ইরাক আক্রমন ভূল ছিল: ক্ষমা চাইলেন টনি ব্লেয়ার

বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডট কম :: জুলাই - ৩১ - ২০১৬ | ১১: ০৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি 1056 বার পঠিত

FB_IMG_1460307876177-2 (1)রায়হান আহমেদ তপাদার :: ভুল সবই ভূল গানের কলিটি সত্যয়িত করলেন সাবেক প্রধান মন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।কি করবেন এছাড়া যে কোনো উপায় ছিল না তাঁর।গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরাক যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।ইরাক যুদ্ধের কারণেই আইএস’র উত্থান হয়েছে এমন দাবিতে সত্যতা থাকার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।সিএনএন ইউরোপ-এ রোববার প্রচারিতব্য একটি অনুষ্ঠানে এসে এসব কথা বলেন টনি ব্লেয়ার।তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ইরাকে হামলা চালানোর পেছনে যে শুধু মিথ্যা তথ্যের ওপর ভরসা করা হয়েছিলো তা নয়।অভিযান এবং ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের ফল কী হতে পারে তা আগে থেকে বিচার-বিবেচনা না করেই অভিযান চালানো হয়েছিলো।ইরাক সম্পর্কে আমরা যেসব গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিলাম সেগুলো ভুল ছিলো।এজন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি,সিএনএন-কে বলেন ব্লেয়ার,আমি এজন্যও ক্ষমাপ্রার্থী কারণ আমাদের পরিকল্পনায় ভুল ছিলো।আমরা ভেবে দেখিনি সাদ্দাম শাসনামলের পতন হলে কী ঘটতে পারে।সাক্ষাৎকারে জঙ্গি সংগঠন আইএস’র উত্থান সম্পর্কে ব্লেয়ার বলেন,আপনি কখনোই বলতে পারবেন না আমরা যারা ২০০৩ সালে সাদ্দামকে সরিয়েছি তারা ২০১৫ তে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য কোনোভাবেই দায়ী নই।যারা দাবি করে ইরাক যুদ্ধ আইএস’র জন্মের জন্য দায়ী,তারা কিছুটা হলেও সঠিক।
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ভুল গোয়েন্দা তথ্য এবংভ্রান্ত পরিকল্পনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।একই সঙ্গে তিনি বলেছেন,ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর উত্থানের পেছনে ইরাক যুদ্ধ বলে যে দাবি উঠেছে, সেটা আংশিক সত্য।ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সিএনএন টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।এর আগে গত ১২ বছর অসংখ্যবার ইরাক যুদ্ধ সঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।সাক্ষাতকারে নিজের দায় স্বীকার করে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পরবর্তী সময়ে যথাযথ পরিকল্পনা নিতে না পারার ব্যর্থতার কারণে অনুশোচনা করেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।টনি ব্লেয়ার বলেন,আমি এখন এটা বলতে পারবো যে আমরা যে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিলাম সেটা ভুল ছিল।কারণ যদিও সে তার জনগণ ও অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।তার কাছে যে পরিমাণ রাসায়নিক অস্ত্র ছিল বলে আমরা ধারণা করেছিলাম আসলে সেরকম ছিল না।সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইরাক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জন্য মাফ চেয়েছেন।তিনি আমেরিকার একটি টেলিভশনকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন সাদ্দাম পরবর্তী যথোপযুক্ত পরিকল্পনা প্রনয়নে ব্যর্থতা এবং গোয়েন্দাদের দেয়া ভুল এবং অসত্য তথ্যের কারনে সাদ্দামের প্রতি সুবিচার করা হয়নি।তিনি সিএনএনকে বলেন,ইরাক ও সাদ্দামের ব্যাপারে যে অসত্য তথ্য এবং ভুল তথ্য আমরা পেয়েছিলাম সেজন্য ক্ষমাপ্রার্খী।এছাড়া তিনি এটাও স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তারা সাদ্দামকে সরিয়ে দিলে কি হবে পরিস্থিতি সেটা বুঝতেও তাদের ভুল হয়েছিল।
