দেশের স্বার্থে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন জরুরী

বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডট কম :: এপ্রিল - ২৩ - ২০১৬ | ৯: ১৮ অপরাহ্ণ | সংবাদটি 1038 বার পঠিত

Untitled-4 copyএ.এইচ. এম ফিরোজ আলী :: বিগত দুই দশক জুড়ে যে শিল্পটি গোটা বিশ্ব জুড়ে ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে তা হলো পর্যটন শিল্প। বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ডই হলো পর্যটন শিল্প। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দেশ বার্বাডোজ, ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাকো, জ্যামাইকা, আ্যন্টিগুয়া, সেন্টলুসিয়া, সেন্টকির্টস এন্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট গ্রেনাডা-এ দ্বীপ দেশ গুলোর মধ্যে শুধু ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোতেই কিছু প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ আছে। বাকী দেশ গুলোর একমাত্র ভরসা হলো পর্যটন শিল্প। ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, ভূটান, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, মালেশিয়া, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশ পর্যটন শিল্পে আমাদের চেয়ে অনেক দূর এগিয়ে। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও আমরা বিদেশীদের কাছে পর্যটন শিল্পে দেশটির পরিপূর্ণ পরিচয় তুলে ধরতে পারছি না এখনও। এ দায়িত্বে নিয়োজিত পর্যটন কর্পোরেশনই পারে, সেই সুযোগ বা ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাতে। মহান সৃষ্টিকর্তা যেমন নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকত, নজর কাড়া পাহাড়, টিলা, নদ-নদী, খাল-বিল দৃষ্টি নন্দন চা বাগানসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দিয়ে এ দেশটাকে দক্ষ শিল্পীর নিপুন আঁচড়ের মতো পর্যটকদের উপযোগী করে সাজিয়ে রেখেছেন। তাই বলা হয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লিলা ভূমি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। বিশ্ব পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
১৯৭৯ সাল থেকে বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন করে থাকে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প গঠন এবং ২০১০ সালের বাংলাদেশের বনভূমির সৌন্দর্য্য সংরক্ষণ আইন গঠন করা হয়। কিন্তু কোন কিছুতেই পর্যটন শিল্পের দৃশ্যমান কোন বিকাশ ঘটছে না। আমাদের দেশে পর্যটন কর্পোরেশনের দায়িত্বে থাকেন একজন প্রতিমন্ত্রী, জাপানে পর্যটন মন্ত্রনালয় থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। অন্যান্য দেশে পর্যটনের আলাদা মন্ত্রনালয় রয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্যমতে ১৯৫০ সালে দুই কোটি ৫০ লক্ষ, ১৯৯২ সালে ৪০ কোটি, ২০০০ সালে ৫০ কোটি লোক পৃথিবীর একদেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করেছেন এবং বর্তমানে এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আমাদের পর্যটন শিল্পের দৈন্যদশা দেখে বিদেশীরা এক বার আসলে আর দ্বিতীয় বার ফিরে আসেন না।
আন্তর্জাতিক এক জরিপে বিশ্বে প্রতিদিন ১৪ লক্ষ থেকে ২০লক্ষ মানুষ ভ্রমনের উদ্দেশ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে ভ্রমনের সংখ্যা খুবই কম। এমনকি আমাদের দেশের তরুন-তরুনীরা অনেকেই দল বেধে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ঘুরছে।
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলো অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভাল এবং আকর্ষণীয়। কিন্তু ব্যবস্থাপনা ভাল নয়। ব্যবধানটা এখানেই। আমাদের দেশে আছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, টকনাফ মাথিনের প্রেম কুপ, সেন্টমার্টিন প্রবাল দ্বীপ, সুন্দর বনের ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, মহেশখালী, বাঁশখালী, হিমছড়ি, সোনাদিয়া, কুয়াকাটা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, খাগড়াছড়ি, কাপ্তাই হ্রদ, সিলেটের জাফলং, শাহ্জালাল, শাহপরানের মাজার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আলুরতল, রাতারগুল জলাশয়, মাধবকুন্ড জলপ্রপাাত,গোয়াইনঘাট লাল খান প্রাকৃতিক জলপ্রপাত,কমলগঞ্জ হামহামা প্রাকৃতিক জলপ্রপাত,বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সমাধি,কমলগনঞ্জ লাউয়াছড়া,হবিগনঞ্জ সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, জৈন্তা রাজবাড়ি, কমলগঞ্জ,শ্রীমঙ্গল ও দোয়ারা বাজারের সীমান্তের বধ্য ভ’মি। সিলেট,চট্টগ্রাম,শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ী অঞ্চল, খুলনা সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হিরণ পয়েন্ট, বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদ, সোনার গায়ে ঈশাখা’র রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ, কিশোরগঞ্জের এগারো সিন্ধু, নাটোরের রাজবাড়ী, বগুড়ার মহাস্থানগড়, দিনাজপুরের রামসাগর, কানÍজীর মন্দির, নওগার পাহাড়পুর, কুষ্টিয়ার