দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসরে যাওয়া এক আদর্শ শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ ঘটল সিলেটের বিশ্বনাথে। পৌর শহরের ভোগশাইল গ্রামস্থ শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মো. জালাল উদ্দীন বিএসসি-কে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন তাঁর সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতিচারণে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই শিক্ষক। জানা গেছে, মো. জালাল উদ্দীন ১৯৯৮ সালের ১৮ জুলাই শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং টানা ২৭ বছর ৫ মাস ১৩ দিন নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা শেষে অবসরে যান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা।
তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানী করে তোলে, আর নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এই দায়িত্ব শিক্ষকসমাজই পালন করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, কেবল পরীক্ষার ফল নয়—শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সততার আলোকে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সমাজে নীতি-নৈতিকতার সংকট দূর করতে শিক্ষকরাই সবচেয়ে বড় ভরসা।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে বিদায়ী শিক্ষক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, আজকের এই ভালোবাসায় ভরা আয়োজন আমাকে আজীবনের ঋণে আবদ্ধ করেছে। শিক্ষকতা জীবনে আমি কখনো দায়িত্ব পালনে অবহেলা করিনি। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কখনো কঠোর হয়েছি, আবার কখনো স্নেহে আগলে রেখেছি। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, তাঁর শিক্ষার্থীরা আজ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত—এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শাহপিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য আলহাজ্ব লেচু মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, মো. আনছার আলী ও সহকারী শিক্ষক মোছা. ফিরোজা খাতুনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান আহমদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গৌছ খান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান, সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, রাগীব রাবেয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বুনন সম্পাদক কবি খালেদ উদ্দীনসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করেন হাবিবুল্লাহ মিসবাহ এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সামিরা বেগম ও তাবাসসুম জান্নাত মাঈশা। শিক্ষকদের পক্ষে মানপত্র পাঠ করেন ছিদ্দিকুর রহমান এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে মানপত্র পাঠ করেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর আহমদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আরিবুর রহমান আরিফ। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন এবং শেষপর্বে দোয়া পরিচালনা করেন ভোগশাইল বায়তুর জান্নাত জামে মসজিদের ইমাম লায়েক আহমদ লতিফি।
এসময় বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আরোও পড়ুন:: যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমের উদ্যোগে বিশ্বনাথে শীতবস্ত্র বিতরণ।