ইরাক যুদ্ধ তথাকথিত ইসলামিক স্টেট উদ্বাভবনের মূল কারন কিনা তা,স্বাক্ষাতকার গ্রহনকারী ফরীদ জাকারিয়া মিঃব্লেয়ারের কাছে জানতে চাইলে,তিনি বলেন অবশ্য আপনি তা বলতে পারেন।কেননা এর মাঝে অবশ্যই সত্যতা রয়েছে।প্রশ্ন হচ্ছে দুঃখ প্রকাশ করা বা মাফ চেয়ে নেয়া সহজ ব্যাপার। কিন্তু টনি ব্লেয়ার এবংজংলী ‍বুশের কারনে যে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় সমগ্র বিশ্বেই আজ ইসলামী জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছে তার জন্য বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকেই মুল্য দিতে হচ্ছে।তথাকথিত মানবতাবাদীরা মিথ্যা অজুহাত তৈরি করে সাদ্দামকে হত্যা করেছে। হত্যা করেছে তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে। আজকে হয়তো টনি ব্রেয়ার বা বুশ ক্ষমা চেয়ে পাড় পেয়ে যাতে পারে কিন্তু সাদ্দামকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি? অথবা সমগ্র বিশ্বে যে জঙ্গিবাদকে ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিষিয়ে তোলা হয়েছে তার জন্য কি ইরাক যুদ্ধের কুশীলবদের কাটগড়ায় দাঁড় করানো হবে না।এছাড়া মার্কিন নেতৃত্বে হওয়া অপারেশন ইরাকি ফ্রিডমের পরিকল্পনাতেও ভুল ছিল বলে স্বীকার করে নিয়েছেন ব্লেয়ার।তারা ধারণা করেননি সাদ্দামকে উৎখাত করার পরে ইরাকের ভাগ্যে কী ঘটবে। তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনায় কিছু ভুল ছিল, বিশেষ করে আমরা ভাবিনি যে সরকার পতনের পরে কী ঘটবে।সিএনএনের উপস্থাপক ফরিদ জাকারিয়া প্রশ্ন করেন, ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পেছনে ইরাক যুদ্ধই মূল কারণ কি না। এর জবাবে ব্লেয়ার বলেন,আমার মনে হয়, সত্যের উপাদান এটার মধ্যে আছে।অবশ্যই আপনি বলতে পারেন না যে, ২০০৩ সালে আমরা যারা সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করেছি,২০১৫ সালের পরিস্থিতির জন্য আমাদের দায় নেই।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া মার্কিন সরকারের এক গোপন নথিতে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা অনেকটা বোমা বিস্ফোরণের মতো।তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে পররাষ্ট্র সচিব কলিন পাওয়েলের পাঠানো ওই আনুষ্ঠানিক চিঠিতে উঠে এসেছে ইরাক যুদ্ধ বিষয়ক অনেক জানা-অজানা পরিকল্পনার তথ্য।চিঠিতে ইরাক নিয়ে বুশ এবংব্লেয়ারের পরিকল্পনার কথা লেখা আছে। চিঠির বক্তব্য থেকে দেখা যায়, মুখে সবসময় শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও আসলে ইরাকে যুদ্ধ শুরুর এক বছর আগেই বুশ এবংব্লেয়ার ইরাকে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন!নির্বাচনী প্রচারণায় ব্লেয়ার সে সময় বারবার ভোটারদের বলছিলেন, ‘আমরা ইরাকে কোনো রকম সামরিক তৎপরতা প্রস্তাব করি না।’ প্রকাশিত গোপন চিঠিটা কিন্তু তার ঠিক উল্টোটাই বলছে।২০০২ সালে টেক্সাসের ক্রফোর্ডে জর্জ বুশ এবং টনি ব্লেয়ারের মধ্যে এক সম্মেলন হয়,যেখানে এ দু’জন ইরাকে হামলা চালানো বিষয়ে আলোচনা করেন।সেই প্রসঙ্গেই সম্মেলনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে ২৮ মার্চ কলিন পাওয়েল চিঠিতে বুশকে নিশ্চিত করেন ইরাক বিষয়ে যে কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাজ্য ‘আমাদের সঙ্গে থাকবে।শুধু তাই নয়, গোপন ওই ডকুমেন্টে আরো বলা হয়, ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে এমন খবর প্রচারে প্রেসিডেন্ট বুশের পক্ষে সাফাই গাওয়ার কাজ করবেন ব্লেয়ার, যেখানে গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ বলতে প্রকৃতপক্ষে সাদ্দামের কাছে কিছু ছিলো না।কথা ছিলো ব্লেয়ারের এই সহায়তার বিনিময়ে বুশ তার ভাবমূর্তি রক্ষার দায়িত্ব নেবেন। পরিস্থিতিকে এমনভাবে তুলে ধরবেন যেনো সবাই মনে করে ব্রিটেন আমেরিকার পোষা কুকুর নয়। 
