AM-ACCOUNTANCY-SERVICES-BBB

এখনও জমজমাট বিশ্বনাথের বৈরাগীবাজারে শতবর্ষী হাঁস-মুরগির হাট

বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডট কম :: নভেম্বর - ৩ - ২০১৯ | ২: ৫৫ পূর্বাহ্ণ

Bishwanath 2

এমদাদুর রহমান মিলাদ :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নে বৈরাগী বাজারে শত বছরের পুরনো হাঁস-মুরগির হাট এখনও জমজমাট। সপ্তাহে দু’দিন বসে এই হাট। দূর দূরান্ত থেকে ব্যাপারী, খামারী ও গৃহস্থরা তাদের হাঁস-মুরগি এ বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে পালনকৃত হাঁস-মুরগির সংখ্যাই বেশী হয়। তবে বাজারে খামারের চেয়ে স্থানীয়ভাবে পালনকৃত হাঁস-মুরগির কদর বেশী। এ বাজারে দেশি হাঁস-মুরগি যত পাওয়া যায় উপজেলার আর কোন বাজারে ততো পাওয়া যায় না। হাঁস-মুরগির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকারের পাখিও পাওয়া যায়। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এ হাট।
জানা গেছে, বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী যে কয়েকটি বাজার রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বৈরাগী বাজার। দীর্ঘ কয়েক যুগ পূর্বে মাকুন্দা নদীর তীরবর্তী গড়ে উঠে এ বাজার। বাজারে প্রতি সপ্তাহের রবিবার ও বৃহস্পতিবার হাট বসে। তবে হাঁস-মুরগি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য নদীর তীরবর্তী ‘চরবাজার’ নামে একটি স্থান নির্ধারিত রয়েছে। হাটের দিন দুপুর থেকে বিভিন্ন লোকজন বাজারে বিক্রয় করার জন্য নিয়ে আসেন তাদের পালনকৃত হাঁস, মুরগি ও পাখি।
সরেজমিন বৈরাগী বাজারের হাঁস-মুরগির হাটে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ, শিশুরা তাদের পরিবারে পালনকৃত হাঁস-মুরগি ও পাখি এবং ব্যাপারী ও খামারী ফার্মে পালনকৃত হাঁস-মুরগি নিয়ে বাজারে এসেছেন। এর মধ্যে দেশী মুরগি, কর্ক, পাতি হাঁস, চীনা হাঁস, রাজ হাঁস ও কবুতর রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ হাঁস কিনতে এসেছেন এখানে। ক্রেতারা দামদর করে ক্রয় করছেন আর মনের আনন্দে তা বিক্রয় করছেন বিক্রেতারা। অন্যান্য বাজারের চেয়ে এই হাটে হাঁস-মুরগির দামও তুলনামূলক অনেক কম।
বাজারে আসা বিক্রেতা গৃহিনী রুপিয়া বেগম জানান, বাড়িতে তার পালনকৃত ৪টি মুরগি নিয়ে তিনি বাজারে এসেছেন। এরমধ্যে দুটি মুরগি ৪০০ টাকা দরে ও অন্য দুটি মুরগি ৬০০ টাকা দরে বিক্রয় করেছেন। ফারহানা বেগম নামের আরেকজন গৃহিণী অনুরূপভাবে জানান, তিনি তার বাড়িতে হাঁস পালন করেন এবং তার এই বাজারে এনে বিক্রয় করেন। ৬টি হাঁস নিয়ে এসেছেন। আর তা বিক্রয় করে পরিবারের খরচ করবেন।
ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আছমত আলী জানান, কয়েক যুগ ধরে প্রতি সপ্তাহে দুটি এই হাট বসে হাঁস-মুরগির। এলাকার লোকজন ও ব্যাপারীরা নিয়ে আসেন হাঁস-মুরগি। বাজারে স্থানীয়ভাবে পালনকৃত হাঁস-মুরগির চাহিদা বেশী। তাই হাঁস-মুরগি ক্রয় করতে দূর দূরান্ত থেকে লোকজন এ বাজারে আসেন।
আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, এই হাট এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী হাট। এখানে গৃহপালিত হাঁস-মুরগি পাওয়া যায়। ফার্মের চাইতে গৃহপালিক হাঁস-মুরগির স্বাদই আলাদা। আমি খাবারের জন্য মুরগি ক্রয় করতে প্রায়ই এ বাজারে আসি।
বৈরাগী বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মনোহর আলী মেম্বার বলেন, বৈরাগী বাজার একটি ঐতিহ্যবাহী। এই বাজারে কয়েক যুগ ধরে চলে আসছে হাঁস-মুরগির হাট। এলাকার মানুষ হাঁস-মুরগি ক্রয়-বিক্রয় করতে উৎসাহ নিয়ে হাটে আসেন। এতে আমাদেরও খুব ভাল লাগে।

আরো সংবাদ