মন্ত্রী-এমপিদের নিকট প্রত্যাশা : অবহেলিত সিলেটের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা জরুরী

বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডট কম :: ফেব্রুয়ারি - ১ - ২০১৯ | ১২: ০১ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি 428 বার পঠিত

এএইচএম ফিরোজ আলী :: সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ-এ চারটি জেলা নিয়ে গঠিত সিলেট বিভাগে জাতীয় সংসদের ১৯টি সংসদীয় আসন বাংলাদেশের রাজনীতিতে সর্বমহলের নিকট সব চেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ আসনটি হচ্ছে সিলেট-১। মানুষের বিশ্বাস এ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হয়, সেই দলই সরকার গঠন করে। এমন বিশ্বাস গত তিন দশকে প্রমাণিতও হয়েছে। গত বছর ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ১৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগ সমর্থীত মহাজোটের ১৭জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। অপর দুইজন আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মো: মুনসুর ধানের শীষ নিয়ে এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসি ঐক্য ফ্রন্টের সিলেট-২ আসনের প্রার্থী মোকাব্বির হোসেন সূর্য প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হলেও এখন পর্যন্ত তাঁরা শপথ গ্রহন করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের ১৭জন এমপির মধ্যে ৩ জনকে মন্ত্রী ও ২জনকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.একেএম মোমেন পূর্ণ্যভূমি সিলেট-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার আগেই বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। এ দেশের মাটি ও মানুষের সাথে তাঁর নাড়ীর সম্পর্ক রয়েছে। অল্প সময়েই তাঁর সাথে আমার পরিচয়। ুবাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প নিয়ে আমার একটি লেখা স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। এদিন তাঁর বাসায় গেলে পত্রিকার একটি কপি হাতে তুলে দেই। তিনি লেখাটি পড়ে মুগ্ধ হন। ড.মোমেন একজন সদালাপী ও সাদা মনের মানুষ বটে। সিলেট তথা বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁর মুখে অনেক পরিকল্পনার কথা শুনেছি। তিনি শিক্ষাজীবনে একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে চাকুরী করার পর ২৩ বৎসর আমেরিকাতে শিক্ষকতা করেন। তিনি সৌদি সরকারের ইকোনমিক উপদেষ্টা হিসেবে ৫বৎসর কাজ করেন, সেখানে রাষ্ট্রদুতও ছিলেন। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে জাতীসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেন। ড.মোমেনের দেশপ্রেমিক মনোভাবের কারনে জাতীসংঘে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশী সর্বোচ্চ সৈন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদশিক মুদ্রা ও সুনাম অর্জন করছে। শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি বিদেশে নারী ও শিশু প্রাচার রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। ড. মোমেন ইতিমধ্যে সিলেট নগরকে ডিজিটাল ঘোষনা এবং সিলেটের রেল উন্নয়নে রেলমন্ত্রীকে সর্বপ্রথম ডিও লেটার দিয়েছেন। সিলেট রেলস্টেশনের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। এখানে নেশাগ্রস্তদের অবাধ বিচরণ। কালোবাজারিদের হাতে সকল টিকিট চলে যায়। এক সপ্তাহ আগে গিয়েও যাত্রীরা টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন না। ফলে রেলের প্রতি মানুষের অনিহা বাড়ছে।
জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। এ আসনে বার-বার নির্বাচিত হতেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বন্ধবন্ধুর অন্যতম সহচর মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ। ইতিমধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী হয়ে সুনামগঞ্জে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, এবং ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ হয়ে নেত্রকোনা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের ঘোষনায় সুনামগঞ্জ সহ ভাটি অঞ্চলে আনন্দের সু-বাতাস বইছে। তিনি কর্মজীবনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসক, মহা পরিচালক ও সচিব হিসেবে প্রশাসনে সুনামের সহিত কাজ করেছেন। এখন জীবনের সকল অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন দেশের মানুষের কল্যাণে। সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে একমাত্র তিনিই একটি দীর্ঘ মেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন।
বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন মৌলভীবাজার-১ আসনের নির্বাচিত সাংসদ শাহাব উদ্দিন। ঐতিহাসিক মাধবকুন্ড জলপ্রপাত এলাকায় জন্মগ্রহণ কারী শাহাব উদ্দিন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে তিনবার এমপি, হুইপ এবং মন্ত্রী হয়েছেন। সিলেট-৪ আসন থেকে ইমরান আহমদ এ পর্যন্ত ৬ বার এমপি হয়েছেন। তিনি বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে তাঁর ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। স্ত্রী ড. নাসরিন আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ঢাবির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) পদে কর্মরত আছেন। ইমরান আহমদ একজন ন¤্র-ভদ্র প্রকৃতির লোক। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাওলানা আসাদ আলীর পুত্র সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবি মাহবুব আলী হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রির দায়িত্ব পেয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি তাঁর মন্ত্রনালয়ের কাজকর্মে শক্ত হাতে হাল ধরেছেন। নির্বাচনে সবচেয়ে ভাগ্যবান ব্যক্তি হচ্ছেন মোকাব্বির খাঁন, তিনি প্রার্থী হয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান তার তেমন কোন প্রচার প্রচারণা ছিল না। ভোটের জন্য কাউকে বলেননি। শুধু মাত্র তাঁর পক্ষে কিছু লোক প্রচারণা করেছিলেন সূর্য প্রতীকে ভোট দিলে বিএনপির একজন নিখোঁজ নেতা মুক্তি লাভ করবেন এমন প্রচারণায় নির্বাচনের পূর্বে দুই দিনের মধ্যে ভোটের চিত্র পাল্টে যায় এবং হুজুগে পরে নিরবে মানুষ সূর্য প্রতীকে ভোট দেয়। অবশ্য এখন অনেক ভোটার বিষয়টি বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়েছেন। সংক্ষিপ্ত এ লেখায় সিলেটের সকল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের পরিচয় ও গুনাবলী লেখা সম্ভব না হওয়ায় আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে নির্বাচিত সকল সাংসদদের অভিনন্দন জানাই। অভিনন্দন জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, তিনি যে সিলেটবাসীকে পাঁচজন মন্ত্রী দিয়ে মূল্যায়ন করেছেন।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে সিলেটের মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে ছিলেন। একাত্তুর সালে মুক্তিযুদ্ধে সিলেটি প্রবাসীদের সংগৃহীত অর্থে যুদ্ধের অস্ত্রও কেনা হয়েছিল। শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে যখন সিলেট আসেন তখন তাঁকে দেখার জন্য মানুষের ঢল নেমেছিল। জাতীয় নেতা প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদ, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী,এস এম কিবরিয়া, দেওয়ান ফরিদ গাজী, বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সহ অনেকেই আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই শেখ হাসিনার কাছে সিলেটের মানুষের চাওয়া-পাওয়া একটু বেশী। উন্নয়নে বাংলাদেশ অনেক দুর এগিয়ে গেলেও সিলেট সার্বিকভাবে এগোয়নি। এখানে চা শিল্প ব্যতীত অন্য কোন বড় ধরনের শিল্প কারখানা গড়ে উঠেনি।
সিলেটের উন্নয়নে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখা ও রাজনৈতিক স্থীতিশীলতা বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে সিলেটে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ভাল বলা যায়। গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌছে যাওয়ায় ভুতুড়ে অন্ধকার নেই এবং অপরাধ প্রবনতা অনেক কম। সারারাত শহর ও গ্রামের বাজারের হোটেল রেস্তোরা গুলো জাগ্রত থাকে। সিলেটে আমাদের অসংখ্য নদ-নদী, উপনদী, শাখা নদী রয়েছে। যেমন সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, কালনী, সারি, লৌবা, পিয়াইন বোলাই, রক্তি জাদুকাটা, খাজাঞ্চি, বাসিয়া, সুতাং, সহ অনেক ছোট বড় নদী রয়েছে। এসব নদী ও নদীর সাথে সংযোগকারী খাল-বিল, নালা ভারাট হয়ে গেছে। ফলে ভু-গর্ভস্থ পানির স্তর একেবারে নিচে নেমে গেছে। সিলেট বিভাগের অনেক অঞ্চলে গভীর- অগভীর নলকুপে পানি আসছে না। শীতকালে পানীর অভাবে কিংবা বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির কারনে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ফসল ও সম্পদহানী ঘটছে। কৃষি প্রধান সিলেট অঞ্চলে কৃষির উন্নয়ন না হলে শিল্প উন্নয়ন মোটেই সম্ভব নয়। সিলেটের ভূমি অত্যন্ত উর্বর। কৃষক চাইলে একই জমিতে তিন চারবার ফসল উৎপাদন করতে পারেন। কিন্তু শীতকালে পানীর অভাবে অনেক জমি অনাবাদি থেকে যায়। নদী খাল বিল জলাশয় পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় দেশি মাছ সহ জীব বৈচিত্র ধংস হচ্ছে। তাই সিলেটের জন্য নদী খননে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একান্ত আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে।
সিলেটের সবচেয়ে বড় উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, সিলেট বিভাগে যেসব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে, সেগুলো প্রকৃত কৃষকদের কৃষি ঋন দেয় না। চেড়াঁ লুঙ্গি, গেঞ্জি পরা গায়ে কাদাঁ মাঠি মাখা কৃষক দেখলেই ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋন দিতে অনিহা প্রকাশ করেন। কৃষির মেরুদন্ডয এসব কৃষকদের দেখলে তাদের পছন্দ হয় না। অথচ এসব কৃষকরা ১৬ ঘন্টা কাজ করে কৃষি নির্ভর এ দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেন। তাদের কষ্টে ফলানো কৃষি পণ্য বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে। অনেক কৃষক সরকারের বরাদ্ধকৃত ভর্তুকির সুবিধাও না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কৃষি ঋনের নামে অনেক ব্যাংকে হরিলুটও চলছে। এসব ঘটনা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কেউ জানেন কিনা আমি জানিনা। তবে প্রকৃত কৃষকদের কৃষি ঋন দিয়ে সহায়তা করলে সিলেটের কৃষি উন্নয়নে বিপ্লব ঘটবে। প্রবাসীদের কোটি কোটি অলস টাকা ব্যাংকে পড়ে রয়েছে। তাঁদের এই টাকা দিয়ে ছোট বড় শিল্প গড়ে তুলা যেতে পারে। প্রবাসীদে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হবে।

