ভালবাসার এপিঠ ওপিঠ

বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডট কম :: ফেব্রুয়ারি - ২ - ২০১৬ | ১: ৫৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি 1061 বার পঠিত

Atik-Nogori॥ আতিকুর রহমান নগরী ॥

ব্যঞ্জন বর্ণের চারটি বর্ণ দ্বারা গঠিত একটি ক্ষুদ্র শব্দের নাম ‘ভালবাসা’। যাকে আরবিতে ‘মুহাব্বত’ ও ইংরেজী ভাষায় ‘লাভ’ বলা হয়। যার অর্থ হচ্ছে, অনুভূতি, আকর্ষণ, হৃদয়ের টান; যা মানুষের অন্তরে আল্লাহপাক সৃষ্টিগতভাবে দিয়ে দেন।
তবে উইকিপিডিয়া মুক্ত বিশ্বকোষে ভালোবাসার সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এভাবে ‘ভালোবাসা একটি মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতা। বিশেষ কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ভালোবাসা। তবুও ভালোবাসাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়। আবেগধর্মী ভালোবাসা সাধারণত গভীর হয়,বিশেষ কারো সাথে নিজের সকল মানবিয় অনুভূতি ভাগ করে নেয়া, এমনকি শরিরের ব্যাপারটাও এই ধরনের ভালোবাসা থেকে পৃথক করা যায়না। ভালোবাসা বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন: নিস্কাম ভালোবাসা, ধর্মীয় ভালোবাসা, আত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদি। প্রকৃত অর্থে ভালবাসা দু’ ধরনের হয়ে থাকে (১) বৈধ ও পবিত্র (২) অবৈধ ও অপবিত্র । বিবাহের পূর্বে আধুনিক যুবক-যুবতীরা যে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকেই অবৈধ ও অপবিত্র ভালবাসা বলে। আর পবিত্র ভালবাসা বলতে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ভালবাসা, সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার ভালবাসা,স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসা ইত্যাদিকে বুঝায়। আল্লাহপাক কুরআন শরিফে এরশাদ করেন,‘যারা ঈমানদার মুমিন, তাদের অন্তরে আল্লাহর মহব্বত ভালবাসা হবে সর্বাধিক প্রগাঢ়।’ (সুরা বাকারা/১৬৫) নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘কোনো লোক পূর্ণ মুমিন হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না সে নিজের জীবন এবং পরিবার পরিজনের চেয়ে আমাকে বেশী ভালবাসবে।’ কোরআন ও হাদীসের উপরোক্ত উদ্ধৃতি দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তার রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য তথা ফরয। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ভালবাসার অর্থ হচ্ছে তার সুন্নত ও আদর্শের অনুসরণ করা। আল্লাহ ও রাসূলের পরেই রয়েছে মাতা-পিতার প্রতি মহব্বতের ফযিলত। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সে ব্যক্তি নিপাত যাক! সে ব্যক্তি নিপাত যাক! সে ব্যক্তি নিপাত যাক! সাহাবারা আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, মাতা-পিতাকে জীবিত পেয়েও তাদের সেবা-যতœ করে যে জান্নাত খরিদ করেনি। এ ছাড়া মাতা-পিতার দুআ সন্তানের জন্য অনিবার্যভাবে কবুল হয়।
শরিয়তের দৃষ্টিতে ভালবাসাঃ
সবধরণের অশ্লিলতা-বেহায়াপনা তথা গুনাহের দরজাগুলো বন্ধ করার জন্য শরিয়ত এসেছে। যা কিছু মানুষের মনোজগৎ ও বিচার-বিবেচনা শক্তিকে নষ্ট করে দেয়ার মাধ্যম তা বন্ধ করার জন্য শরিয়ত সকল ব্যবস্থাই গ্রহণ করেছে। আর প্রেম ভালোবাসা, নর-নারীর সম্পর্ক, সব চেয়ে বড় ব্যাধি। এ প্রসঙ্গে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ রা. বলেন, ‘ইশক বা প্রেম একটি মানসিক ব্যাধি। আর যখন তা প্রকট আকার ধারণ করে শরীরকেও তা প্রভাবিত করে। সে হিসেবে তা শরীরের পক্ষেও ব্যাধি। মস্তিষ্কের জন্যও তা ব্যাধি। এ-জন্যই বলা হয়েছে, এটা একটা হৃদয়জাত ব্যাধি। শরীরের ক্ষেত্রে এ ব্যাধির প্রকাশ ঘটে দুর্বলতা ও শরীর শুকিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে।’ (মাজমুউল ফাতওয়া: ১০/১২৯) তিনি আরও বলেন, ‘পরনারীর প্রেমে এমন সব ফাসাদ রয়েছে যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেও গুনে শেষ করতে পারবে না। এটা এমন ব্যাধির একটি যা মানুষের দীনকে নষ্ট করে দেয়। মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনাকে নষ্ট করে দেয়, অতঃপর শরীরকেও নষ্ট করে।