চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের নাম কোটা, পদ্ধতি বাতিল নয় সংস্কার চাই

বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডট কম :: জানুয়ারি - ৮ - ২০১৬ | ৩: ৪৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি 732 বার পঠিত

1935121_1007138796013428_6432099783824500725_nহাবিবুর রহমান হাবিব :: আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বাংলাদেশের আয়তন প্রায় ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিেিলামিটার এবং মোট জনসংখ্যা ১৫৭,৮৩৮১৪৭ (বি.বি.এস), আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা বেশী। মাথাপিছু আয় কম হওয়ার কারনে দারিদ্রতার হারও বেশী। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে চাকরী বা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে। চাকরী বা কর্মসংস্থানের অভাব। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে লেখাপড়া করে একজন স্নাতক (Graduated) ডিগ্রিধারী যখন চাকরী পায় না তখন তার জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠে। লেখাপড়া যেন তখন তার কাছে বৃথা হয়ে যায়। আর ঘুষ সংক্রান্ত জটিলতাতো আছেই। চাকরীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে “কোটা পদ্ধতি” একটি উল্লেখযোগ্য বৈষম্যমূলক সমস্যার নাম। নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৮০ ভাগ নম্বর পেয়ে একজন চান্স পাচ্ছেন না কিন্তু মাত্র ৫০ ভাগ নম্বর পেয়ে শুধু মাত্র “ কোটা পদ্ধতির” সুবিধায় তিনি চান্স পাচ্ছেন। এটাকে অনেকেই বৈষম্যমূলক মনে করেন।
কোটা পদ্ধতি কিঃ- এটা হচ্ছে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে ও দেশের জন্য অবদান রাখা ব্যাক্তিদের জন্য বিশেষ সুবিধা। পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠিকে একই প্লাটফর্মে(Platform)­ নিয়ে আসার বা উন্নয়নের অংশীদার করার এক বিশেষ ব্যবস্থা। তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে এ পদ্ধতি চালু আছে। এগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি। অন্যতায় বৈষম্য তৈরী হয়, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বর্তমানে বাংলাদেশে কোটা পদ্ধতিঃ বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচ ধরনের কোটা পদ্ধতি চালু আছে। এগুলো হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তাদের নাতি-নাতনিদের জন্য ৩০%, নারীদের জন্য ১০%, জেলা কোটা ১০%, উপজাতি কোটা ৫% এবং প্রতিবন্ধিদের জন্য ১%।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাঃ বাংলাদেশের সংবিধানে মানবাধিকার সহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দিষ্ট (specific) বক্তব্য উল্লেখ থাকার কারনে এটি অন্যান্য দেশের সাংবিধান থেকে ব্যতিক্রম (unique), অদ্বিতীয়।
সংবিধানের ১৯নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: “সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন”
২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী”।
২৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: “কেবল ধর্ম, গুষ্টি, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারনে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না”।
২৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : “প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে”।
তবে কিছু কিছু অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ বিধান করার ক্ষেত্রে সংবিধান রাষ্ট্রকে ক্ষমতা প্রদান করেছে। তবে শুধুমাত্র এ বিধানকে সামনে রেখে সুযোগের মাত্রার বিস্তর পার্থক্যের বিরোধিতা করে আসছেন দেশের বিশিষ্টজন থেকে শুরু করে সব শ্রেণীর লোকেরা।
কোটা পদ্ধতির বিভিন্ন বিতর্কিত দিকঃ মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্য সন্তান। এদেশ ও জাতির অস্থিত্বের সাথে তাদের নাম অতপ্রথোভাবে জড়িত। তাই, তাদের প্রাধান্য না দেয়া বা অগ্রাহ্য করা হবে নিজেকে ও নিজের অস্থিত্বকে অস্বীকার করার শামিল। তাই তাদের সন্তান সন্তদির জন্য ৩০% কোটা বরাদ্ধ রাখা অনেকটাই যৌক্তিক, কিন্তু তাদের নাতি-নাতনি বা মুক্তিযোদ্ধার পোষ্যদের এবং একবারের বেশী সুযোগ নেয়াটা অনেকেই অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নারীদের ক্ষেত্রে ১০% সুযোগটি অনেকেই যৌক্তিক মনে করলেও অনেকেই এটাকে নারীদের বর্তমান অবন্থানের প্রেক্ষিতে নতুন করে চিন্তা করার প্রস্তাব করেছেন। কারন নারীরা এখন অনেকাংশেই এগিয়ে। মুক্তিযোদ্ধ পরবর্তি বিংশ শতাব্দিতে নারীদের অবস্থান আর বর্তমান একবিংশ শতাব্দির নারীদের অবস্থানের অনেক পার্থক্য রয়েছে। এছাড়াও জেলা ও উপজাতি কোটার সাথে সরাসরি বিরোধিতা করেছেন সুশীল সমাজ সহ অনেক বিশিষ্ট জনেরা।
তথ্যপ্রযুক্তি ও যেগাযোগ ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে। মুক্তিযোদ্ধ পরবর্তি শতাব্দীর বাংলাদেশ আর বর্তমান শতাব্দীর বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। তাই মুক্তিযোদ্ধের পরবর্তি সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জনগোষ্টিকে চাকরির ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিয়ে উন্নয়নের ¯্রােতে তাদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করার যে উদ্দেশ্য নিয়ে কোটা পদ্ধতি চালু হয়েছিল তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার সময় এসেছে।
এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কিছু কমিয়ে আনা বা একবারের অধিক সুবিধা না রাখা যেতে পারে। নারীদের অংশগ্রহণ অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে। সুতরাং তাদের জন্য বরাদ্ধকৃত কোটাও কমিয়ে আনা যেতে পারে। এছাড়া জেলা ও উপজাতি কোটা নিয়ে অনেকের বিরোধিতা রয়েছে এবং এটার পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রেই যৌক্তিক।
তাই সুশীল সমাজ সহ সর্বমহলের দাবির প্রেক্ষিতে কোটা পদ্ধতিকে নিয়ে চিন্তা করার দাবি এখন সময়ের দাবিতেপরিণত হয়েছে। কোটা পদ্ধতি বাতিল নয়, চাই সংস্কার।
তথ্যসুত্রঃ ধীরাজ কুমার নাথ, সাবেক সচিব ও তত্ত্বাবধায়ক সরাকারের প্রাত্তন উপদেষ্টা, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক মানবকন্ঠ, দৈনিক মানবজমিন।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, আইন ও বিচার বিভাগ, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেট।