টেরাকোঠা মন্দির, শিলাইদহের কুঁটিরবাড়ী, কুমিল্লার লালমাই পাহাড় ও প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন, জয়দেব পুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী, যশোরের সাগরদাড়ি গ্রাম, ঢাকার লালবাগের কেল্লা, ছোট কাটরা, বড় কাটরা, আহসান মঞ্জিল, বলদা গার্ডেন, সাভার জাতীয় স্মৃতি সৌধ,রায়ের বাজার বধ্যভ’মি, টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর বাড়ী, শহীদ মিনার, জাতীয় জাদুঘর, ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের মহাযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের কবর স্থান, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার ও চট্টগ্রামের সবুজ শ্যামল দৃষ্টিনন্দন চা বাগান, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর যমুনা সেতু এবং হাইল হাওরের মতো শতশত দর্শনীয় স্থান। পাঠ্যপুস্তকে এসব আকর্ষণীয় স্থানের বর্ণনা থাকায় স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সরেজমিনে এ সব স্থান ভ্রমণ করতে বেশ আগ্রহী। কিন্তু যানবাহনের সমস্যা, সড়ক দূর্ঘটনা, অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংস্কার বিহীন রাস্তাঘাটসহ নানা কারণে আমাদের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও অগ্রগতি হচ্ছে না।
চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের শেষের দিকে ২১ জনের একটি দল নিয়ে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমনে গিয়েছিলাম। এ দলের সদস্যরা ছিলেন সমর কুমার দাস, মোঃ লিলু মিয়া, প্রভাংশু শেখর তালুকদার, আজিজুল হক, রাকিবুল ইসলাম, বিশ্বজিত রায়, মনুষা রানী দাস, কামরুজ্জামান, কামরুল হুদা, নিলিমা দাস, প্রিয়াংকা রানী দাস স্বর্ণা, কপিল উদ্দিন, আজিজুল হক লিটন , শিরিয়া বেগম শিল্পি, ফারজানা ফিরোজ ইভা, কামরুল ইসলাম পাপলু ,ফয়েজ আহমদ,তামিম আহমদ, রায়হান ফিরোজ সৌরভ এবং সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য প্রমিত শেখর তালুকদার। সকল প্রস্তুতি শেষ করে সিলেট- চট্টগ্রাম রেলের ২১টি টিকেট অনেক কষ্ট করে সংগ্রহ করি। তার পর অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ২৭ জানুয়ারী রাতে সিলেট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে পরদিন সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম পৌছি। সেখানে সকালের নাস্তা শেষ করে বাসযোগে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে আবারো যাত্রা শুরু হয়। গাড়ীতে বসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রাস্তা দেখে মনে হলো এটি যেন ধানের চারা রোপনের কাঁদাযুক্ত জমি। শেষ পর্যন্ত অনেক দূর্ভোগের পর সন্ধ্যার কিছু সময় পূর্বে কক্সবাজার পৌছি। সেখানে দেখলাম আমাদের মতো অনেক ছোট বড় পর্যটক দলের প্রচন্ড ভিড়। তথায় হোটেল ভাড়া শুনে হতবাক। এক হোটেল থেকে অপর হোটেল,-এভাবে অনেক ছুটাছুটির পর ক্লান্ত হয়ে ম্যানেজারের ইচ্ছানুযায়ী রুম ভাড়া দিয়ে একটি হোটেলে সিট নিলাম। তার পর সকলেই ফ্রেস হয়ে হোটেল মালিকের সাথে কথা বলে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করি।
পরদিন ভোর ৬টায় সবাইকে নিয়ে হোটেলের সামন থেকে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের তীর ঘেঁষে পাহাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্য দেখে দেখে টেকনাফ গিয়ে পৌঁছলাম। বঙ্গোপসাগরের পানির ঢেউ আর বাতাসের শনশন শব্দের দৃশ্য দেখার মতো। বাস থেকে নেমে টেকনাফ দমদম, জাহাজ ঘাটে টিকেট গুলো হাতে নিয়ে লম্বা লাইন ধরে একটি সাঁকো দিয়ে জাহাজে গিয়ে উঠতে হয়। জাহাজে উঠতে হলে প্রায় ২০০’শ মিটার রাস্তা সাঁকো দিয়ে যেতে হয়। তাও মাটি থেকে ১০/১২ ফুট উপরে। কারো পা ফসকে গেলে কিংবা কোনকিছু নিচে পড়ে গেলে ফিরে পাওয়া খুবই কঠিন। নদীর ঢেউয়ের নরম কাঁদার কয়েক ফুট গভীরতাও রয়েছে।ঘাটে এলসিটি কাজল, এলসিটি কুতুবদিয়া, ব্রেকরুস, গ্রীনলাইন ওয়ান, কেয়ারী সিন্দাবাদ, কেয়ারী ডিন এন্ড কোস চমৎকার ভাবে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীন লাইন ওয়ান জাহাজটি দেখতে বাংলাদেশ বিমানের মতো যা পর্যটকদের খুব আকর্ষন করে। সকাল ৯টায় টেকনাফ থেকে ৫মিনিট পর পর সবগুলো জাহাজ সেন্টমার্টিন দ্বীপের দিকে যাত্রা করে। আমরা কাজলের দু’তলায় টিকেট অনুযায়ী চেয়ার নিয়ে একত্রে বসে পড়ি। সবচেয়ে মজার বিষয় হচেছ প্রতিটি জাহাজের সাথে কয়েক শতাধিক সাদা গাংচিল চলতে থাকে। তারা জাহাজের যাত্রীর মাথার উপর উড়ে এসে খাদ্য প্রদানের আবেদন জানায়। যাত্রীরা চীপস, রুটি, ব্রেড, হালকা ভাসমান খাবার উড়িয়ে দিলে ওরা শুন্যে থেকে ছিনিয়ে নেয়। এ যেন আলাদা এক রোমাঞ্চকর খেলা। সাড়ে তিন ঘন্টা পথ চলার পর দুপুর ১২:৩০মিনিটের সময় সবগুলো জাহাজ সেন্টমার্টিন তীরে গিয়ে ভীড়ে যায়। জাহাজ থেকে মাইকে আওয়াজ শোনা গেল, আপনাদেরকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে সু-স্বাগতম, আজ সাগর উত্তাল সাবধানে সাগরে নামবেন। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে দ্বীপে কয়েক হাজার লোকের একটি মিলন মেলা দেখা গেল।