পূর্ণভূমি সিলেটের পাথর, টিলা, বন-জঙ্গল নিয়ে প্রাকৃতিক অপরূপ সোন্দর্য্য গড়ে উঠেছে। এসব প্রাকৃতিক সোন্দর্য্য উপভোগের জন্য দেশি বিদেশি পর্যটকরা সিলেটে এসে ভীড় জমান। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ে পাহাড় টিলা ও খনিজ সম্পদ পাথর উত্তোলন করে ভূমিখেকোরা সিলেটকে ধ্বংস করছে। বনদস্যুরা গাছ চুরি করে বন-জঙ্গল উজাড় করছে। পাথর খনী ও টিলা কাটতে গিয়ে অসংখ নিরিহ শ্রমিকের প্রানহানী ঘটেছে। এতে সিলেটের প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্য ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সরকারি বন-জঙ্গল, পাহাড়, নদ-নদী সহ সকল সরকারি ভুমি রক্ষায় সীমানা পিলারের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দখলবাজদের উচ্চেদ করে এসব সম্পত্তি রক্ষাকরা একান্ত প্রয়োজন। সিলেটের ৪টি জেলার সকল উপজেলার সাথে সংযোগকারি রাস্তাগুলো সংস্কারের অভাবে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাঁই পাকা রাস্তাগুলো সংস্কার, কাচাঁ রাস্তাগুলো পাকাকরন সহ সিলেট বিভাগে উন্নত সড়ক যোগাযোগের একটি শক্তিশালি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরী। কারন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে সিলেটের কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করে দেশের চাহিদা যেমন মেটানো সম্ভব, তেমনি কৃষকের ভাগ্যেরও পরিবর্তন ঘটবে। কৃষকের উন্নতি মানেই দেশের উন্নতি।
সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকে, সরকারি চিকিৎসকগণের প্রাইভেট প্যাকটিসের কারনে, সরকারি হাসপাতাল গুলোর সেবার মান একেবারে নি¤œগামী। এতে গরীব মানুষের আস্থা সরকারি হাসপাতাল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বলতে গেলে টাকা ছাড়া কোথায়ও চিকিৎসা হয় না। জটিল রোগে আক্রান্ত গরীব রোগীরা চিকিৎসা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজেকে নিয়তির উপর ভরসা করে মৃত্যু মুখে পতিত হন। সিলেট ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে কৌশলে রোগীদের ক্লিনিকে নিয়ে নিঃশেষ করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক বাংলাদেশি জেলে কিংবা আতœগোপনে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ইরাক কুয়েত প্রত্যাগতদের বা তাদের সন্তানদের পূণরায় সেখানে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সিলেটে শিক্ষিত বেকার যুবকদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, উচ্চ পর্যায়ে সিলেটি চাকুরিজীবিদের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে তরুনরা দল বেঁধে অবৈধ পথে বিদেশে যাত্রা করছে, এতে অনেক প্রাণহানীও ঘটছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেক পরিবার বাড়ি জমি বিক্রি করে পথে বসেছে। শিল্প কারখানা গড়ে তুলে নতুন কর্মসংস্থান সুষ্টি করতে হবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ মাদ্রাসাগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা বৃদ্ধিতে অধিক শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি বা গভনিং বডির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রনয়ন পূর্বক বিধি সংশোধন করা জরুরী। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, অনেক মাদ্রসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না। জাতীয় সঙ্গীত ও গাওয়া হয় না। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রনালয়ের কঠোর নির্দেশনা জরুরী। সিলেটের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে, পর্যটন স্পটের সাথে সংযোগকারি রাস্তাগুলোর উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা, স্বল্পমূল্যে থাকা-খাওয়া সহ পর্যটন শিল্পকে আকর্ষনীয় করে গড়ে তুলতে হবে। হিমালয়ের পাদদেশে সুনামগঞ্জের বিখ্যাত টাংঙ্গুয়ার হাওরে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই পায়ে হেটে কিংবা মটর সাইকেলে নারী পুরুষ শিশু পর্যটকরা অনেক কষ্ট করে সেখানে পৌছতে হয়। তাই জরুরী ভিত্তিতে একটি রাস্তা নির্মান করে পর্যটকদের সকল প্রকার সুযোগ সুবিদা বৃদ্ধি করতে হবে। সারা দেশের মতো সিলেটবাসী মোটামোটি বিদ্যুৎ যন্ত্রনা থেকে মুক্ত হলেও অদৃশ্যমান যন্ত্রনায় অতিষ্ট। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানির মতো মিটার লাগানো, খোলা, বিদ্যুতের খুটি স্থাপন, ভুয়া বিদ্যুৎ বিল দিয়ে হয়রানি করছে। কোন কোন এলাকায় বাঁশের খুটি, গাছের ডালে কিংবা নিচু খুটি দিয়ে লাইন টেনে নিচ্ছে। এতে ঝড় তুপানের সময় অনেক লোক বিদ্যুৎ তাড়িত হয়ে বিভিন্ন সময় লোকও মারা যাচ্ছে। রাস্তার পাশে বিদ্যুতের লাইন থাকায় গাছ ও গাছের ডালপালা কেটে ক্ষতি করা হচ্ছে। রশিদপুর-বিশনাথ রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় ঠিকাদার রাস্তা প্রশস্থ না করে যেনতেন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাটির নিচ দিয়ে ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়ে থাকে। এতে কোন ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে না। এ ভাবে পরিকল্পনা করে মাটির নীচ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানা হলে সর্বাবস্থায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। পরিশেষে মন্ত্রী, এমপিদের সম্বনয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুনিদির্ষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে সিলেটের উন্নয়নে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করবেন আমাদের জনপ্রতিনিধিরা।
লেখক : কলামিষ্ট ও সমাজ বিশ্লেষক