আরো সংবাদ

বিশ্বনাথে অজ্ঞাতনামা নারীকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সেই তবারক গ্রেফতার

বিশ্বনাথ এইট ইউকে’র অর্থায়নে গোস্ত, নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

সিলেট চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র পক্ষ থেকে বিশ্বনাথে মাস্ক বিতরণ

যেভাবে ড্রাইভিং ছেড়ে ভূয়া সাংবাদিকতার পথ বেছে নেয় আনোয়ার

সিলেটে আরো ১১ মৃত্যুর দিনে শনাক্ত ৩৩৯

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে বিশ্বনাথে ২ শতাধিক পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ

করোনার সময়েও দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড থেমে নেই -শফিক চৌধুরী

লাইভে অপপ্রচার, বিশ্বনাথে ভূয়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি

‘মনে তোমার অনেক রঙ’ ও ‘আমার শাস্থি চাই’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বিশ্বনাথ পৌর শহরে দিনদুপুরে দুটি বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি

বিশ্বনাথে ২৩ বোতল মদসহ মাদক কারবারি আটক

অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্বনাথের ‘রাজ-রাজেশ্বরী মন্দির’

সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্বনাথে অজ্ঞাতনামা নারীকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সেই তবারক গ্রেফতার

বিশ্বনাথ এইট ইউকে’র অর্থায়নে গোস্ত, নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

সিলেট চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র পক্ষ থেকে বিশ্বনাথে মাস্ক বিতরণ

যেভাবে ড্রাইভিং ছেড়ে ভূয়া সাংবাদিকতার পথ বেছে নেয় আনোয়ার

সিলেটে আরো ১১ মৃত্যুর দিনে শনাক্ত ৩৩৯

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে বিশ্বনাথে ২ শতাধিক পরিবারের মধ্যে অর্থ বিতরণ

করোনার সময়েও দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড থেমে নেই -শফিক চৌধুরী

লাইভে অপপ্রচার, বিশ্বনাথে ভূয়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি

‘মনে তোমার অনেক রঙ’ ও ‘আমার শাস্থি চাই’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বিশ্বনাথ পৌর শহরে দিনদুপুরে দুটি বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি

বিশ্বনাথে ২৩ বোতল মদসহ মাদক কারবারি আটক

অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্বনাথের ‘রাজ-রাজেশ্বরী মন্দির’