মৃত আলকাছ আলীর ছেলে কয়ছর (৩০), আলমাছ আলীর ছেলে আল-আমিন (২৮)।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার সময় লামাকাজী ইউনিয়নের ইশবপুর গ্রামে চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার মালিকানাধীন খালি জায়গা পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের কাজ চলছিল। এ সময় ১ নম্বর আসামি ওলিউর রহমান জনির নেতৃত্বে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই জায়গায় প্রবেশ করে কাজে বাধা প্রদান করে। একপর্যায়ে ৪ নম্বর আসামি সফির মিয়ার নির্দেশে আসামিরা তাদের হাতে থাকা রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, জিআই পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়াসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মাথায়, মুখে ও শরীরে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে এবং অনেকের হাড় ভেঙে গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, ভুরকী ও ইশবপুর গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ইশবপুর গ্রামের আব্দুল মস্তানের ছেলে তাজ মিয়া ও আব্দুল মন্নান সরকারকে কবির আলীর দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ সিলেটের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ এবং একইদিন মামলার এজাহারভুক্ত আরেক আসামি ইশবপুর গ্রামের মৃত আলকাছ আলীর ছেলে কয়ছরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান মামলা দায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্বনাথের লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকী গ্রামের বাসিন্দা ও একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া এবং ইশবপুর গ্রামের হাজী সফির মিয়ার মধ্যকার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিশ্বনাথের লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকী ও ইশবপুর গ্রামবাসী মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়াসহ উভয় গ্রামের অন্তত ৩০ জন আহত হন।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