বিশ্বনাথে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৯২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১

Ayas-ali-Advertise
Facebook
Twitter
WhatsApp

সিলেটের বিশ্বনাথে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সমবেত হয়ে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৯২ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিশ্বনাথ থানায় মামলাটি করেন ৩ নম্বর অলংকারী ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী দলের সহসভাপতি মো. ইরন মিয়া। মামলার নম্বর ১৭। এতে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫ডি ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর শুক্রবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে বিশ্বনাথ পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুমকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি অলংকারী গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে। নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট রাত সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্বনাথ থানার ৪ নম্বর রামপাশা ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকার লামাকাজী–বিশ্বনাথ সড়কের আমতৈল এলাকায় আসামিরা সমবেত হন। ঘটনাস্থলটি বিশ্বনাথ থানা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে আসামিরা সেখানে সমবেত হয়ে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করেন।

মামলার এজাহারে নাম থাকা আসামিরা হলেন—দিপবন্ধ বিলপাড় গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে গিয়াস উদ্দিন আহমদ, হোসেনপুর গ্রামের মৃত হারিছ আলীর ছেলে কবির আহমদ কুব্বার, ধর্মদা গ্রামের মৃত সমছু মিয়ার ছেলে শাহ আসাদুজ্জামান, বিশ্বনাথের গাঁও গ্রামের মৃত আফতাব আলীর ছেলে ফারুক আহমদ, তেলিকোনা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মুহিবুর রহমান সুইট, মিরেরচর গ্রামের জুবেদ আলীর ছেলে রফিক হাসান, ইলিমপুর গ্রামের মৃত সিকন্দর আলীর ছেলে ফজর রহমান, পুরান বাজারের বিমল দাসের ছেলে শংকর দাস সংকু, জানাইয়া গ্রামের আব্দুল কালামের ছেলে শামীম ওরফে চাক্কু শামীম এবং রাজনগর গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার ছেলে ফজর আলী।

এ ছাড়া পূর্ব চান্দশির কাপন গ্রামের মৃত রিয়াজ আলীর ছেলে সিরাজ মিয়া, জাহারগাঁও গ্রামের ওয়ারিছ খানের ছেলে রুহেল খান, ধনপুর গ্রামের মৃত নছিব উলাহর ছেলে ওয়াহাব আলী, মিরেরচর গ্রামের মৃত বাখর মামনের ছেলে আলতাব হোসেন, জানাইয়া গ্রামের মৃত ইসমাইল আলীর ছেলে জুনাব আলী, একই গ্রামের মৃত মহব্বত আলীর ছেলে মকদ্দুছ, কাঠলিপাড়া গ্রামের পরেশ দাসের ছেলে পার্থ সার্থী দাস পাপ্পু, আমতৈল গ্রামের মৃত ইসবর আলীর ছেলে আজিজুর রহমান, সাংগীরাই গ্রামের আ. গৌছের ছেলে এনামুল হক এনাম ও ছত্রিশ গ্রামের মৃত সুমেশ মিয়ার ছেলে বারাম উদ্দিন।

আম-বড় খুড়মা গ্রামের মৃত তহুর মিয়ার ছেলে হিরা মিয়া, শিমুলতলা গ্রামের মৃত সেলিম উল্লাহর ছেলে আব্দুল হান্নান তোতা, বিশ্বনাথ নতুন বাজারের মৃত কামরুল ইসলামের ছেলে হাবিব মিয়া, জানাইয়া গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের ছেলে আব্দুল জলিল জালাল, তবলপুর গ্রামের খুরশেদ আলীর ছেলে দুদু চোরা, দৌলতপুর (মাঠগাঁও) গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে মানিক মিয়া, ছোট খুড়মা গ্রামের অজ্ঞাত পিতার রফিক মিয়া, মোহাম্মদপুর গ্রামের ধীরেন্দ্র ধরের ছেলে শংকর চন্দ্র ধর, ভোলাগঞ্জ গ্রামের আব্দুল মুতলিবের ছেলে আঃ নূর এবং দুর্যাকাপন গ্রামের অজ্ঞাত পিতার শাখাওয়াত হোসেন।

ধীতপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার ওরফে গেদার আলীর ছেলে সৈয়দ হোসেন, কাদিপুর গ্রামের মাহমদ আলীর ছেলে আব্দুস ছত্তার, টেংরা গ্রামের এখলাছুর রহমানের ছেলে সেলিম মিয়া, সাধুরগাঁও গ্রামের অজ্ঞাত পিতার ইমাদুল ইসলাম, অলংকারী গ্রামের মৃত তজমুল আলীর ছেলে আব্দুল কাইয়ুম, শ্রীধরপুর গ্রামের মছদ্দর আলীর ছেলে শাহজাহান সিরাজ, একই গ্রামের মৃত সমুজ আলীর ছেলে বাবুল মিয়া, দশপাইকা গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর ছেলে আব্দুল মনাফ, মিরেরগাঁও গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে আবুল কালাম এবং মৌলভীরগাঁও গ্রামের মস্তফা মিয়ার ছেলে আব্দুস ছোবহান।

