বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক কেবল মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এই প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা, কনটেন্ট তৈরি এবং আয়ের নানা সুযোগ। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই ফেসবুক ব্যবহার করে নিয়মিত উপার্জনের পথ তৈরি করছে। তবে এর পাশাপাশি একটি সাধারণ অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়, হঠাৎ করে ফেসবুক আইডি বা পেজ বন্ধ হয়ে যাওয়া, যাকে সাধারণভাবে ‘ডিজেবল’ হওয়া বলা হয়। অধিকাংশ ব্যবহারকারীই বুঝতে পারেন না, ঠিক কী কারণে এমনটি ঘটে।
এ বিষয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে ফেসবুক আইডি ও পেজ বন্ধ হওয়ার পেছনের কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও আইটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আশিকুর রহমান জানান, ফেসবুক একটি বিনামূল্যের সেবা। এটি যদি অর্থের বিনিময়ে ব্যবহারযোগ্য কোনো অ্যাপ হতো, তাহলে কর্তৃপক্ষ সম্ভবত আইডি বা পেজ ব্লক করার আগে ব্যবহারকারীকে সতর্কবার্তা দিত। ফ্রি প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় আইডি ডিজেবল হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিকার বা সুরক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছরে ফেসবুকের সাপোর্ট ব্যবস্থায় মানুষের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বা রোবট নির্ভরতা বেড়েছে। এর ফলে সাপোর্ট সিস্টেম অনেক ক্ষেত্রে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ ছাড়াই অনেক সময় হঠাৎ করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কিংবা পেজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
কোন কারণে আইডি বা পেজ বন্ধ হয়
অনেক ব্যবহারকারীই জানেন না, ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেটা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত কিছু নিয়ম রয়েছে, যা ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ নামে পরিচিত। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই নীতিমালা ছয়টি প্রধান ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো—সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা, আপত্তিকর কনটেন্ট, তথ্যের সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ এবং অভিযোগ ও সমাধান সংক্রান্ত বিষয়।
এই নির্দেশনার মধ্যে সহিংসতা, অপরাধ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে ফেসবুক সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ফেসবুকে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। এমনকি সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগে কোনো কনটেন্ট রিপোর্ট হলেই সংশ্লিষ্ট পোস্টসহ পুরো পেজ বা গ্রুপ অপসারণ করা হতে পারে।
এ ছাড়া ঘৃণামূলক বা আপত্তিকর বক্তব্য, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ কিংবা শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়। একইভাবে ধর্ষণ, দুর্ঘটনা, মৃতদেহ কিংবা নির্যাতনের ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট আইডি, পেজ বা গ্রুপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আশিকুর রহমান বলেন, ফেসবুক তাদের নীতিমালা বাস্তবায়নে অত্যন্ত সতর্ক। নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করা হলে অথবা এসব বিষয়ে অভিযোগ এলে কর্তৃপক্ষ ব্যক্তিগত আইডি, পেজ কিংবা গ্রুপ ডিজেবল করে দেয়।
আরোও পড়ুন:: ফোনের চার্জ টিকবে দীর্ঘক্ষণ, বন্ধ করুন এই পাঁচ ফিচার









