বিশ্বনাথের প্রথম অনলাইন পত্রিকা

গোলাপগঞ্জের মাঠে মাঠে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধ

ফসল ঘরে তুলতে কৃষক-কৃষাণীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি

আব্দুল আহাদ :: অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে গোলাপগঞ্জের ক্ষেতের মাঠ এখন সোনালী ধানে ভরপুর। যে দিকে চোখ যায় সে দিকেই পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ অনুভব করা যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গোলাপগঞ্জে এবার আমন ধানের ফলন বেশ ভালই হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ধান কাটা হচ্ছে, আবার বেশির ভাগ এলাকায় প্রস্তুতি চলছে। সোনালী ধানের দৃশ্য দেখে কৃষকরা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ফসল ঘরে তুলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে কৃষানীদের মুখেও দেখা যাচ্ছে হাসির ঝিলিক। ধানের সঙ্গে কৃষকের প্রাণের সম্পর্ক মিশে আছে। ধান গোলায় উঠার পরই কৃষক কৃষানীদের ব্যস্ততা কমবে, সেই সঙ্গে নবান্নের উৎসব হবে প্রতিটি জনপদে।

গোলাপগঞ্জে দিন দিন কৃষিজমি কমে আসছে। কৃষি কাজে লোকবলের অভাবে হাজার হাজার হেক্টর জমি প্রতিবছর অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকে। যেসব জমিতে দুফসল উৎপাদনের পাশাপাশি শাক সবজি ও উৎপাদন করা সম্ভব সে সব জমিতে লোকের অভাবে এক ফসল ও উৎপাদন করা দূরহ হয়ে উঠছে। গোলাপগঞ্জ কৃষি প্রধান এলাকা না হলেও প্রতিটি ইউনিয়নেই রয়েছে ব্যাপক কৃষি জমি। তুলনামূলক ভাবে উর্বর জমির সংখ্যা বেশি থাকলেও ফসল সে হারে উৎপাদন হয়না। গোলাপগঞ্জে চাষাবাদের বেশিরভাগ জমি রয়েছে ভাদেশ্বর ইউনিয়নে। এখানকার প্রায় ৬০ ভাগ জমিতেই আউশ, আমন, বোরো ধান চাষের উপযোগী। এছাড়া ফুলবাড়ী, লক্ষীপাশা, লক্ষণাবন্দ, বাঘা, গোলাপগঞ্জ সদর, ঢাকাদক্ষিন, আমুড়া, পৌর এলাকাসহ সব এলাকাতেই আমন ধানের চাষ হয়ে থাকে।

এবার বন্যা ও বর্ষনে তেমন ক্ষতি না হওয়ায় ও সময় মত বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার প্রতিটি এলাকাতেই আমন ধানের ভাল ফলন হয়েছে। কোথাও কোথাও অগ্রহায়ণ মাস আগমনের পূর্বেই এ জাতীয় ধান পাকলে কাটা শুরু হয়ে যায়। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেছেন মাত্র ৪/৫ দিন আগে। অর্থাৎ অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে। অগ্রহায়ণ মাস কৃষকদের জন্য নিয়ে আসে নতুন বার্তা, অগ্রহায়ণ মাসকে সামনে রেখে কৃষকরা দেখেন নতুন স্বপ্ন। নিজ হাতে লাগানো ফসল গোলায় তোলার পর তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবে।

এদিকে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদান করায় কৃষকরা উন্নত জাতের বীজ সহজে সংগ্রহ করে তা কাজে লাগাতে সক্ষম হন। বিশেষ করে কৃষি বিভাগের পরামর্শে উফসি- ৪৯, ৫১, ৫২, ৭০, ৭৫, ৮৭ জাতের ধান ব্যাপক হারে চাষ করা হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় জাতের ধান কালিজিরা, চিনিরগুড়া, বিরইনসহ বিভিন্ন জাতের ধান জমির প্রকার ভেদে চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সময়মত কৃষকদের মধ্যে সার ও বীজ বিতরণ করায় এবার ভাল ফসল উৎপন্ন হয়েছে বলে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সাড়ে চার লক্ষ লোক বাস করলেও তাদের মধ্যে মাত্র ৩০ থেকে ৩২ হাজার মানুষ কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে জানা যায়, এবার পুরো উপজেলায় ১২ হাজার ৭ শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায় কৃষকের অভাবে কৃষি জমি থাকার পরও পর্যাপ্ত পরিমাণে চাষাবাদ হচ্ছে না। অপর দিকে দিন দিন কৃষকের সংখ্যা কমছে। এ অবস্থায় গোলাপগঞ্জে আগামীতে চাষাবাদ ও ফসল উৎপাদন আরও কমতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার খায়রুল আমিন প্রতিবেদককে জানান কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের কল্যাণে সব ধরনের সহযোগীতা করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে কৃষি কাজে আগ্রহ সৃষ্টি লক্ষে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

এবার ভাল ফসল হওয়ায় তিনি কৃষকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন তাদের পরিশ্রমে আজ কৃষি বিভাগ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কৃষকদের তালিকা করে তাদের কাছ থেকে উপযুক্ত মূল্যে ধান ক্রয় করার জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।


Endofcontent

Endofcontent
You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!