ওসমানীনগরে বর্গাচাষি হিরা মিয়াকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার

বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডট কম :: জুলাই - ২১ - ২০১৭ | ৭: ০৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি 2977 বার পঠিত

000000000ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ প্রতিনিধি :: ওসমানীনগরের সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামে দির্ঘদিন ধরে তাল্লুকের ভুমি দখল করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারে রুপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ভুমি বিরোধ আরো চাঙ্গা হয়ে ওঠলে বিবদমান দুটি পক্ষের মধ্যে গোষ্টিগত বিরোধে রুপ নেয়। ফলে-তাদের মধ্যে কয়েক দফা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত ১০ জুন ভুমি বিরোধের জের ধরে গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হলে বেশ কয়েকজন আহতহন। এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলাও দায়ের করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত সৈয়দ হিরা মিয়া নামে একটি ব্যক্তি ঘটনার ২৪ দিন পর অর্থাৎ ৪জুলাই সিলেট শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বর্গাচাষি হিরার মিয়া চার মেয়ে এক ছেলের জনক। ইতিমধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং তাসলিমা (২০) ও আফসানা (১৮) নামের আরো দুই মেয়ে এখন বিয়ের উপযুক্ত। পিতাকে হারিয়ে হিরা মিয়ার একমাত্র পুত্র মুহিবুর রহমান মানষিক ভাবে ভেঙে পড়েছে। হিরার স্ত্রী আফিয়া বেগম বলেন, স্বামী খুন হওয়ার পর বিয়ের উপযুক্ত আমার মেয়েদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, কিভাবে মেয়েদের বিয়ে দেব এবং কিভাবে খেয়ে পরে বাঁছব এনিয়ে আমি খুবই চিন্তিত।
সরজমিনে তথ্যানুসন্ধান ও গ্রামবাসী সুত্রে জানা গেছে, সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামে পাঁচটি তাল্লুক রয়েছে। তাল্লুকগুলো হলো- সৈয়দ লাল তাল্লুক, সৈয়দ ফাজিল তাল্লুক, সৈয়দ তাজ রাজা তাল্লুক, সৈয়দ নাসির তাল্লুক, সৈয়দ নছর তাল্লুক। পুর্বকাল কাল থেকেই এই তাল্লুকের উত্তরাধিকাররা তাল্লুকের ভুমি ভোগ দখল করে আসছেন। বর্তমানে এই তাল্লকগুলোর রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে আছেন সৈয়দ আজিজুর রহমান, সৈয়দ মতিউর রহমান, সৈয়দ নাজমুল ইসলামসহ গ্রামের ২০টি পরিবার। সংঘর্ষে নিহত সৈয়দ হিরা মিয়াও একটি তাল্লুকের উত্তরাধিকার ছিলেন। অপর পক্ষে উল্লেখিত তাল্লুকের ভুমি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ ওঠেছে একই গ্রামের আশিক উল্লা, তজমুল আলী, হারুন আলী, মাসুক আলী ও সুরজান আলীসহ গ্রামের ১১০ পরিবারের বিরুদ্ধে। গ্রামের তজমুল আলী ও আশিক উল্লাসহ তাদের পক্ষের লোকজন উল্লেখিত তাল্লুকের ভুমি জোর পূর্বক দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। ভুমি দখলে ব্যর্থ হয়ে তারা শেষ পর্যন্ত বন বিভাগ কর্মকর্তার দ্বারস্থ হন। অভিযোগ ওঠেছে- বন বিভাগের কর্মকর্তার পরামর্শে আজিজুর রহমানের ব্যক্তি মালিকানাধীন ভুমি সামাজিক বনায়নের নামে দখলের পাঁয়তারা চালায় একই গ্রামের তজমুল আলী ও আশিক উল্লাসহ তাদের লোকজন। তজমুল আলী স্বাক্ষরিত কথিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান পাঠান তজমুল আলী ও আশিক উল্লার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভুমির প্রকৃত মালিক আজিজুর রহমান ও রাহাত আলীদের অভিযুক্ত করে নানান কল্প কাহিনী সাজিয়ে ওসমানীনগর থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট কয়েক দফায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে সত্যতা প্রমানিত না হওয়ায় ওই বন কর্তকর্তা আজিজুর রহমানসহ রাহাত আলী ও সাজন আলীকে অভিযুক্ত করে চলতি বছরের শুরুর দিকে সিলেটের আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় বন কর্তকর্তা তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমানাদি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারকি আদালত অভিযুক্তদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মামলাটি নথিভুক্ত করার আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামী পক্ষের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান। দির্ঘদিন থেকে চলমান থাকা গ্রামের দুই পক্ষের বিরোধ নিস্পত্তিকরণে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তি করা হয়। কিন্তু উপজেলা বন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ইন্ধনে তজমুল আলীসহ তার পক্ষের লোকজন মিমাংসিত বিষয়টি প্রত্যাখান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তা অতি উৎসাহী হয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভুমি সামাজিক বনায়নের জন্য চুক্তি ভিত্তিক লিজ দেয়ার ষড়যন্ত্র করায় গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আহত হয়ে সৈয়দ হিরা মিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অপর দিকে-চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারী গ্রামের আজিজুর রহমান বাদি হয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান পাঠানসহ একই গ্রামের আশিক উল্লা ও তজমুল আলীকে অভিযুক্ত করে সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতে দায়েরকৃত মামলাটির পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারী সিলেট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ভি-১১৩০ স্মারকে তদন্তের দায়িত্ব পান অতিরিক্তি পুলিশ সুপার ওসমানীনগর সার্কেল কবির আহমদ। অতিরিক্তি পুলিশ সুপার কবির আহমদ স্বাক্ষরিত ৬৫ ফর্দ (পৃষ্টা) তদন্ত প্রতিবেদন চলতি বছরের ১৯ মার্চ সিলেট জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে প্রেরন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- উল্লেখিত মামলায় অভিযুক্ত সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামের তজমুল আলী ও আশিক উল্লার যোগসাজেসে উপজেলা বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান পাঠান মামলার বাদি আজিজুর রহমানের কাছে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে ১০ হাজার টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে দাবিকৃত আরো ৯০ হাজার টাকার জন্য আজিজুরকে জেল জুলুমের ভয় দেখানোর অপরাধ প্রাথমিক ভাবে সত্য বলে প্রমানিত হয়েছে। এতে উপজেলা বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান পাঠান, তজমুল আলী ও আশিক উল্লার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কতৃক আদালতে এই প্রতিবেদনটি প্রেরনের পর বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান পাঠান ও তার সহযোগীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরই জের ধরে সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামের তজমুল আলী ও আশিক উল্লাকে ইন্ধন দিয়ে গ্রামের আজিজুর রহমানের লোকজনের ওপর হামলা করতে বাধ্য করালে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হিরা মিয়া নিহত হন বলে হিরা মিয়ার পক্ষের লোকজনের অভিযোগ। এবিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান পাঠান চাঁদা দাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে কেউ এ ধরনের অভিযোগ করে থাকলে তাতে আমার কিছু করার নাই। এ বিষয়ে সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামের তজমুল আলী কোনো মন্তব্য না করে বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান পাঠানের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলে মোবাইলের লাইন কেটে দেন। সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামের সৈয়দ নাজমুল ইসলাম, রফিক মিয়াসহ অনেকেই জানান, বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান পাঠান আর্থিক ফায়দার লোভে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভুমি সামজিক বনায়নের নামে চুক্তি ভিত্তিক লিজ দেয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে গ্রামে অশান্তির সৃষ্টি করেছেন। পাশ্ববর্তী নিজ মান্দারুকা গ্রামের বাসিন্ধা জিলু মিয়া, পরাগলপুর গ্রামের অসি মিয়া ও উচ্চ গ্রামের সার্জন আলী বলেন, আজিজুর রহমানদের তাল্লুকী স্বত্তের ভুমি দখল নিতে একটি পক্ষ মরিয়া হয়ে ওঠে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বনকর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান পাঠান আর্থিক ফায়দা হাসিলে ব্যস্থ হয়ে ওঠেন। এতে তিনি একটি পক্ষের হয়ে তদন্তের নামে অপর পক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে দফায়-দফায় প্রতিবেদন দাখিল করায় শেষ পর্যন্ত গ্রামে খুন-খারাবির ঘটনা ঘটেছে। এবিষয়ে উমরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামে ভুমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দির্ঘদিন ধরে মামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। আমরা বিষয়টি আপোসে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেছি। এই গ্রামের দুই পক্ষের ভুমি বিরোধকে জটিল করার নেপত্যে রয়েছেন উপজেলা বন কর্মকর্তা। ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বলেন, পুর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। এই সংঘর্ষে আহত হয়ে একজন পরবর্তীতে মারা যান।