‘ (মাজমুউল ফাতওয়া: ১০/১৩২) বিপরীত লিঙ্গের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার ক্ষতি জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এটা হলো হৃদয়ের বন্দিদশা, আর প্রীতিভাজনের জন্য দাসত্ব, প্রেম-ভালোবাসা অসম্মান, অপদস্থতা ও কষ্টের দরজা। এগুলো একজন সচেতন মানুষকে এই ব্যাধি থেকে দূরে সরাতে যথেষ্ট। আর বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভালোবাসা ওই হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে না যে হৃদয়েআল্লাহর ভালোবাসা ভর্তি রয়েছে। সে-তো কেবল ওই হৃদয়েই স্থান পায় যা শূন্য, দুর্বল, পরাস্ত। এধরনের হৃদয়েই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ভালোবাসা স্থান পায়। আর এটা যখন শক্তিশালী পর্যায়েপৌঁছে, প্রকট আকার ধারণ করে তখন কখনো আল্লাহর ভালোবাসাকেও অতিক্রম করে যায় এবং ব্যক্তিকে শিরকের দিকে ঠেলে দেয়। এজন্যই বলা হয়েছে, প্রেমপ্রীতি শূন্য হৃদয়ের আন্দোলন। হৃদয় যখন আল্লাহর মহব্বত ও স্মরণ থেকে শূন্য হয়েযায়, আল্লাহর কাছে দুয়া-মুনাজাত ও আল্লাহর কালামের স্বাদ গ্রহণ করা থেকে যখন শূন্য হয়েযায় তখন নারীর ভালোবাসা, ছবির প্রতি আগ্রহ, গান-বাজনা শোনার আগ্রহ তার জায়গা দখল করে। এমন অনেক মানুষ আছে যে শুরুতে ঢিল দিয়েছে, মনে করেছে যখন ইচ্ছে করবে ফিরে আসতে পারবে, নিজেকে মুক্ত করতে পারবে, অথবা বিশেষ সীমানা পর্যন্তই যাবে। তবে যখন ব্যাধি রগরেশায় অনুপ্রবেশ করেছে, তখন না কাজে এসেছে কোনো ডাক্তারে আর না কোনো ওষুধে।
কবি বলেন, ‘‘প্রেম প্রেম খেলেছে,
এক পর্যায়ে বনে গেছে প্রেমিক।
তারপর প্রেম যখন তাকে করেছে বিজয়
হয়েছে সে অপারগ,
ভ্রমণ হয়েছে বিশাল ঢেউকে ছোট্ট বলে,
ফলে যখন দাঁড়িয়েছে তাতে শক্তভাবে,
গিয়েছে সে চির নিমজ্জনে।’’
রাওজাতুল মুহিব্বিন গ্রন্থে আল্লামা ইবুনল কাইয়্যুম রা. বলেন, ‘যখন কারণটা তার ইচ্ছায় সংঘটিত হয়েছে, তখন এর থেকে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও যা জন্ম নেবে সে ব্যাপারে সে মাযুর নয়, তথা উযর পেশ করার অধিকার সে হারিয়েফেলে। আর এতে সন্দেহ নেই যে বার বার দৃষ্টিনিক্ষেপ করা এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে চিন্তা করে যাওয়া মাদক সেবনের মতোই, অর্থাৎ ব্যক্তিকে কারণ সংঘটিত করার অপরাধেই কেবল অভিযুক্ত করা হয়।’ (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
ব্যক্তি যদি এই মারাত্মক ব্যাধি থেকে দুরে থাকার জন্য আগ্রহী হয়, অতঃপর সে হারাম জিনিস দেখা থেকে দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখে, হারাম কথা শোনা থেকে কান বন্ধ করে রাখে, মনের মধ্যে শয়তান যে কুমন্ত্রণা দেয় তা দুরে সরিয়ে দেয়, এর পরেও যদি এই ব্যাধির অগ্নিকণা তাকে স্পর্শ করে ক্ষণিক দৃষ্টির কারণে, অথবা এমন কোনো লেনদেনের কারণে যা মূলতঃ বৈধ ছিল অতঃপর এভাবে যদি কোনো নারীর প্রতি মহব্বত জন্মে যায়, তাহলে আশা করা যায় কোনো গুনাহ হবে না। আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না। (সূরা বাকারা/২৮৬)
স্বামী-স্ত্রীকে ভালবাসার ফযিলত : হাদীস শরিফে আছে, স্বামী-স্ত্রী মহব্বতের সাথে আলাপ আলোচনা করা কথা-বার্তা বলা নফল ইবাদতের চেড়েউত্তম। অন্যথায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে মহিলা (স্ত্রী) তার স্বামীকে সন্তুষ্ট রেখে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় সে অবশ্যই বেহেশতে প্রবেশ করবে।
সন্তানকে ভালবাসার ফযিলত : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ সন্তান ফাতিমাকে অত্যাধিক ভালবাসতেন। তিনি স্বীয় জবানে এরশাদ করেন, ফাতিমা আমার কলিজার টুকরো, তাকে কেউ কষ্ট দিলে আমাকেই কষ্ট দেয়া হবে। নবিজির পাক জবানের বর্ণনায় ফুটে উঠে যে সন্তানকে ভালবাসা সুওয়াবের কাজ।
পক্ষান্তরে আমাদের সমাজে বেগানা যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণিরা প্রেম-ভালবাসার নামে যে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির উত্তাল সাগরের উর্মিমালার মত বহমান রয়েছে তা সম্পূর্ণ রূপে অবৈধ ও হারাম। বিবাহের পূর্বে এরূপ প্রেম-ভালবাসা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়, অবৈধ। ইসলামের বিধি-বিধান অনুযায়ী কোন যুবতী কোন অবস্থায় কোন যুবর্শের সান্নিধ্যে থাকতে পারেনা।
উমর রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘‘কোন পুরুষ যখন কোন নারির সাথে একান্তে থাকে, তখন তাদের মাঝে তৃতীয় জন হিসেবে উপস্থিত হয় স্বয়ং শয়তান তাদের মাঝে ভাবাবেগকে উৎসাহিত করে এবং উভয়ের মাঝে খারাপ কুমন্ত্রণা দিতে থাকে এবং সর্বশেষে লজ্জাকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটায়। এতে তারা নিজেরা যেমনি কঠিন গোনাগার হবে, তেমনি তাদেরকে এই মেলামেশার সুযোগ দেয়ার কারণে তাদের পিতা-মাতা ও অভিভাকদেরকে হাদীস শরিফে দাইয়ুস বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে যে, দাইয়ুস জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তাই এইসব ব্যাপারে সকলের কঠোরভাবে সাবধান হওয়া জরুরি এবং তা ঈমানের দাবি।
