বিশ্বনাথের প্রথম অনলাইন পত্রিকা

বিশ্বনাথে বিএনপির সভাপতি লাঞ্ছিত হওয়া নিয়ে তোলপাড় : চলছে আলোচনা-সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিশ্বনাথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরীর হাতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা নিয়ে চলছে তোলাপাড়। গত বুধবার রাতে বিশ্বনাথ থানার বিপরীতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আকদ্দুছ আলীর মার্কেটের ভিতরে জালাল উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে তাকে সুহেল চৌধুরী লাঞ্ছিত করেছেন এমন সংবাদ একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে শুরু হয় তোলপাড়। এনিয়ে দেশ-বিদেশে সোস্যাল মিডিয়ায় চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। তবে এবিষয়ে সুহেল আহমদ চৌধুরী ও জালাল উদ্দিনের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপিতে চলে আসছে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে এই দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। দলীয় নির্দেশনার বাহিরে ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সুহেল আহমদ চৌধুরী ও তার অনুসারীসহ কয়েকজন নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করে বিএনপি। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে অনেকের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও এখনো সুহেল আহমদ চৌধুরীর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। গত ৩১ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনার উপস্থিতিতে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার আট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় অভিযোগ ওঠে স্থানীয় এমপি গণফেরাম নেতা মোকাব্বির খানের সঙ্গে সুহেল চৌধুরীসহ তার বলয়ের নেতাদের সখ্যের বিষয়ে। যে কারণে সুহেল চৌধুরীসহ তার বলয়ের নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাই বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গৌছ খানকে আহ্বায়ক করে ২২ সদস্যের একটি খসড়া কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য জেলায় পাঠানো হয়। এতে করে ক্ষোভ বিরাজ করে সুহেল চৌধুরীসহ তার বলয়ের নেতাকর্মীদের মাঝে। এরই জের ধরে গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্বনাথ থানার বিপরীতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আকদ্দুছ আলীর মার্কেটের ভিতরে জালাল উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করেন সুহেল চৌধুরী। পরদিন একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ও অনলাইন পোর্টালে লাঞ্ছিতের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় নেতাকর্মীরা নানান মন্তব্য শুরু করেন। এনিয়ে দেশ-বিদেশে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উত্তেজনা। যে কোনো সময় দুই গ্রুপের নেতাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হতে পৃষক জরুরী সভাও করেছেন বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
সত্যতা জানতে ঘটনার পর থেকে সুহেল আহমদ চৌধুরী ও জালাল উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের দু’জনের কেউ ফোনকল রিসিভ করেননি।
এব্যাপারে সুহেল আহমদ চৌধুরীর বলয়ের একাধিক বিএনপির নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
তবে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও জালাল উদ্দিন বলয়ের নেতা বশির আহমদ বলেন, বিষয়টি আমরা লোকমূখে শুনেছি। তবে এব্যাপারে জালাল উদ্দিন আমাদেরকে কিছুই বলেননি। সুহেল চৌধুরীর পিতার সাথে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জালাল উদ্দিন। তিনি একজন প্রবীন মুরব্বি। যদি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা ন্যাক্কারজনক।


Endofcontent
You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!