তিনশত একাশি বর্গকিলোমিটার পাহাড় ঘেরা টেকনাফ থানার আয়তন। এখানে আটশত আশিঁ ফুটের বিশাল বড় বড় পাহাড় রয়েছে। পাহাড়ের গাঁ ছুঁয়ে জড়িয়ে ধরে আছে নাফ নদী। টেকনাফ থেকে ৩৫কিলোমিটার পানি পথ পেরিয়ে যেতে হয় সেন্টমার্টিন। ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড় বেষ্টিত এই জঙ্গলে বাস করে প্রায় এক হাজার বন্যহাতি। শহরতলীর উচুঁ পর্বতমালার অনতিদূরে রয়েছে হোটেল হিলটক, গ্রীনগার্ডেন যা পর্যটকদের নজর কেড়ে নেয়। দমদমিয়া জাহাজ ঘাট থেকে ২২কিলোমিটার নাফ সীমাšে Íর দু-ধারে প্রাকৃতিক দৃশ্যের অপূর্ব এক সমাহার। পূর্বদিকে আরাকান রাজ্যের মুংডু শহর পশ্চিম দিকে সাগরসীমা, আরাকান রাজ্যের সুদুর পশ্চিমে ১২ কিলোমিটার দুরত্বে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের বিখ্যাত সেই সেন্টমার্টিন প্রবাল দ্বীপ।
সেন্টমার্টিন দ্বীপটির কয়েকটি নাম রয়েছে। প্রায় তিনশত বছর পূর্বে মার্টিন নামের একজন বীরশ্রেষ্ঠ মহান ব্যক্তিত্ব ব্রিটেনের নাগরিক পর্যটক হিসেবে সর্বপ্রথম আরাকান রাজ্যের পর্বত মালার সর্বোচ্চ পটভুমির সীমানা ভ্রমন করতে এসে জ¦ীনের রাজ্য জিঞ্জিরা দ্বীপে পর্যবেক্ষন করেন। পাথরের স্তর আর বালুকণার জমাট বাঁধা ¯তুপকে ঘিরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠা মা¯তুলকে তাঁর নিজের নামের সাথে বীরউত্তম (স্যন্ট) কে যুক্ত করে নাম করণ করেন ’সেন্টমার্টিন আইল্যান্ড’। বিশিষ্ট লেখক হুমায়ুন আহমদ দ্বীপটির নাম রেখেছিলেন দারুচিনি দ্বীপ। এটাকে কেউ বলে জিঞ্জিরা আবার কেউ বলে নারিকেল জিঞ্জিরা। সেন্টমার্টিন দ্বীপটি একটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই দ্বীপে বাস করেন প্রায় ৮হাজার মানুষ। এই দ্বীপটির বর্তমান চেয়ারম্যানের নাম হচ্ছে নুরুল আমীন।
গহীন সাগরের পাতালপুরীতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবস্থান। শৈবাল প্রবালের প্রভাতে পরিপূর্ণ হওয়ায় চলমান অবস্থানকে শৈবাল প্রবালের দ্বীপ বা ছেড়াদ্বীপ নামে পরিচিতি লাভ করে। নুড়ি পাথর জমাট বাঁধা শামুক, কুড়ি, ঝিনুক, কাকড়া, সরীসৃপ প্রাণী সাপ বিচ্ছু আর প্রায় ৫০০ প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্য এ দ্বীপটি। দীর্ঘ সাড়ে তের বর্গকিলোমিটার ব্যাসার্ধ ব্যাপী দ্বীপটির দৈর্ঘ্য প্রস্থের আয়তন। ¯্রষ্টার অসীম করুনায় কৃত্রিম ফসলী এই স্বপ্নাভিলাস বিস্ময়কর সেন্টমার্টিন। এশিয়া মহাদেশের দ্বীপগুলোর মধ্যে এ দ্বীপটি সবচেয়ে ক্ষুদ্র কিন্তু গভীর সমুদ্রে অবস্থিত। পাথরে জন্মানো প্রকৃতির শেওলা রেঙ্গুনের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাধ্যমে চীন জাপান সিঙ্গাপুর হংকং ডেনমার্ক ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বে স-ুস¦াদু খাদ্য তালিকায় এ নাম উঠে এসেছে। যার নাম সীমাই পিঠা।

