উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা যেন ‘অবাঞ্ছিত’ -সংসদে এমপি এহিয়া

বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডট কম :: ফেব্রুয়ারি - ২৩ - ২০১৬ | ১: ০৪ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি 1104 বার পঠিত

8785.jpegনিজস্ব প্রতিবেদক :: সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা চালুর দাবি জানালেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া।

পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা যেন বাংলার জন্য আপ্লুত হয়ে পড়ি। বাংলাদেশ সংবিধানের সবচেয়ে ছোট অনুচ্ছেদটি হচ্ছে অনুচ্ছেদ ৩। তিনটি মাত্র শব্দের সমন্বয়ে এ অনুচ্ছেদটি গঠিত। ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’। কিন্তু রাষ্ট্রভাষা বাংলা হলে কি হবে? আমাদের উচ্চ আদালতে তো একচ্ছত্র শাসন চলছে ইংরেজিরই। সেখানে বাংলা ভাষার যেন ‘প্রবেশ নিষেধ’। অথচ যে ভাষা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি লাভ করল, মহান ভাষা আন্দোলনের সেই দেশেরই উচ্চ আদালতে আজও স্বীকৃতি পায় না বাংলা ভাষা।  যেখানে আমরা রাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বহুদূরে পৌঁছে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে বাংলা চালু করার দাবি জানাচ্ছি, অথচ নিজ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বাংলা চালুর সৎ সাহস দেখাতে পারি না কেন? আশ্চর্য, যে জাতি ভাষার জন্য রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলেছে সেই দেশের উচ্চ আদালতে বাংলা পরবাসী!

আদালতে নিজের ভাষার দাবিটা শুধু ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্যই নয়। বরং নিজের ভাষায় রায় পাওয়ার স্বতঃসিদ্ধ অধিকার প্রতিটি মানুষেরই রয়েছে। অথচ আমাদের দেশে ব্যাপারটা এরকম যে, ফাঁসির আসামি বুঝতেই পারল না কেন তার ফাঁসি হলো! ১৯৬৬ সনের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪(৩) দফায় বিচারপ্রার্থীর বোধগম্য ভাষায় বিচার পাওয়ার অধিকার মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। বহু বছর আগেই বাংলাদেশও এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু নিজ দেশের উচ্চ আদালতে তা বাস্তবায়ন না করে বাংলাদেশ এই আন্তর্জাতিক আইনটিকে ১৪ বছর ধরে লঙ্ঘন করেই চলছে। উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার যথার্থ প্রয়োগ ও প্রচলন করাটা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব? কারণ প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে তার রায়টা বুঝতে পারার। যদি তার রায় বোঝার অধিকারকে ভাষা দিয়ে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয় তাহলে এটা হবে পরিষ্কার সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এরশাদের সময় বাংলাদেশের সব অফিস-আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত করার জন্য ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন জারি করা হয়। ‘১৯৮৭ সালের বাংলা ভাষা প্রচলন আইনে’ বলা হয়েছে, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতীত অন্যান্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতে সওয়াল জবাব এবং আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে। উল্লিখিত কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তাহলে তা বেআইনি বা অকার্যকর বলে গণ্য হবে।’ এ আইন জারির পর আমাদের সব আদালতে বাংলা ভাষায় বিচারকার্য শুরু হয় এবং বাংলা ভাষায় সব অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়।

আদালতে ভাষার দাবিতে গোটা বিশ্বেই এখন জনমত প্রবল। ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট স্পষ্টতই বলেন, বিচারপ্রার্থীর বোধগম্য ভাষাতেই বিচার পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। একান্তই সম্ভব না হলে সেটার অনুবাদ তাকে করে দিতে হবে। তাদের সংবিধানেও অভিযুক্তের বোধগম্য ভাষায় বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কানাডার উচ্চ আদালতের সব রায় ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ ভাষায় ছাপানো বাধ্যতামূলক। মালয়েশিয়ার সংবিধান ও জাতীয় ভাষা আইনে আদালতের সব রায় তাদের ‘বাহাসা’ ভাষায় লেখা বাধ্যতামূলক। তাছাড়া সোভিয়েত রাশিয়া, জার্মানি, চীন, ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, জাপান এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালেও তাদের নিজেদের ভাষায় আদালত চলে।

‘পৃথিবীতে বাংলাই একমাত্র ভাষা যার জন্য মানুষ রক্ত দিয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম দৃষ্টান্ত আর দ্বিতীয়টি নেই। সুতরাং এ ভাষার পবিত্রতা আমাদের রক্ষা করতে হবে।  বাংলা শুধু আমাদের মুখের ভাষাই নয়, এটা আমাদের পরিচয়ও বটে। পুরো পৃথিবীতে ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র মাত্র একটিই। আর সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেদেশেরই উচ্চ আদালতে নিজের মাতৃভাষা যেন ‘অবাঞ্ছিত’।

খুবই আশ্চর্য বিষয়, যেখানে আমাদের সুপ্রিমকোর্ট বাংলা ভাষার বিকৃতি ও ভাষা দূষণ বিষয়ে রুল জারি করে বলেন,দেশের সব সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে গাড়ির নাম্বার প্লেট পর্যন্ত ইংরেজি শব্দ মুছে বাংলায় করার জন্য আমাদের যে আদালত নির্দেশ জারি করেন, সেই উচ্চ আদালতের নিজের সব শব্দই কেন ইংরেজিতে হবে?

আরো সংবাদ

সাবেক ছাত্রদল কর্মীকে সভাপতি করে ছাত্রলীগের কমিটি! প্রত্যাখান করে মিছিল

খাজাঞ্চী ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

লামাকাজী ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

বিশ্বনাথে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভা, জেলা কমিটিকে অভিনন্দন

বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়ক এখন ‘গলার কাঁটা’

বিশ্বনাথে ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

রামপাশা ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

গলায় ছুরি চালিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

দৌলতপুর ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

দশঘর ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

দেওকলস ইউনিয়নে ‘বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

বিশ্বনাথে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সভা

সর্বশেষ সংবাদ

সাবেক ছাত্রদল কর্মীকে সভাপতি করে ছাত্রলীগের কমিটি! প্রত্যাখান করে মিছিল

খাজাঞ্চী ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

লামাকাজী ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

বিশ্বনাথে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভা, জেলা কমিটিকে অভিনন্দন

বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়ক এখন ‘গলার কাঁটা’

বিশ্বনাথে ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

রামপাশা ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

গলায় ছুরি চালিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

দৌলতপুর ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

দশঘর ইউনিয়নে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

দেওকলস ইউনিয়নে ‘বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র অর্থ বিতরণ

বিশ্বনাথে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সভা