আরো সংবাদ

‘পাঁচ পীরের মোকাম’র ‘রহস্যময়’ হিজল

বিশ্বনাথ উপজেলা আ’লীগের কার্যকরী কমিটির সভা

বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা

ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল চুরি

বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের উপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের

বিশ্বনাথে ইউকে’র জিপি সিস্টেমে চিকিৎসা সেবা চালু!

বিশ্বনাথে আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

বিশ্বনাথে ভূমি সেবা সপ্তাহে সেবা ক্যাম্প চালু

বিশ্বনাথে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী-২০২১ সম্পন্ন

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত, থানায় ছাত্রলীগ কর্মীর অভিযোগ

ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন বিশ্বনাথ উপ-কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

বিশ্বনাথের সকল ইউপি সদস্যের সাথে ইউএনও’র মতবিনিময়

সর্বশেষ সংবাদ

‘পাঁচ পীরের মোকাম’র ‘রহস্যময়’ হিজল

বিশ্বনাথ উপজেলা আ’লীগের কার্যকরী কমিটির সভা

বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা

ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল চুরি

বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের উপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের

বিশ্বনাথে ইউকে’র জিপি সিস্টেমে চিকিৎসা সেবা চালু!

বিশ্বনাথে আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

বিশ্বনাথে ভূমি সেবা সপ্তাহে সেবা ক্যাম্প চালু

বিশ্বনাথে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী-২০২১ সম্পন্ন

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত, থানায় ছাত্রলীগ কর্মীর অভিযোগ

ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন বিশ্বনাথ উপ-কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

বিশ্বনাথের সকল ইউপি সদস্যের সাথে ইউএনও’র মতবিনিময়