দুপুরে দ্বীপের বালুময় হোটেলে খাওয়া দাওয়া শেষ করে সাগর তীরে গিয়ে চতুর্দিকে এক পলক তাকিয়ে দেখা গেল ¯্রষ্টা কি অপরুপ সৌন্দর্য্য দিয়ে এ দ্বীপটি কে নিজের মতো সাজিয়ে তৈরি করেছেন। সমুদ্র সৈকতে গিয়ে সবাইকে সতর্ক করে দিলেও কেউ কারও কথা মানছেন না। কেউ সাগরে সাঁতার কাটছেন আবার কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা শামুক ঝিনুক প্রবাল অনেক কিছু কুঁড়িয়ে বা কিনে সংগ্রহ করছেন। মনের অজান্তে ঘড়ির কাটা আড়াইটা বেজে গেল। জাহাজের গাইড সংকেত দিলেন। সকলের ক্যামেরার মেমোরিও প্রায় শেষ। তারপর দ্বীপের ভেতর দিয়ে শুটকি বাজার হয়ে জাহাজ ঘাটে ফিরে যাই। সময় স্বল্প কারো তেমন কেনাকাটা হয়নি। পুরো দ্বীপটি দেখাও সম্ভব হয়নি। তারপরও সবাই মহা খুশি। আমাদের কৃষি শিক্ষক আজিজুল হক জীবনে এই দ্বীপটি দেখার সৌভাগ্য হওয়ায় খুব খুশি। ঘড়ির কাটা তখন তিনটা সবাই জাহাজের নিজ নিজ আসনে বসে গেলাম। জাহাজের যাত্রা শুরু হলে সেই গাংচিলের দলগুলো আবার কোথা থেকে ফিরে এলো। আমি সুযোগ কওে জাহাজের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করি। প্রথমে তারা কোন তথ্য দিতে অনীহা দেখালেও পরে তাদের ক্ষোভ ঝাড়লেন। কোন সরকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন করছেন না। নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারী, মাচর্, এপ্রিল পর্যন্ত বিদেশিরা এসে থাকেন। কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের আয় দিয়ে দেশ চলবে। কিন্তু বিদেশিরা একবার এলে আর ফিরে আসেন না। তারা জানালেন জাহাজ চলাচলের পথে চিহ্নিত কোন সংকেত বা খুঁটি এখনো গাড়া হয়নি। যে কারণে অনেক সময় জাহাজ পথ হারিয়ে তীরে উঠে গিয়ে আটকা পড়ে। এক সময় দুটি জাহাজ সরকারী ব্যবস্থাপনায় চলাচল করলেও এখন বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। জাহাজ ছাড়ার পর ভ্রমনকারী দল গুলো নিজ নিজ দল নিয়ে গান বাজনার তালে তালে সুর মিলিয়ে মহানন্দে অনেকেই গেয়ে যাচ্ছেন। তারপর টেকনাফ ফিরে এসে শেষ বিকেলের সূর্য ডুবার দৃশ্যটি অবিস¥রনীয়। গাজীপুর,চট্টগ্রাম,ফেনীসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে ছিল।
জাহাজে চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন খান একান্ত আলাপচারিতায় জানালেন শুধুমাত্র প্রবৃদ্ধি বাড়াকে উন্নতি বলা যায় না। দেশের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাটা বড় চ্যালেঞ্জ। পর্যটন শিল্পের প্রসার,প্রচার- প্রচারনাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটলে দেশের সুনাম অনেক বৃদ্ধি পাবে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পর টেকনাফ থেকে সোজা চলে এলাম কক্সবাজার হোটেলে। কেউ কেউ রাতে শুটকিসহ বেশ কেনাকাটা করলেন। রাতে এক সুযোগে হোটেল মালিক আমাকে জানালেন রাজনৈতিক সহিংসতার কারনে গত দুই বছরে পর্যটন শিল্পে ধ্বস নেমেছে। অনেক মালিক দেউলিয়া হয়ে পালিয়েছেন। ব্যাংক অনেকের নামে মামলা দিয়েছে। তাঁর আক্ষেপ পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত আর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারলে বাংলাদেশ আরেক সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে। পরদিন সকালে হিমছড়ি পাহাড় ও ঝরনা ভ্রমন করে দুপুরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে চলে যাই। তারপর চট্রগ্রামে রাত্রি যাপন করে পরদিন রেলযোগে সিলেটে এসে পৌছি।

