বিশ্বনাথে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এন্তার অভিযোগ : ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডট কম :: ফেব্রুয়ারি - ৩ - ২০২০ | ১০: ৫২ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি 256 বার পঠিত

বিশ্বনাথনিউজ২৪ :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার তেলিকোনা এলাহাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু তাহির মো. হুসাইনের বিরুদ্ধে অব্যাহত দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। ২রা ফেব্রুয়ারী রবিবার এমন দাবি জানিয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা এটিএম ওলীউর রহমানের ভাতিজা ফারুক আহমদ।

এর আগে ২০১৯ সালের ১২মার্চ সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবর অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহির মোহাম্মদ হোসাইনের বিরুদ্ধে ভূয়া ভাউচারে অর্থ আত্মসাৎ এবং একই সাথে অধ্যক্ষ ও কাজী পদে দায়িত্ব পালন করে বিধি বহির্ভূতভাবে বেতন ভাতা ভোগসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দেন মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য আবদুস সবুর। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সরেজমিন তদন্ত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সমির কান্তি দেব। তদন্তে অভিযোগের অনেকটা সত্যতা তদন্ত কর্মকর্তা পেয়েছেন বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়।

ফারুক আহমদ তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, আবু তাহির মো. হুসাইন তেলিকোনা এলাহাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি খাজাঞ্চী ইউনিয়নের সরকারি নিকাহ ও তালাক রেজিস্টারের দায়িত্ব পালনে অধিক সময় অতিবাহিত করায় মাদ্রাসা পরিচালনায় সময় দিতে পারছেন না। ফলে মাদ্রাসাটি দিন দিন ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিজের অনুগত লোকদের দিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করে একক সিদ্ধান্তে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন, পরীক্ষা ফি এবং দেশ-বিদেশ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে এসব অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন।

ইতিমধ্যে মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত ফি’র না নিয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করার কারণে বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে ছাত্র-অভিভাবকদের সাথে মনোমালিন্য ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যা মাদ্রাসার দুর্নামের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। ২০১৮ সনের ১৮ এপ্রিল জনৈক সমুজ আলীকে দিয়ে মাদ্রাসার চালের টিন মেরামত করার তাকে ৩ হাজার ৫শ টাকা মজুরী দিয়ে বিল ধরা হয় ৩৫ হাজার ৭০ টাকা। ১৯৯৫ সন থেকে যে সকল ভূয়া বিল ভাউচার করা হয়েছে, তার মধ্যে ১৩ কেজি চুনামাটির ক্রয় করে ১৩ মণ চুনামাটির বিল করা হয়। ২৮ লিটার ডিসটেম্পারের মূল্য ধরা হয় ৩০ হাজার টাকা। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা ডিজির প্রতিনিধিকে চা আপ্যায়ন ও সম্মানি ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৬শ টাকা। ২০১৯ সনে দাখিল পরীক্ষার ফি ১ হাজার ৮শ ৫০টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার টাকা, আলিম পরীক্ষার ফি ১ হাজার ৯শ টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার ১শ টাকা নেয়া হয়। একইভাবে মাদ্রাসার একটি ফাইল কেবিনেট ৯ হাজার টাকায় ক্রয় করে ১৯ হাজার টাকা, কম্পিউটার প্রিন্টার ৮ হাজার ৫শ টাকায় ক্রয় করে ১৩ হাজার টাকা বিল করা হয়। সম্প্রতি ৪টি হোয়াইট বোর্ড ২ হাজার ৪শ টাকায় ক্রয় করে বিল ধরা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এলাকায় জনশ্রুতি আছে, মাদ্রাসার এমএলএসএস হিসেবে হাবিবুর রহমানকে নিয়োগে ১ লক্ষ ৯০হাজার টাকা ও অফিস সহকারি হিসেবে হাফিজুর রহমানকে নিয়োগে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘুষগ্রহণ করেন অধ্যক্ষ আবু তাহির মো. হুসাইন। ২০১৯ সনের ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার সাধারণ সভায় মাদ্রাসার জেনারেল ফান্ডে ৪০ লক্ষ টাকা আছে বলে অবহিত করেন তিনি। কিন্তু অনুসন্ধান করে জেনারেল ফান্ডে ন্যূনতম পরিমাণ টাকাও পাওয়া যায়নি।