নূরপুর (তবলপুর) গ্রামের মৃত মনির আহমদের ছেলে কাওসার আহমদ, রহিমপুর গ্রামের আনোয়ারুল হক ভুরুর ছেলে মতিন আহমদ, নোয়ারাই গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে মঈন উদ্দিন, রঘুপুর গ্রামের মৃত মো. মোফাজ্জল হোসাইন খানের ছেলে মো. সালমান খান, বিশ্বনাথেরগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে লায়েক আহমদ, আগরকান্দী গ্রামের মৃত মরম আলীর ছেলে জাহেদ আহমদ, অলংকারী গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম, একই গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে সাহেদ মিয়া, মাহতাবপুর গ্রামের মৃত কমর উদ্দিনের ছেলে সানুর আলী এবং একই গ্রামের মৃত হাজী কমর উদ্দিনের ছেলে মো. সিরাজুল হক।

চক রামপ্রসাদ গ্রামের ছত্তার আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান, একই গ্রামের ওয়াব আলীর ছেলে আব্দুস সহিদ, ভোলাগঞ্জ গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে তোরন মিয়া, হামদরচক গ্রামের মৃত মতছির আলীর ছেলে শামীম মিয়া, জানাইয়া গ্রামের বাছা মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া, একই গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে রাজন মিয়া, আমেরগাঁও গ্রামের অজ্ঞাত পিতার নজরুল ইসলাম, দৌলতপুর (উত্তর) গ্রামের মৃত মতসির মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া, মাহতাবপুর গ্রামের আনজব আলীর ছেলে সামসুল হক এবং ইলামেরগাঁও গ্রামের মৃত হরমুজ আলী ইদুরের ছেলে ইয়াছিন আলী।

মাইজগাঁও গ্রামের মুজিব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন আনহার, হরিকলস গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, দশপাইকা (দক্ষিণ) গ্রামের মৃত সুনা মিয়ার ছেলে আকবর আলী, সরুয়ালা বেকারগাঁও গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে কমরু মিয়া, আগরকান্দি গ্রামের মৃত ইছব আলীর ছেলে শাহেদ, একই গ্রামের রুস্তুম আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম, একই গ্রামের মৃত মরম আলীর ছেলে জাহেদ মিয়া, আলমনগর গ্রামের খোয়াজ আলীর ছেলে মো. এখলাছ মিয়া, পালেরচক গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে বাবুল মিয়া এবং কান্দিরগ্রাম গ্রামের আউয়াল মিয়ার ছেলে রাজন মিয়া।

তেলিকোনা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সারোয়ার মিয়া, ইলামেরগাঁও গ্রামের খোয়াজ আলীর ছেলে জুবেল মিয়া, দশপাইকা (দক্ষিণ) গ্রামের ইছাক আলীর ছেলে নাহি মিয়া, দশপাইকা গ্রামের ইলাছ মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া, হাসনাজি গ্রামের আকবর আলী খেলার ছেলে নাছির আলী, কামালপুর গ্রামের মৃত তোরাব আলীর ছেলে মো. রাসেল মিয়া, শাহজিরগাঁও গ্রামের মো. সুন্দর আলীর ছেলে ফয়ছল আহমদ, পাহাড়পুর (খাজাঞ্চি) গ্রামের শামীম আহমদের ছেলে শেখ সালমান আহমদ, আতাপুর গ্রামের মৃত সামসাদ আলীর ছেলে আব্দুল আহাদ রোকন এবং ধীতপুর গ্রামের ছনতু মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া।

বাইশঘর গ্রামের আনোয়ার আলমের ছেলে নজমুল আলম, সরুয়ালা গ্রামের মৃত সজ্জাদ মিয়ার ছেলে বদরুল আলম, পশ্চিম শ্বাসরাম গ্রামের আলকাছ মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া, উত্তর মিরেরচর (সাবরাগাঁও) গ্রামের শামীম মিয়ার ছেলে আকরাম মিয়া, আমতৈল গ্রামের মৃত নুরুল আমিনের ছেলে নুরুজ্জামান, একই গ্রামের মৃত কাদির মিয়ার ছেলে রেনু মিয়া, মোহাম্মদপুর (খাজাঞ্চি) গ্রামের মৃত সিকন্দর আলীর ছেলে জামাল মিয়া, কান্দিগাঁও গ্রামের আখলু মিয়ার ছেলে রনি মিয়া, আমতৈল (পশ্চিম ধলিপাড়া) গ্রামের মৃত লুৎফুর মিয়ার ছেলে আফাজ মিয়া, দয়ামীর গ্রামের হানাওয়ার আলীর ছেলে শাহিন মিয়া, দয়ামীর (জালালপাড়া) গ্রামের ওয়াহাব মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া ওরফে ধোপা ফারুক এবং দয়ামীর (কাজীবাড়ী) গ্রামের মুসলেহ উদ্দিনের ছেলে কাজী সাঈদ।

মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়ের ও আবদুল কাইয়ুমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ গ্রেপ্তার আবদুল কাইয়ুমকে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্বনাথনিউজ২৪ডটকম / বিএন২৪