দেশের সু-নাম এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে পর্যটন শিল্পের সমস্যা দূরীকরণ, বিশেষ করে নি¤œলিখিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা একান্ত জরুরী।
১। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত কোন সরকার বা বিরোধী দল কেউ কখনো উদারতা দেখায়নি যে, পর্যটন মৌসুমে আমরা এমন কিছু করবোনা যাতে বিদেশী পর্যটকদের অসুবিধা না হয়। গত তিন বছরে সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে জ্বালাও, পুড়াও করে পর্যটন শিল্পের ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সুতরাং সরকার ও বিরোধী দলগুলো বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে, যাতে দেশের কোন ক্ষতি না হয়।

২। বাংলাদেশর সড়ক, রেল যোগাযোগ, আভ্যন্তরিন বিমান চলাচল, পানি পথে চলাচল এখনো নিরাপদ হয়নি। বিশেষ করে পর্যটন এলাকার রাস্তাগুলোর উন্নয়ন করা জরুরী। আন্তনগর ট্রেনগুলো মাঝে মধ্যে খালি চলাচল করলেও কাউন্টারে সব সময় বলা হয় টিকেট নেই। রেলের এ ধরনের ভূত সরাতে হবে। পর্যটন মৌসুমে রেলওয়ের পর্যাপ্ত পরিমান বগি সংযোগ দিতে হবে।