আমাদের সমাজে অনেকে মন্তব্য যে, প্রেম-ভালবাসা নাকি বৈধ, তাদের উক্তি হল যে, প্রেম পবিত্র, ভালবাসা পবিত্র। তাদের এই সব কথা সম্পূর্ণ ভুল, নাজায়িয, অবৈধ, অপবিত্র এবং ইসলাম বিরোধী। ভালবাসা কখনও বৈধ হতে পারে না। বস্তুত: এ ধরনের প্রেম ভালবাসা সম্পর্ক ইসলাম সাপোর্ট করে না। তবে হ্যা যে কেউ তার মনের মত জীবন সঙ্গীনী পছন্দ করে রাখতে পারে বটে। কিন্তু তাই বলে তার সাথে বিবাহের পূর্বে কোন রকম প্রেম-প্রেম খেলা শুরু করতে পারবে না। কেননা বিবাহের ইচ্ছা থাকলেও বিবাহ না করা পর্যন্ত এভাবে প্রেম-ভালবাসা করা গুনাহে কবিরা ও হারাম। এমন কি বিবাহের কথা পাকাপাকি হড়েগেলেও আকদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কোন প্রেম-ভালবাসা জায়িজ নয়। বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী হওয়ার পরই কেবল প্রেম ভালবাসা করতে পারে এবং তা পবিত্র ও ছাওয়াবের কাজ। আল্লাহপাক নারিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমরা জাহেলী যুগের ন্যায় নিজেদের প্রদর্শন করে বাহিরে বের হয়ো না। (আল-কুরআন)
নারী-পুরুষ সংমিশ্রণের বিধানঃ
গায়রে মাহরাম অর্থাৎ যাদের মাঝে বিবাহ বৈধ এমন নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ, নারীদের কর্তৃক তাদের চেহারা ও শরীরের কিছু অংশ উন্মুক্ত করণ অন্যায়, অবৈধ।
আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হুকুম দিয়েছেন তিনি যেন তাঁর স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিন নারীদেরকে পর্দা করার ব্যাপারে নির্দেশ দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ তাদের নিজেদের উপর ঝুলিয়েদেয়, তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়েকাছাকাছি পন্থা হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব/৫৯)। আরও ইরাশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা যখন নবীপতœীদের কাছে কোনো সামগ্রী চাইবে তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র। (সূরা আহযাব/৫৩)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ হাদিসে এসেছে, তিনি বলেছেন: ‘একজন পুরুষ একজন নারীকে নিয়েএকাকী হলেই শয়তান তাদের তৃতীয়জন হয়ে যায়’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,‘স্ত্রী অথবা মাহরাম ব্যতীত কোনো পুরুষ কোনো নারীর কাছে কখনোই রাত্রীযাপন করবে না’।
সে হিসেবে পরিবারের সকল সদস্যের উচিত, আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নে একে অন্যকে সাহায্য করা; যাতে সবাই সত্যিকার অর্থে মুমিন হতে সক্ষম হয়। ইরশাদ হয়েছে,‘আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা ভাল কাজের আদেশ দেয় ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করে। এদেরকে আল্লাহ শীঘ্রই দয়া করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা/৭১)
‘‘আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন পরুষ ও নারীর জন্য নিজদের ব্যাপারে অন্য কিছু এখতিয়ার করার অধিকার থাকে না; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে। (সূরা আহযাব/৩৬) যারা অবৈধ ভালবাসাকে পবিত্র বলতে দুঃসাহস দেখান এবং বলেন প্রেম পবিত্র। শালিনতার সাথে প্রেম করলে তা নাজায়িয হবে কেন? তাদেরকে আবারও বলছি, এটা আপনাদের নিছক মুর্খতা ও সম্পূর্ণ অমূলক ভুল এবং ভুল ধারণা। অবৈধ ভালবাসা কখনো পবিত্র হতে পারে না এবং পবিত্র হবার কোন পথও নেই। যুবক ও যুবতীর ভালবাসা সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম। এক মাত্র বৈবাহিক সম্পর্র্শের পর পরই প্রেম-ভালবাসা পবিত্র হতে পারে। বিয়ের আগে তা পবিত্র নয়, হারাম ও কবিরা গুনাহ। যদি বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েও যায় তবুও এ কাজে লিপ্ত হতে পারবে না যতক্ষণ না আকদ হয়েছে। এমন কি আকদের পূর্ব পর্যন্ত প্রেম সংক্রান্ত গোপন চিঠি আদান প্রদান, দেখা-সাক্ষাত, ফোনে কথা-বার্তা বলা সবই নিষিদ্ধ, কবিরা গুনাহ। তাই আমাদেরকে সঠিকভাবে বাচতে হলে দেশ, জাতি ও পরিবারকে বাঁচাতে হলে এই অবৈধ প্রেম ভালবাসার পথ চিরতরে বন্ধ করতে হবে। তাই আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই এবং যুবসমাজকে সঠিকভাবে বাঁচার জন্য সুন্দর পথ দেখাই।