দু’টি দেশের মধ্যে একটি ‘বিশেষ সম্পর্ক’ রয়েছে যেখানে দু’টি দেশই সমান।ওই ডকুমেন্টের আরেকটি চিঠি থেকে বেরিয়ে এসেছে যে,ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কে ব্রিটিশ জনমত প্রভাবিত করার জন্য বুশ যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টিতে গুপ্তচর নিযুক্ত করেছিলেন।আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ই-মেইল সার্ভারের সব ই-মেইল প্রকাশ করার জন্য আদালতের দেওয়া নির্দেশের প্রেক্ষিতে এই ডকুমেন্টগুলো প্রকাশ হয়ে যায়।ধারণা করা হচ্ছে ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হিলারি ডকুমেন্টগুলো চেয়েছিলেন।অনেক আগে থেকেই দাবি চলে আসছিলো ব্লেয়ার এবংবুশ বুশের ক্রফোর্ড র্যা ঞ্চের বন্ধ দরজার আড়ালে ইরাক যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং দু’জনে মিলে রক্ত দিয়ে ইরাকে হামলা করার চুক্তি সই করেছিলেন।তবে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরাবরই অভিযোগটি অস্বীকার করে এসেছেন।গোপন ডকুমেন্ট গুলো ফাঁসের মধ্য দিয়ে তাদের বেুশ-ব্লেয়ার জোটের মিথ্যাচারই যেনো ফাঁস হয়ে গেলো।তবে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করার বিষয়ে মোটেও অনুশোচনা নেই ব্লেয়ারের।তিনি মনে করেন, সাদ্দাম থাকলে এখনকার ইসলামিক স্টেটসের বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডর সঙ্গে কোনো পার্থক্য থাকতো না। তিনি বলেন, সাদ্দামকে সরানোর জন্য ক্ষমা চাওয়া বেশ কঠিনই।আমি মনে করি যে ২০১৫ সালে এসেও এটা বলা যায়,সে থাকার চেয়ে না থাকাটাই বরং ভালো হয়েছে। নিজের ‘অপরাধের’ কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমি যখন আমার অপরাধের কথা ভাবি,আপনি বলতে পারেন সাদ্দামকে সরানোর কথা।আর এখন যখন দেখি সিরিয়াতে হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছে আর আমরা দাঁড়িয়ে থেকে সেটা দেখেছি।আমরা পশ্চিমারা বিশেষ করে ইউরোপ এর জন্য দায়ী।আর আমরা এটা ঠেকাতে কিছুই করিনি। এটা ইতিহাসের বিচার যেটা গ্রহণ করতে আমি প্রস্তুত রয়েছি।
 ব্লেয়ার রেহাই পেলেন ব্রিটিশ অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ড.ডেভিড কেলির আত্মহত্যার জন্য ব্রিটিশ প্রধাণমন্ত্রী দায়ী ছিলেন না এই চাঞ্চল্যকর রায় দিলেন কেলি-কেলেঙ্কারীর তদন্ত কমিটির প্রধাণ লর্ড হাটন৷ গতকাল বহু প্রতিক্ষিত হাটন রিপোর্টে সেইসঙ্গে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও বিবিসিকে ভর্ত্সনা করা হয়েছে৷।ব্রিটিশ প্রধাণমন্ত্রী টোনি ব্লেয়ার
পর পর দুটি ফাঁড়া কেটে গেল টোনি ব্লেয়ারের৷ গত পরশু লেবার পার্টি অধিবেশনে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অল্পের জন্য নিজের মান রক্ষা করতে সমর্থ হন তিনি৷ গতকাল ছিলো আরও বড় এক অগ্নিপরীক্ষা৷ এদিন কেলি-কেলেঙ্কারীর রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যাতে ব্লেয়ার ও তাঁর সরকারকে কেলির মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয় নি৷ ব্লেয়ারের কাঁধ থেকে এই দায় নামিয়ে লর্ড হাটন বলেন,বিপুল পরিমাণ সাক্ষ-প্রমাণ পরীক্ষা করে আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি,যে এমন কোনো অসাধু ইচ্ছা বা স্ট্র্যাটেজি আমি খুঁজে পাই নি, যার মাধ্যমে প্রধাণমন্ত্রী বা তাঁর কর্মকর্তাদের দায়ী করা যায়৷”অর্থাত ব্লেয়ার ও তাঁর কর্মকর্তারা গোপনিয়তার নিয়ম ভেঙে সংবাদ-মাধ্যমের কাছে ড.কেলির নাম প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছিলো, লর্ড হাটন তা নাকচ করে দিলেন৷ বিবিসি-র এক রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছিলো যে ব্রিটিশ সরকার ইরাকের ক্ষমতা সম্পর্কে জেনেশুনে অতিরঞ্জন করেছিলো৷ এই রিপোর্টের প্রতিবেদক বিবিসি-র সাংবাদিক অ্যান্ড্রু গিলিগানের ভূমিকা সম্পর্কে লর্ড হাটন বলেন,মি.গিলিগান ২০০৩ সালের মে মাসে অভিযোগ করেছিলেন,যে মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে ইরাক গণবিধ্বংসী অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে বলে ব্রিটিশ সরকার তার শ্বেতপত্রে যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলো, তা যে অসত্য - সরকার সম্ভবত তা জানতো৷ কিন্তু এই অভিযোগের কোনো ভিত্তিই ছিলো না৷