৩। স্বাধীনতার চার যুগের সময়ে একটি সুষ্ঠু পর্যটন নীতিমালার অভাবে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটছেনা। দেশের আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানগুলো নিয়ে দেশের বাইরে চোঁখে পড়ার মতো কোন প্রচারনা নেই। ইন্টারনেটে আমাদের পর্যটন শিল্পে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪।পর্যটন এলাকায় যে সব হোটেল মোটেল কটেজ বা রেস্তোরা রয়েছে তাতে থাকা খাওয়া দাওয়া মধ্যবিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।অথচ আমাদেও দেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যাই বেশি।সুতরাং পর্যটন এলাকায় স্বল্পমূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা পর্যটন কর্পোরেশনকেই করতে হবে।
২০১৬ সাল কে পর্যটন বর্ষ ঘোষনা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের আশার আলো যে, বর্তমান সরকার ট্যুরিস্ট পুলিশ বাহিনী গঠন করে পর্যটন শিল্পকে নেক নজরে এনেছেন। তবে ঘোষিত সংখ্যা একান্ত নগন্য। কক্সবাজারের উন্নয়নে ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক জোন ঘোষনা করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য আরেকটি সু-খবর রয়েছে যে, ঢাকা-কক্রবাজার রেলপথ চালু করার পদক্ষেপ নিয়েছেন সরকার। রেলপথের ভূমি অধিগ্রহেনের জন্য অর্থও বরাদ্দ হয়েছে। ২০২০ সালে রেলযোগে পর্যটকগন কক্রবাজার আসা-যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির(একনেকের) বৈঠকে প্রকল্পটি এজেন্ডাভূক্ত করা হয়েছে। তাই সকলের প্রত্যাশা দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের সকল সমস্যা দূর করে দেশের সুনাম ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ শিল্পের বিকাশ ঘটানো জরুরী। পরি শেষে প্রকৃতির নেয়ামত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, সেন্টমার্টিন দ্বীপ,সুন্দরবন,রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি,কাপ্তাই হ্রদ সহ বিখ্যাত স্থানগুলো কমপক্ষে জীবনে একবার দেখতে সকলের শুভ দৃষ্টি কামনা করছি।

লেখক- কলামিস্ট

আরো সংবাদ

রামসুন্দর স্কুলে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন শুরু

মুন্সিরবাজার সমাজকল্যাণ সংস্থার ফ্রি সেলাই মেশিন পেলেন ১৮ নারী

বিশ্বনাথে এবিসি ইংলিশ ইনষ্টিটিউটের সেমিনার অনুষ্ঠিত

খাজাঞ্চীর প্রীতিগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবিতে সভা

বিশ্বনাথ পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন

বিশ্বনাথে হেক্সাস’র ফ্রি সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথে রামসুন্দর স্কুলের এসএসসি ৯১ ব্যাচের শুভেচ্ছা অনুষ্ঠান

বিশ্বনাথ লার্ণিং পয়েন্টে সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ সরকারি ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সংবর্ধিত

ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সম্মেলন

বিশ্বনাথে ব্র্যাকের ইউনিয়ন কর্মশালা

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দেওকলস ইউনিয়ন বিএনপির দোয়া মাহফিল

সর্বশেষ সংবাদ

রামসুন্দর স্কুলে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন শুরু

মুন্সিরবাজার সমাজকল্যাণ সংস্থার ফ্রি সেলাই মেশিন পেলেন ১৮ নারী

বিশ্বনাথে এবিসি ইংলিশ ইনষ্টিটিউটের সেমিনার অনুষ্ঠিত

খাজাঞ্চীর প্রীতিগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবিতে সভা

বিশ্বনাথ পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন

বিশ্বনাথে হেক্সাস’র ফ্রি সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথে রামসুন্দর স্কুলের এসএসসি ৯১ ব্যাচের শুভেচ্ছা অনুষ্ঠান

বিশ্বনাথ লার্ণিং পয়েন্টে সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিশ্বনাথ সরকারি ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সংবর্ধিত

ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সম্মেলন

বিশ্বনাথে ব্র্যাকের ইউনিয়ন কর্মশালা

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দেওকলস ইউনিয়ন বিএনপির দোয়া মাহফিল