বিশ্বনাথের প্রথম অনলাইন পত্রিকা

নিখোঁজের তিন বছর পর বৃটেনের হাসপাতালে সন্ধান মিলল বিশ্বনাথের গয়াস মিয়ার

এমদাদুর রহমান মিলাদ :: প্রায় ৩বছর নিখোঁজ থাকার পর যুক্তরাজ্যের রয়েল লনন্ড হাসপাতালে সন্ধান পাওয়া গেছে বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের সারিওল গ্রামের গয়াস মিয়া। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন বাংলাদেশে বসবাসরত তার পরিবার। তবে সন্ধান পাওয়া গেলেও গয়াস মিয়ার সাথে এখনও যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ফরিদ আহমদ রেজা তার ফেসবুক আইডিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গয়াস মিয়া ছবি দিয়ে পরিবারের খোঁজ চেয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। এই স্ট্যাটাসটি গয়াস মিয়ার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন এ প্রতিবেদক। কথা হয় গয়াস মিয়ার স্ত্রী আম্বিয়া বেগম (৬৩) ও বড় পুত্র আতাউর রহমান জন’র সঙ্গে।
আম্বিয়া বেগম জানা- তিনি ও সন্তানদের বাংলাদেশে রেখে প্রায় ১৬ বছর আগে ভিজিট ভিসায় বৃটেনে যান গয়াস মিয়া। এরপর থেকে সেখানে অবস্থান করে আসছেন গয়াস মিয়া। সেখানে যাওয়ার পর আপন বোন রেজিয়া বেগমের বাসায় উঠেন তিনি এবং সেখানে প্রায় ৫বছর থাকার পর শূন্যহাতে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন রেজিয়া বেগম। এরপর বৃটেনের বিভিন্ন স্থানের কাজ করেন গয়াস মিয়া। বৃটেনে অবৈধভাবে অবস্থান করে সামান্য যে টাকা রোজগার করতেন তা থেকে থাকা-খাওয়ার খরচ দিয়ে বাকি টাকা পাঠিয়ে দিতেন স্ত্রী-সন্তানদের কাছে। বৃটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কয়েক বার আবেদন করলেও প্রয়োজনী ডকুমেন্ট না থাকায় তিনি বৈধভাবে সেখানে থাকার সেই সুযোগ পাননি। তবুও আশা ছাড়েননি। একপর্যায়ে প্রায় ৬বছর পূর্বে গয়াস মিয়ার হার্ডে একটি অপারেশন হয়। সেই অপারেশনের পর থেকে তিনি যে টাকা রোজগার করতেন তা দিয়ে থাকা-খাওয়া ও নিজের ঔষধ কিনে শূন্য হয়ে যেতেন। ফলে দেশে কোন টাকা দিতে না পারলেও পরিবারের সাথে যোগাযোগ ছিল নিয়মিত। এর কিছুদিন পর হঠাৎ করে বাংলাদেশে বসবাসরত স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেন দেন গয়াস মিয়া। তাই প্রায় তিন বছর ধরে তিনি কোথায় কিভাবে আছেন তা জানেন না পরিবারের সদস্যরা। এমনকি গয়াস মিয়ার বোন রেজিয়া বেগমের সাথেও যোগাযোগ করতে পারেননি তারা। অসুস্থ আম্বিয়া বেগম নিজের চিকিৎসার সুবিধার্তে দুই পুত্র ও এক মেয়েকে নিয়ে ২০০৬ সাল থেকে সিলেট শহরের রায়নগর এলাকায় একটি ভাড়াটিয়ে বাসায় বসবাস করছেন। তার বড় ছেলে আতাউর রহমান জন (২৭) পেশায় একজন ড্রাইভার ও ছোট ছেলে রুমেল মিয়া (২৪) পেশায় একজন দর্জি এবং ২৩ বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে সিলেট এমসি কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্রী। বর্তমানে জন ও রুমেলের রোজগার দিয়েই কোনমতে চলছে তাদের পরিবার।
এমতাবস্থায় সম্প্রতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা তার ফেসবুক আইডিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গয়াস মিয়া ছবি দিয়ে পরিবারের খোঁজ চেয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন- যুক্তরাজ্যের হোয়াইটচ্যাপেল রয়েল লন্ডন হাসপাতালের ১১ নম্বার ওয়ার্ডের ১৯ নম্বার বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন গয়াস মিয়া। তিনি ভালভাবে কারো সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। এমনকি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করাও কেউ নেই।
গয়াস মিয়ার বড় পুত্র আতাউর রহমান জন বলেন- প্রায় তিন বছর ধরে আমার পিতা কোথায় এবং কিভাবে আছে আমরা তা জানি না। ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে আছেন। আমরা কিভাবে উনার (গয়াস) সাথে যোগাযোগ করবো তাও বুঝতে পারছি না। আমরা আমাদের পিতাকে কাছে পেতে চাই।

AFTER NEWS
You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.