ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে তছনছ বিশ্বনাথের দুই দিনমজুর সহোদরের বসতঘর

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ঝড়-শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন দুই দিনমজুর সহোদর। ঝড়ে উড়ে গেছে ঘরের অর্ধেক টিনের চাল, আর প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টিতে অবশিষ্ট টিনগুলো হয়ে গেছে ঝাঁঝরা। ঘরের মেঝেতে বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়া সেই ঘর ছেড়ে এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন দিনমজুর শফিক মিয়া ও শানুর মিয়ার পরিবার।

​উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র। দুই ভাইয়ের বসতঘরের অর্ধেকের বেশি চালের কোনো অস্তিত্ব নেই। অবশিষ্ট যেটুকু টিন আছে, তা-ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে চালুনির মতো ছিদ্র হয়ে ঝুলে আছে। মাটির বেড়াগুলো ধসে পড়ার উপক্রম। আর চারপাশের টিনের বেড়াগুলো বাতাসে দুমড়েমুচড়ে ঝুলে আছে।

ঘটনার সময় দুই ভাই কাজের সন্ধানে ঘরের বাইরে ছিলেন। বাড়িতে থাকা তাদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, একই ঘরের পৃথক দুটি কক্ষে সন্তানদের নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করতেন তারা। কিন্তু, সাম্প্রতিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টি মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সবটুকু কেড়ে নেয়। ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড় বৃষ্টির পানিতে ভিজে একাকার হয়ে গেছে। ভিটেমাটি থাকলেও এই মুহুর্তে মাথার ওপর ছাদ না থাকায় তারা এখন পুরোপুরি আশ্রয়হীন।

​শফিক মিয়ার স্ত্রী ছায়ারুন বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘তুফানে আর হিলে আমরার ঘরদুয়ার সব তছনছ করিলিছে। এখন আমরার আর কোনো উপায় নাই। বাচ্চাকাচ্চা লইয়া পরার ঘরো আছি। সরকার ও দয়াশীল মাইনষে যদি সাহায্য না করোইন, তে আমরা কই যাইমু?’

তাদের প্রতিবেশী সিরাজ মিয়া বলেন, ‘শফিক ও শানুর মিয়া দিনমজুরির আয়ে কোনো রকমে সংসার চালান। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসারে নতুন করে ঘর মেরামত করা তাদের পক্ষে পাহাড়সম কঠিন কাজ।’

এ বিষয়ে স্থানীয় লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া জানান, খবর পেয়ে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের দ্রুত নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।’

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারকে সরকারি অর্থ ও শুকনো খাবার প্রদান করা হবে।’

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