দক্ষিণ সুরমায় ৬ মাস ধরে পানিবন্দি ৩ গ্রামের মানুষ

বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডট কম :: আগস্ট - ২২ - ২০১৭ | ৫: ১১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি 1141 বার পঠিত

enat-alipurআশরাফুল ইসলাম ইমরান, দক্ষিণ সুরমা থেকে :: চৈত্র থেকে ভাদ্র এই ছয় মাস ধরে ৩টি গ্রামের ৬৩০টি পরিবার রয়েছে পানিবন্দি। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের ইনাত আলীপুর, মির্জানগর ও মানিকপুর। এই ৩টি গ্রাম দূর থেকে দেখলে মনে হয় একটি দ্বীপের মতো। হাওর বেষ্টিত ৩টি গ্রামের চতুর্দিকে থৈ থৈ করছে পানি। যোগাযোগের মাধ্যম বলতে হেমন্তে পা, বর্ষায় নাও। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বছরের অর্ধেক সময় তাদেরকে থাকতে হয় পানিবন্ধি অবস্থায়। বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে গত প্রায় ছয় মাস ধরে গ্রামের শতভাগ মানুষ রয়েছেন পানিবন্দি। শিক্ষা, চিকিৎসা সহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এই গ্রামগুলোর ৫ সহস্রাধিক বাসিন্দা।
টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল, কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ কুশিয়ারা ডাইক ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে গত ১ মাস আগে বন্যা প্লাবিত হয়ে পড়েছিল দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার, দাউদপুর, জালালপুর সহ উপজেলার আরো কয়েকটি ইউনিয়নের অনেকগুলো গ্রাম। এর মধ্যে শতভাগ বন্যায় প্লাবিত হয় দাউদপুর ইউনিয়নের ইনাত আলীপুর, মির্জানগর ও মানিকপুর। পরবর্তীতে বন্যার পানি কিছুটা কমে আসলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বন্যার পানি সরে আসলেও পানি থেকে যায় এই ৩টি গ্রামে। গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিক বর্ষণ ও কুশিয়ারার গোলায় আবারো প্লাবিত হয়ে পড়েছে এই তিনটি গ্রাম। গ্রামগুলোতে শতভাগ পানিবন্দি ৬৩০টি পরিবারের মধ্যে দরিদ্র ও ফসলহারা কৃষকদের মধ্যে মাত্র ১৪১টি পরিবার রয়েছে ভিজিএফ চাউলের আওতাভুক্ত বলে জানান স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ইরা মিয়া। আলাপকালে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ এম খলিল বলেন, বন্যা কবলিত এই তিনটি গ্রামে সরকারের সহায়তা সন্তোষজনক। তবে শতভাগ বন্যায় কবলিত এই গ্রামগুলোর কথা বিবেচনা করে আরো বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহেদ মোস্তফা জানান, চাহিদার ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে। বন্যা কবলিত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বরাদ্দ বৃদ্ধির আবেদন করলে তা বিবেচনা করা হবে। এদিকে ৬ মাস ধরে দীর্ঘমেয়াদী বন্যা থাকায় কৃষি নির্ভরশীল ৩টি গ্রামের কৃষকদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বোরো থেকে শুরু করে আউশ, আমন পরপর তিনটি ফসল তলিয়ে গেছে পানির নিচে। গ্রামগুলোর ধামড়িয়ার হাওর, কাইসনা, মালিকান্দি, লাউড়াকান্দি, সেবারাম, মজুমদারী ও ছিনমানপুর সহ আরো কযেকটি হাওর পানি নিচে থাকায় ফসলগুলো তলিয়ে গেছে।
সিলেট শহরের সন্নিকটে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার অবস্থান। ভিশন নির্ধারণ করে দেশ যখন ডিজিটার দুনিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে চলছে ঠিক সেই সময়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে প্রায় ৬ মাস ধরে পানিবন্দি থাকতে হচ্ছে দাউদপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ইনাত আলীপুর, মির্জানগর ও মানিকপুর গ্রাম। তিনটি গ্রামের নামের অংশবিশেষ নিয়ে ওয়ার্ডটি ইমিমা নামে পরিচিত। পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ বসবাস করলেও ইমিমা যুগ যুগ ধরে উন্নয়নবঞ্চিত। এলাকার যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এখনও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। চারদিকে হাওরবেষ্টিত এ গ্রামগুলো বর্ষা মৌসুমে এক-একটি দ্বীপে পরিণত হয়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় পানির উপরে ভাসছে গ্রামগুলো। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। নামে মাত্র তিন দিক দিয়ে রাস্তা থাকলেও কোনোটি চলাচলের উপযোগী নয়। বিভাগীয় শহর সিলেটের অনতিদূরের গ্রামগুলোর যাতায়াতের মাধ্যম এখনও বর্ষায় নাও আর হেমন্তে পাও। হাওরবেষ্টিত কাদামাটি পেরিয়ে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ রোড কিংবা মোগলাবাজার-ঢাকাদক্ষিণ (ডিএম) রোড পর্যন্ত পৌঁছতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় এসব গ্রামের মাধ্যমিক ও কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এলাকায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষক-শিক্ষিকারা আসতে চান না। এ অঞ্চলের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গত দেড় বছর ধরে কাজ করছেন মানিকপুর-মির্জানগরের বিভিন্ন দেশে থাকা লোকজন। এই দুই গ্রামের ১৩৫ জন প্রবাসী মিলে গড়ে তুলেছেন মিমা প্রবাসী ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ডসঅ্যাপ গ্রুপ। এলাকায় বিদ্যমান সমস্যা দূর করতে তারা সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ধারাবাহিকতায় রাখালগঞ্জ-মানিকপুর সড়কে দু’টি কালভার্ট সহ প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় করে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়েছে। এলাকাটি অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় নানা কারণে সড়কটি নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হয়। সড়কটির উন্নয়নে ২০১৭-১৮ সালের উন্নয়ন বাজেটে আরও ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান মিমা প্রবাসী ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের সহ সভাপতি হাজী নূর উদ্দিন। এই তিনটি গ্রামের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে নিমাই নদীর উপর প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে ১টি ব্রীজ নির্মাণের বরাদ্দ দিয়েছেন সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। ব্রীজটি নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে অনাকাঙ্খিত বন্যা আসায় নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানান দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইমাদ উদ্দিন নাসিরী।