আর ড.কেলি যে আত্মহত্যাই করেছিলেন, সেকথা সাফ জানিয়ে লর্ড ব্রায়ান হাটন বলেন,তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য জানানোর আগে এবং রিপোর্টের দ্বিতীয় পর্যায়ে যাবার আগেই আমি বলতে চাই, ড.কেলি নিজের বাঁহাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করেছেন কোপ্রক্সোমল ট্যাবলেট খাবার ফলে সেই প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত ঘটেছে৷লর্ড হাটন-এর এই রিপোর্টের ফলে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেফ হুন-এর মাথার উপর থেকেও খাঁড়া নেমে এল বলা চলে৷ কেলি-কেলেঙ্কারী সামাল দিতে ব্লেয়ার হুনকে বলি দেবেন বলে যে অনুমান করা হচ্ছিলো, সেই জল্পনা-কল্পনারও আপাতত অবসান ঘটলো৷লর্ড হাটন-এর প্রকাশিত রিপোর্ট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধাণমন্ত্রী ব্লেয়ার বলেন,এই রিপোর্ট অত্যন্ত স্পষ্ট, বিস্তারিত এবং তথ্যবহুল৷ এই রিপোর্টে পছন্দমতো মূল্যায়ণের কোনো অবকাশই নেই৷ আমরা এই রিপোর্ট পুরোপুরি মেনে নিচ্ছি৷পরে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র বলেন,ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ভুল গোয়েন্দা তথ্য ও ভ্রান্ত পরিকল্পনার জন্য টনি ব্লেয়ার সব সময়ই ক্ষমা চেয়ে আসছেন।তিনি সব সময়ই বলেন, আবারো বলেছেন যে তবে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করা ভুল ছিল না।ছয় বছর আগে ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। স্যার জন চিলকটের নেতৃত্বে এ তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। সে সময় ব্রাউন বলেছিলেন, তদন্ত শেষ হতে বছর খানেক লাগবে।ইরাকে হামলার বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে বিশ্বব্যাপী মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ।১৬ মার্চ: ইরাকে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসনের পাঁচ বছর পূর্তির প্রাক্কালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হলিউড ও ক্যালিফো র্নিয়ায় হাজার হাজার মানুষ ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।বিক্ষোভকারীরা এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয় এবংইরাক থেকে অবিলম্বে সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি জানায়। 
বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ মার্কিন পতাকাবৃত কফিন বহন করে।বৃটেনের লন্ডন ও গ্লাসগোতেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও গাজা অবরোধ তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছে।এছাড়া, তারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ ও সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের বিচার দাবি করেছে।বিক্ষোভের আয়োজক সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেছেন,ইরাকে হামলার মাধ্যমে বিশ্বকে আরও মারাত্মক বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে।বৃটিশ হাউজ অব কমন্সের লিবারেল ডেমোক্রেট দলীয় সদস্য বারুন্স টাংবলেছেন,জাল তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অন্যায় ভাবে ইরাক যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে।তিনি অন্যায় হামলার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।এছাড়া,স্পেনের বিভিন্ন শহরেও ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।ইরাক যুদ্ধের খেসারত দিতে হতে পারে টনি ব্লেয়ারকে।ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করায় কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে ব্লেয়ারকে। ইতোমধ্যেই ব্লেয়ারকে আলাদতের মুখোমুখি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন আইনজীবীরা।