বিশ্বনাথের প্রথম অনলাইন পত্রিকা

আজ পবিত্র শবেকদর

imageshfhfআজ ২৬ রমজান। মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) মহিমান্বিত রজনী বা লাইলাতুল কদর তালাশ করার জন্য সম্ভাব্য যে পাঁচটি বেজোড় রাতের উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে আজকের দিবাগত সাতাশের রাতটি অন্যতম। আজ সব মসজিদে মুসল্লিরা রাত জেগে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকবেন। রোজা পালনকারী ঈমানদারগণ চোখের পানি ফেলে কায়মনোবাক্যে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন ও তার স্মরণে গভীর সেজদায় লুটিয়ে পড়বেন। সারারাত নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তওবাহ-তাহলীল, জিকির-আসগার ও দ্বীনি আলোচনায় মশগুল থাকবেন সব মসজিদে। তাছাড়া যারা মসজিদে আসতে পারবেন না তারা বাড়িতে পার্থিব সব ব্যস্ততা ঝেড়ে ফেলে পরওয়ারদেগারের কাছে পানাহ চাইবেন এবং আবদ্ধ থাকবেন প্রভুর ধ্যানে। নারীরাও আজ রাতে ইবাদতে শামিল হবেন।
আমরা জানি রাসুল (সা.)-এর জামানায় নারীরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা ও ঈদের নামাজে হাজির হতেন। এমনকি রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে তাঁবু স্থাপন করে ইতিকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর তালাশও করতেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের নারীরা যদি মসজিদে (নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির জন্য) যেতে চায় তাহলে তোমরা নিষেধ করো না। তবে তাদের জন্য ঘরই উত্তম। কেননা ঘরই তাদের জন্য বেশি পর্দা রক্ষাকারী। এখানে তাদের একাগ্রতা ও নিবিষ্টতা আসবে বেশি। তাছাড়া আজকের রাতে আমাদের আহাল-পরিবার-পরিজন সবারই উচিত আল্লাহর ইবাদতে শামিল হওয়া। কেননা লাইলাতুল কদর এমন একটি রজনী যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম এবং প্রত্যেক কদরপ্রাপ্ত ব্যক্তি সদ্যপ্রসূত শিশুর মতো নিষ্পাপরূপে পরিগণিত হন। এ প্রসঙ্গে কোরআনে আল্লাহতায়ালা ‘কদর’ নামে একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে ‘নিশ্চয় আমি এটি (আল কোরআন) নাজিল করেছি এক মর্যাদাপূর্ণ রাতে। তুমি কি জানো সেই মর্যাদাপূর্ণ রাতটি কি? এই মহিমান্বিত রজনীটি হাজার মাস হতেও উত্তম। এই রাতে ফেরেশতারা ও রূহ অর্থাত্ জিব্রাইল (আ.) তাদের মালিকের সব ধরনের আদেশ নিয়ে (জমিনে) অবতরণ করেন। আর (তারা) শান্তি, (বর্ষণ করতে থাকে) যা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সুতরাং প্রতীয়মান হলো, কদরের রাত এতটাই মর্যাদাপূর্ণ যে, এ রাতে আল কোরআন নাজিল হয়েছে।
যয়নাব বিনতে উম্মে সালমা (রা.) বলেন, রমজানের যখন ১০ দিন বাকি থাকত তখন নবী করিম (সা.)-এর পরিবারের যে কেউ সালাতে দাঁড়াতে সক্ষম হলে তাঁকে তিনি সালাতে না দাঁড় করিয়ে ছাড়তেন না (তিরমিযি, ফতহুল বারী)। মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকে সারা বছরের তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত করতেন এবং প্রায় রাতভর নিজে ইবাদতের মধ্যে কাটাতেন ও পরিবারবর্গকেও নামাজে দাঁড় করাতেন। বায়হাকির বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, দাঁড়িয়ে ও বসে জিকিররত মুমিন বান্দাকে এ রাতে জিব্রাইল (আ.) সালাম দেন এবং ফেরেশতারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটা কদরের; তাহলে ওই রাতে আমি কী বলব? তিনি বললেন, এ দু’আ বলবে, আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফূওউন তুহিব্বুল ‘আফওয়া ফাআফূ আন্নী। ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাময়। তুমি ক্ষমা কর, ভালোবাস। অতএব, আমাকে ক্ষমা করো’ (আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযি, মিশকাত, নাসায়ী, বাইহাকি)।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমসহ দেশের সব মসজিদে রাতব্যাপি বিশেষ ইবাদত বন্দেগী, ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরী মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। পবিত্রতম রজনী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মহিমান্বিত রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র লাইলাতুল কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনি। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কোরান লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পবিত্র কোরআনের শিক্ষা আমাদের পার্থিব সুখ-শান্তির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির পথ দেখায়। তিনি বলেন, সিয়াম সাধনার মাস রমজানের মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর। এই রাতে মানব জাতির পথ নির্দেশক পবিত্র আল-কোরআন পৃথিবীতে নাজিল হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, বরকত ও মাগফেরাত। তিনি এই পবিত্র রজনীতে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, অব্যাহত শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।
এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন।


Endofcontent

Endofcontent
You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!