আরো সংবাদ

চাম্পারকান্দি মাদ্রাসায় প্রবাসী’র ৫০বস্তা সিমেন্ট প্রদান

বালাগঞ্জে দেওয়ান আব্দুর রহিম হাইস্কুলের ৭৭’ ব্যাচের পুনর্মিলন অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথের পশ্চিম শ্বাসরাম গ্রামে দুই ওলির বার্ষিক উরুস ২৫ জানুয়ারী

বিশ্বনাথের লামাকাজীতে নৌকা প্রতিকের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন

বিশ্বনাথে প্রয়াত হাজী তেরা মিয়া স্মরণে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নির্বাচিত হলে সম্মানী ভাতা এতিমদের মাঝে বন্টনের ঘোষণা দিলেন আরশ আলী গণি

খাজাঞ্চীতে নৌকা প্রতিকের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন

লামাকাজী-খাজাঞ্চী ইউপি নির্বাচনে ১২৭ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ

বিশ্বনাথে জাতীয় পার্টির শীতবস্ত্র বিতরণ

বিশ্বনাথে দশঘর ইউনিয়ন ক্রিকেট এসোসিয়েশনের কমিটি গঠন

বিশ্বনাথের ৮ ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি গঠন

বিশ্বনাথে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন

সর্বশেষ সংবাদ

চাম্পারকান্দি মাদ্রাসায় প্রবাসী’র ৫০বস্তা সিমেন্ট প্রদান

বালাগঞ্জে দেওয়ান আব্দুর রহিম হাইস্কুলের ৭৭’ ব্যাচের পুনর্মিলন অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথের পশ্চিম শ্বাসরাম গ্রামে দুই ওলির বার্ষিক উরুস ২৫ জানুয়ারী

বিশ্বনাথের লামাকাজীতে নৌকা প্রতিকের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন

বিশ্বনাথে প্রয়াত হাজী তেরা মিয়া স্মরণে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নির্বাচিত হলে সম্মানী ভাতা এতিমদের মাঝে বন্টনের ঘোষণা দিলেন আরশ আলী গণি

খাজাঞ্চীতে নৌকা প্রতিকের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন

লামাকাজী-খাজাঞ্চী ইউপি নির্বাচনে ১২৭ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ

বিশ্বনাথে জাতীয় পার্টির শীতবস্ত্র বিতরণ

বিশ্বনাথে দশঘর ইউনিয়ন ক্রিকেট এসোসিয়েশনের কমিটি গঠন

বিশ্বনাথের ৮ ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি গঠন

বিশ্বনাথে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন