AM-ACCOUNTANCY-SERVICES-BBB

৩৯ বছর পর গর্ব নিয়ে বাড়িতে ফিরলেন বিশ্বনাথের রাহিদ মিয়া

বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডট কম :: জুলাই - ৭ - ২০২১ | ১১: ১০ অপরাহ্ণ

ASI rahid miah

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাংলাদেশ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ৭ এপিবিএন সিলেটের এএসআই মো. রাহিদ মিয়া ৩৯ বছর চাকরি জীবন শেষ করে গর্বিত হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। চাকরি জীবনে বিদায় বেলায় পুলিশের সরকারি গাড়ি ফুল দিয়ে সাজিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ৭ এপিবিএন এর সদস্যরা মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে মো. রাহিদ মিয়াকে বিশ্বনাথের দৌলতপুর ইউনিয়নের চরচন্ডী গ্রামে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন।

বুধবার (৭ জুলাই) দুপুরে মো. রাহিদ মিয়াকে বহনকারী সাজানো গাড়িটি যখন সিলেট থেকে বিশ্বনাথ উপজেলা সদর হয়ে চরচন্ডী গ্রামে এগুতো থাকে তখন গাড়ি থেকে প্রত্যেক্ষদর্শী সাধারণ মানুষের মনে নানান প্রশ্ন জানে। অনেকেই ধারণা করেন হয়তো কোন পুলিশ সদস্যের বরযাত্রা!

সকাল ১১টায় সিলেট ক্যাম্প হতে রাহিদ মিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ৭ এপিবিএন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মজির উদ্দিন (ক্যাম্প কমান্ডার)। এসআই আমজাদ হোসেন’র সঞ্চালনায় বিদায় সংবধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ পরিদর্শক তসলিম উদ্দিন, এসআই ওহিদুর রহমান, এসআই ইয়াকুব আলী তালুকদার, এএসআই জাহিদ হাসান, এএসআই মৃদুল কান্তি দাস, নায়েক শরিফুল ইসলাম ও কনস্টেবল আল আমিনসহ অনেকেই। এসময় বিদায়ের সময় টুপি, পাঞ্জাবি-পাজামা জায়নামাজসহ রাহিদ মিয়াকে নানা উপহার প্রদান করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, এএসআই মো. রাহিদ মিয়া ৩৯ বছর সততার সঙ্গে চাকরি করেছেন। তিনি একজন ভালো ও নামাজি মানুষ। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অন্য পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেছিলেন। চাকরি জীবনে বিদায় বেলায় তাকে সরকারি গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজিয়ে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

ASI rahid miah2 copy

অশ্রুসিক্ত নয়নে মো. রাহিদ মিয়া বলেন, চাকরি জীবনে আমি কখনও দায়িত্বে অবহেলা করিনি। সহকর্মীদের সঙ্গে আমার ভালো সময় কেটেছে। কয়েক বছর দেখে আসছি বড় বড় পুলিশ কর্মকর্তাদের ঢাকঢোল পিটিয়ে বিদায় দেয়া হয়। কিন্তু একজন সাধারণ পুলিশ সদস্যকে এভাবে বিদায় জানানো হবে তা আমি কল্পনাও করিনি। আমি ধন্য, আমি কৃতজ্ঞ। পুলিশ পরিদর্শক মো. মজির উদ্দিন (ক্যাম্প কমান্ডার), পুলিশ পরিদর্শক মো. তসলিম উদ্দিন স্যার এবং সহকর্মীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এই বিদায় আগামীতে অন্য পুলিশ সদস্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি।

বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চরচন্ডী গ্রামের মৃত মনোহর আলীর পুত্র রাহিদ মিয়া ১৯৮২ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৩৯ বছর ২৮ শেষে গত ১ জুলাই তিনি চাকুরী জীবন শেষ করে অবসর গ্রহন করেন। তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার বড় ছেলে মামুন গ্রীস প্রবাসী, মেঝ ছেলে মো. শাহিন বাংলাদেশ পুলিশের ডিএমপিতে কর্মরত এবং ছোট ছেলে সাদেক হোসেন মুন্না উচ্চ মাধ্যমিকে ও একমাত্র মেয়ে মাছুমা আক্তার মনি ৮ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।

মো. রাহিদ মিয়ার সততা নিষ্টা ও সাধারণ জীবন-যাপনে শুধু তার পরিবারই নয়, গর্বিত গ্রামবাসীও। বিদায় বেলা ব্যতিক্রমি এই আয়োজনে আনন্দিত সকলেই।

রাহিদ মিয়ার প্রতিবেশী তালেব আহমদ গোলাপ ও এলাকার সমাজসেবক বাবুল মিয়া বলেন, রাহিদ মিয়া আমাদের এলাকার গর্ব। তিনি একজন আদর্শবান মানুষ।

আরো সংবাদ