ওই যুদ্ধকে ভুল ও অপরিণামদর্শী বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ অনুসন্ধানী মূলক চিলকোট প্রতিবেদন।খবর বিবিসির।ইরাক আক্রমণে ব্রিটেনের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেকগুলো বিকল্প পথ থাকা সত্ত্বেও তৎকালিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তার সামরিক বাহিনী আগ্রা সনের পথেই হেঁটেছেন।তারা যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন। ইরাক যুদ্ধের উপর ব্রিটিশ অনুসন্ধানীমূলক চিলকোট প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।প্রতিবেদনে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইরাক যুদ্ধসংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তসহ যাবতীয় তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ২০০৯ সালে চিলকোট কমিশন গঠিত হয়।ছয় বছর ধরে যুদ্ধ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে তারা।গত বছর এক বিবৃতিতে স্যার জন চিলকট জানিয়েছিলেন,চিলকোট প্রতিবেদন প্রকাশ করতে আরো এক বছর সময় লাগবে।এক বছরের মধ্যেই ওই প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন বলেও জানান তিনি।ইরাক যুদ্ধের দীর্ঘ ১৩ বছর পর বহু প্রতিক্ষীত ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে চিলকোট বলেন, গোয়েন্দাদের তথ্যে সাদ্দামের জীবাণু অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখার কোনো প্রমাণ মেলেনি।ইরাকে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র বিশ্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে দেশটিতে যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল।খুব জোর দিয়ে বলা হলেও সেই তথ্যেরও কোনো প্রমাণ মেলেনি। তাই যারা এই যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি অবশ্যই হতে হবে।ভুল তথ্যে ইরাক আক্রমণ ক্ষমা চাইলেন ব্লেয়ার।এক যুগ পর ইরাক আক্রমণ ভুল ছিল বলে জানিয়ে ক্ষমা চাইলেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে আক্রমণ করা হয়েছিল তা ছিল ভুল।ওই আক্রমণই ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থানের পথ করে দিয়েছে বলেও স্বীকার করেন ব্লেয়ার।খবর এএফপি,ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও বিবিসি অনলাইনের। আইএস জঙ্গিদের উত্থানের পেছনে সাদ্দামের পতনের ভূমিকা আছে কি-না এ প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন,এই দাবির আংশিক সত্যতা রয়েছে।সাদ্দামকে উৎখাতের সঙ্গে আমরা যারা জড়িত ছিলাম, তারা ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কিছুটা হলেও দায়ী।তিনি বলেন, 'আমরা যেসব গোয়েন্দা তথ্য হাতে পেয়েছিলাম তাতে ভুল ছিল। 
এ ঘটনার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি।তিনি আরও বলেন, 'আমাদের সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং সাদ্দাম অপসারণের পরিণতি সম্পর্কে দূরদৃষ্টির অভাব ছিল।এই ভুলের জন্যও আমি ক্ষমাপ্রার্থী।তবে ইরাক আগ্রাসনের পক্ষেই নিজের অবস্থান বজায় রাখেন ব্লেয়ার। তিনি বলেন,সাদ্দামকে উৎখাতের জন্য 'ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টা অনেক কঠিন' কারণ ইরাকে হস্তক্ষেপ না করলে দেশটির পরিস্থিতি হয়তো বর্তমান সিরিয়ার মতোই হতো।হয়তো বর্তমানে দেশটি সিরিয়ার মতো গৃহযুদ্ধে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় থাকত।তাই বলতেই হবে, সাদ্দাম হোসেনের ক্ষমতায় না থাকা ইরাকের জন্য বরংভালোই হয়েছে।ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ব্রিটেনের গঠন করা চিলকট কমিশন আগামী মাসেই তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে।এর আগেই মার্কিন টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন টনি ব্লেয়ার।দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইরাক যুদ্ধের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।