আরো সংবাদ

খাজাঞ্চীর উন্নয়ন করার জন্যই নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি -আরশ আলী

খাজাঞ্চীতে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে -শফিক চৌধুরী

বিশ্বনাথে ‘প্রতারণা ও মানহানি’র অভিযোগে আদালতে মামলা

বিশ্বনাথের ইউএনও করোনায় আক্রান্ত

খাজাঞ্চীতে নৌকার প্রার্থীকে জাতীয় পার্টির সমর্থন

বিশ্বনাথে জামেয়া মোহাম্মদিয়ার ৩২তম বার্ষিক ইসলামী সম্মেলন সম্পন্ন

বিশ্বনাথে এবার উন্নয়ন ইস্যুতেই ভোট দিবেন ভোটাররা

বিশ্বনাথে ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্রের ব্যানারে সরব বিএনপি

বিশ্বনাথে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ফুটবল টুর্ণামেন্ট সম্পন্ন

বিশ্বনাথে নির্বাচনী আচরণবিধি অবহতিকরণ ও মতবিনিময় সভা

বিশ্বনাথ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথে দৌলতপুর ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসার বার্ষিক জলসা ও পাগড়ী বিতরণ

সর্বশেষ সংবাদ

খাজাঞ্চীর উন্নয়ন করার জন্যই নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি -আরশ আলী

খাজাঞ্চীতে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে -শফিক চৌধুরী

বিশ্বনাথে ‘প্রতারণা ও মানহানি’র অভিযোগে আদালতে মামলা

বিশ্বনাথের ইউএনও করোনায় আক্রান্ত

খাজাঞ্চীতে নৌকার প্রার্থীকে জাতীয় পার্টির সমর্থন

বিশ্বনাথে জামেয়া মোহাম্মদিয়ার ৩২তম বার্ষিক ইসলামী সম্মেলন সম্পন্ন

বিশ্বনাথে এবার উন্নয়ন ইস্যুতেই ভোট দিবেন ভোটাররা

বিশ্বনাথে ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্রের ব্যানারে সরব বিএনপি

বিশ্বনাথে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ফুটবল টুর্ণামেন্ট সম্পন্ন

বিশ্বনাথে নির্বাচনী আচরণবিধি অবহতিকরণ ও মতবিনিময় সভা

বিশ্বনাথ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথে দৌলতপুর ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসার বার্ষিক জলসা ও পাগড়ী বিতরণ