বিশ্বনাথের প্রথম অনলাইন পত্রিকা

বিশ্বনাথে অবৈধ মোটরচালিত রিকশা-ইজিবাইকের ছড়াছড়ি

আব্বাস হোসেন ইমরান :: প্যাডেলচালিত রিকশা এখন আর নেই। ঝুঁকিপূর্ণ, অবৈধ ও বিদ্যুৎ অপচয়কারী মোটরচালিত রিকশা ও ব্যাটারীচালিত ইজিবাইকের ছড়াছড়ি এখন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। বৈধতা নেই তবুও উপজেলা সদরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এগুলো। দিনকে দিন বেড়ে চলেছে এসব যানবাহনের সংখ্যা। তারউপর এই মোটরচালিত রিকশা ও ব্যাটারীচালিত ইজিবাইকের বেশিরভাগ চালকই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। ফলে, প্রায়শই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। আবার এসব যানবাহন চার্জ দেয়ায় অপচয় হচ্ছে বিদ্যুৎও।
দেশের মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মোটরচালিত রিকশা ও ব্যাটারীচালিত ইজিবাইক না চালাতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর কয়েকবার বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। তাতে কোনো সুফল আসেনি। বর্তমানে অনেকটা বৈধ যানবাহনের মতোই প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে এসব নিষিদ্ধ মোটরচালিত রিকশা ও ব্যাটারীচালিত ইজিবাইক। এছাড়াও, উপজেলা সদরের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে এই অবৈধ যানবাহনগুলোর অবৈধ স্ট্যান্ডও। অভিযোগ উঠেছে, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ‘স্থানীয়দের ম্যানেজ করে’ই এগুলো সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিদিন।
জানা গেছে, কেবল বিশ্বনাথ উপজেলা সদরেই চলছে প্রায় ৫ শতাধিক মোটরচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারীচালিত ইজিবাইক। এছাড়াও, প্রত্যেক এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও রয়েছে এসবের রাজত্ব। প্যাডেলচালিত রিকশার তুলনায় এসব যানবাহন দ্রুতগতির হওয়ায় ও এসবের বেশিরভাগ চালকই অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় বেপরোয়া গতিতে সড়কে তৈরী হয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এছাড়াও অভিযোগ আছে, বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজে চোরাই পথে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাতভর ব্যাটারি চার্জ দেয়া এসব নিষিদ্ধ যানবাহনে। কেউ কেউ আবার বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে খুলে বসেছেন চার্জের দোকান। মাসে ১৫শ টাকা হারে এসব যানবাহন প্রতিদিন চার্জ করে দেন তারা। এতে করে অপচয় হচ্ছে বিদ্যুতের বৃহৎ একটি অংশেরও।
এদিকে, বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের নতুন বাজারের বাসিয়া ব্রীজের নীচে জানাইয়া-রাজনগর রোডের প্রবেশ মুখে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ মোটরচালিত রিকশা স্ট্যান্ড। যার ফলে, এখানে তীব্র যানজট দেখা দেয় প্রতিদিন। এ পথ দিয়ে উপজেলা পরিষদে যেতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, অফিসগামী জনসাধারণ। ভোগান্তিতে পড়েন স্কুল-মাদরাসা পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও। পথের উপর এ স্ট্যান্ড নিয়ে প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করেন পথচারীরা। অথচ, রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকায় প্রশাসন।
বিশ্বনাথ অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিক সমিতির সভাপতি মো. মোস্তাক আহমদ খান বলেন, লোন-কিস্তি তুলে দরিদ্র চালকেরা এগুলো কিনেছেন। তাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন এ বাহন। এখন এগুলো বন্ধ হলে ওরা খাবে কি?
পল্লীবিদ্যুৎ বিশ্বনাথ জোনাল অফিসের ডিজিএম সামিউল কবির বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। আমরা খোঁজ-খবর রাখছি। পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্ণালী পাল বলেন, নিষিদ্ধ এসব যানবাহনের ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।


Endofcontent
You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!