লেখকঃ প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

আরো সংবাদ

বিশ্বনাথে অজ্ঞাতনামা নারীকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সেই তবারক গ্রেফতার

বিশ্বনাথ এইট ইউকে’র অর্থায়নে গোস্ত, নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

সিলেট চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র পক্ষ থেকে বিশ্বনাথে মাস্ক বিতরণ

যেভাবে ড্রাইভিং ছেড়ে ভূয়া সাংবাদিকতার পথ বেছে নেয় আনোয়ার

সিলেটে আরো ১১ মৃত্যুর দিনে শনাক্ত ৩৩৯

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে বিশ্বনাথে ২ শতাধিক পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ

করোনার সময়েও দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড থেমে নেই -শফিক চৌধুরী

লাইভে অপপ্রচার, বিশ্বনাথে ভূয়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি

‘মনে তোমার অনেক রঙ’ ও ‘আমার শাস্থি চাই’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বিশ্বনাথ পৌর শহরে দিনদুপুরে দুটি বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি

বিশ্বনাথে ২৩ বোতল মদসহ মাদক কারবারি আটক

অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্বনাথের ‘রাজ-রাজেশ্বরী মন্দির’

সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্বনাথে অজ্ঞাতনামা নারীকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সেই তবারক গ্রেফতার

বিশ্বনাথ এইট ইউকে’র অর্থায়নে গোস্ত, নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

সিলেট চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র পক্ষ থেকে বিশ্বনাথে মাস্ক বিতরণ

যেভাবে ড্রাইভিং ছেড়ে ভূয়া সাংবাদিকতার পথ বেছে নেয় আনোয়ার

সিলেটে আরো ১১ মৃত্যুর দিনে শনাক্ত ৩৩৯

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে বিশ্বনাথে ২ শতাধিক পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ

করোনার সময়েও দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড থেমে নেই -শফিক চৌধুরী

লাইভে অপপ্রচার, বিশ্বনাথে ভূয়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি

‘মনে তোমার অনেক রঙ’ ও ‘আমার শাস্থি চাই’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বিশ্বনাথ পৌর শহরে দিনদুপুরে দুটি বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি

বিশ্বনাথে ২৩ বোতল মদসহ মাদক কারবারি আটক

অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্বনাথের ‘রাজ-রাজেশ্বরী মন্দির’