ওই যুদ্ধ ভুল ছিল এবংএ কারণেই যে ইরাকে আজ আইএসের উত্থান সেটি স্বীকার করেছেন তিনি।মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সহযোগী ব্লেয়ার এ সব কথা বলেন।সাক্ষাতকারটি এখনো প্রচার করা হয়নি।ব্লেয়ার বলেছেন, ‘আমরা যারা সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করেছি, ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তাদের কম-বেশি দায় নিতে হবে।’তবে পাশাপাশি টনি ব্লেয়ার এ কথাও বলেছেন যে,সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত না করলে ইরাকের তখনকার অবস্থা হতো আজকের সিরিয়ার মতো।অর্থাৎ দেশটিতে গৃহযুদ্ধ লেগে যেত।
শেষ পর্যন্ত ব্লেয়ার মানলেন আইএস উত্থানের দায়।পেরিয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়।এখনো পিছু ছাড়ে না যুদ্ধাপরাধী তকমা।মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে এই স্বীকারোক্তি করে ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিলেন প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।তবে সাদ্দাম হোসেনকে গদিচ্যুত করা নিয়ে যে তার কোনো অনুশোচনা নেই, তাও স্পষ্ট করে দিলেন টনি।বিশ্বজুড়ে লাগাতার সমালোচনার মুখে পড়েও এত দিন ইরাক যুদ্ধের প্রশ্নে এক প্রকার অনড়ই থেকেছেন তিনি।কিন্তু এই প্রথম এক দশক আগের সেই যুদ্ধ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ব্রিটেনের এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।লংরোড টু হেল,আমেরিকা ইন ইরাক’ শীর্ষক এই সাক্ষাৎকারে টনি বলেন, সাদ্দামের সরকারের হাতে গণহত্যার অস্ত্র রয়েছে বলে যে খবর গোয়েন্দা সূত্রে পেয়েছিলাম তা ভুল ছিল।যদিও সাদ্দাম অন্য রাষ্ট্র এবং নিজের লোকদের ওপরই রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল।যেভাবে পরিস্থিতি বিচার করেছিলাম,বাস্তবে তেমনটা ছিল না।

আরো সংবাদ

খাজাঞ্চী ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

লামাকাজী ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

বিশ্বনাথে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভা, জেলা কমিটিকে অভিনন্দন

বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়ক এখন ‘গলার কাঁটা’

বিশ্বনাথে ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

রামপাশা ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

গলায় ছুরি চালিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

দৌলতপুর ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

দশঘর ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

দেওকলস ইউনিয়নে ‘বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

বিশ্বনাথে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সভা

অলংকারী ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি’র নগদ অর্থ বিতরণ

সর্বশেষ সংবাদ

খাজাঞ্চী ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

লামাকাজী ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

বিশ্বনাথে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভা, জেলা কমিটিকে অভিনন্দন

বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়ক এখন ‘গলার কাঁটা’

বিশ্বনাথে ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

রামপাশা ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

গলায় ছুরি চালিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

দৌলতপুর ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

দশঘর ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

দেওকলস ইউনিয়নে ‘বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

বিশ্বনাথে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সভা

অলংকারী ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি’র নগদ অর্থ বিতরণ