মাদ্রাসার সাবেক অফিস সহকারি দিলহুর আলম দু’জন ছাত্রের রেজিস্ট্রেশনে ভুল করার অপরাধে ও মাদ্রাসার টাকা ব্যাংকে জমা না করে জাল ব্যাংক ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হলে এর কয়েকদিন পরে তাকে বরখাস্তের তারিখ থেকে আবার পূনর্বহাল করে স্ব-বেতনে তিন মাসের ছুটি প্রদান করা হয়। এ সময়ে অধ্যক্ষ আবু তাহির মো. হুসাইন তারিখবিহীন অব্যাহতিপত্র নিয়ে এবং দিলহুরের ব্যাংক একান্টের কয়েকটি চেকে স্বাক্ষর নিয়ে প্রায় দশমাস তার বেতন-ভাতা উত্তোলন করে নিজেই আত্মসাৎ করেন। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিন মাস স্ব-বেতনে ছুটি এবং বাকি সাতমাস স্বাক্ষর খাতায় জাল স্বাক্ষর করেন। একইভাবে তার মাদ্রাসার মাসিক বেতন বিলে দিলহুরের জাল স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে এবং ব্যাংক থেকেও অধ্যক্ষ নিজ সিল-স্বাক্ষর দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন।

বিধিবহির্ভূতভাবে মাদ্রাসার প্যাড ব্যবহার করে নিজের সিল-স্বাক্ষর দিয়ে একক সিদ্ধান্ত বলে মাদ্রাসার জন্যে বহুতল ভবন নির্মাণে দাতা-প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আহবান করে চাঁদা সংগ্রহের চিঠি দেশ-বিদেশে তার অনুসারীদের মাধ্যমে বিতরণ করেন। যে চিঠিতে মাদ্রাসার একাউন্ট নাম্বার ব্যবহার না করে নিজের ব্যক্তিগত একাউন্ট নাম্বার ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন অধ্যক্ষ আবু তাহির মো. হুসাইন। এই চাঁদা সংগ্রহের মূল পরিকল্পনাকারী মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রধান ছালেহ আহমদ।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইতিপূর্বে অধ্যক্ষ আবু তাহির মো. হুসাইনের এসব দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ কয়েকটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং তার অনুগতবাহিনী দিয়ে নানা হুমকী-ধামকীসহ তার বিরুদ্ধে উঠা দুর্নীতির অভিযোগকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।

আরো সংবাদ

‘পাঁচ পীরের মোকাম’র ‘রহস্যময়’ হিজল

বিশ্বনাথ উপজেলা আ’লীগের কার্যকরী কমিটির সভা

বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা

ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল চুরি

বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের উপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের

বিশ্বনাথে ইউকে’র জিপি সিস্টেমে চিকিৎসা সেবা চালু!

বিশ্বনাথে আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

বিশ্বনাথে ভূমি সেবা সপ্তাহে সেবা ক্যাম্প চালু

বিশ্বনাথে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী-২০২১ সম্পন্ন

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত, থানায় ছাত্রলীগ কর্মীর অভিযোগ

ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন বিশ্বনাথ উপ-কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

বিশ্বনাথের সকল ইউপি সদস্যের সাথে ইউএনও’র মতবিনিময়

সর্বশেষ সংবাদ

‘পাঁচ পীরের মোকাম’র ‘রহস্যময়’ হিজল

বিশ্বনাথ উপজেলা আ’লীগের কার্যকরী কমিটির সভা

বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা

ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল চুরি

বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের উপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের

বিশ্বনাথে ইউকে’র জিপি সিস্টেমে চিকিৎসা সেবা চালু!

বিশ্বনাথে আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

বিশ্বনাথে ভূমি সেবা সপ্তাহে সেবা ক্যাম্প চালু

বিশ্বনাথে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী-২০২১ সম্পন্ন

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত, থানায় ছাত্রলীগ কর্মীর অভিযোগ

ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন বিশ্বনাথ উপ-কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

বিশ্বনাথের সকল ইউপি সদস্যের সাথে ইউএনও’র মতবিনিময়