শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বনাথে সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণের জন্য ইউএনও’র দুঃখ প্রকাশ  » «   বিশ্বনাথে প্রবাসীর কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক চেয়ারম‌্যান আবারক গ্রেপ্তার  » «   বিশ্বনাথে নরশিংপুর সাজ্জাদুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ‌্যালয়ে সাধারণ সভা  » «   বালাগঞ্জে শিলাবৃষ্টিতে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি  » «   বিশ্বনাথে সানশাইন মডেল একাডেমিতে পিঠা উৎসব ও প্রবাসীদের সংবর্ধনা  » «   বিশ্বনাথে নিরব ভাই ভাই স্পোটিং ক্লাবের ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন  » «   বিশ্বনাথ আ’লীগের সাংগঠনিক সুমনের পিতার দাফন সম্পন্ন  » «   সেবার অঙ্গীকার নিয়ে ৫ম বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের যাত্রা শুরু  » «   বিশ্বনাথ উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমনের পিতার ইন্তেকাল  » «   বিশ্বনাথে গুণীজন সংবর্ধনা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ  » «   লন্ডনী কন্যা সেজে শিউলির প্রতারণা  » «   মুজিবনগর দিবসে বিশ্বনাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভা  » «   অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বনাথের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ  » «   বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব থেকে অসিত রঞ্জন দেব বহিস্কার  » «   বিশ্বনাথে কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড বাড়িঘর : ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি  » «  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস আজ

বিশ্বনাথনিউজ২৪ :: বাংলা ও বাঙালীর কাছে জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি অমর নাম। এই নামের সাথে জড়িয়ে আছে একটি দেশের জন্মকথা, একটি জাতির ইতিহাস। এই নামের ইতিহাস থাকবে মহাকাল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এ বাঙালীর অবদানের পাশাপাশি তাঁর জন্মের তিথিও চিরজাগরুক থাকবে বাঙালীর প্রাণের স্পন্দনে। আজ সেই ১৭ মার্চ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী, জাতীয় শিশু দিবস।
১৯২০ সালের এ দিন হাজার বছরের শৃঙ্খলিত বাঙালীর মুক্তির দিশা নিয়ে জন্ম নিয়েছিলেন মুজিব নামের এক আলোক শিখা। এই আলোক শিখা ক্রমে ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র, নিকষ কালো অন্ধকারের মধ্যে পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত করতে পথ দেখাতে থাকে পরাধীন জাতিকে। অবশেষে বাংলার পূর্ব আকাশে পরিপূর্ণ এক সূর্য আবির্ভূত হয়, বাঙালী অর্জন করে মুক্তি। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আজ নেই, কিন্তু সে সূর্যের প্রখরতা আগের চেয়েও বেড়েছে অনেকগুণ। সেই সূর্যের প্রখরতা নিয়েই বাঙালী জাতি আজ এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে। এগিয়ে চলছে দেশ। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের অজপাড়াগাঁ মধুমতি আর বাঘিয়ার নদীর তীরে এবং হাওড়-বাঁওড়ের মিলনে গড়ে ওঠা বাংলার অবারিত গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় শেখ পরিবারে জন্ম নেয়া খোকা নামের শিশুটি কালের আবর্তে হয়ে উঠেছিলেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালীর ত্রাণকর্তা ও মুক্তির দিশারী। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ এবং জনগণের প্রতি মমত্ববোধের কারণে পরিণত বয়সে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা। এক বর্ণাঢ্য সংগ্রামবহুল জীবনের অধিকারী এই নেতা বিশ্ব ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে। পরাধীনতার জিঞ্জির ছিঁড়ে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাকামী বাঙালীর দীর্ঘ ৯ মাস মৃত্যুপণ যুদ্ধের অনিবার্য পরিণতি হিসেবে অর্জিত হয়েছিল মহামূল্যবান স্বাধীনতা। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান এবং অসংখ্য মা-বোনের স¤্র¢মের বিনিময়ে বাঙালী জাতি অর্জন করে তাদের হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন প্রিয় স্বাধীনতা। বিশ্বের মানচিত্রে স্থাপন করে সার্বভৌম বাংলাদেশ, নিজস্ব লাল-সবুজ পতাকায় আচ্ছাদিত হয় বাঙালীর হৃদয়। বঙ্গবন্ধুর আজীবন সংগ্রাম ও দূরদর্শী নেতৃত্বেই পৃথিবীর মানচিত্রে সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। পূর্ণতা পায় ভাষাভিত্তিক বাঙালী জাতীয়তাবাদ। পাকিস্তানী শাসকদের শোষণ-বঞ্চনা, ঔপনিবেশিক লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে বাঙালী জাতিকে মুক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পাকিস্তানী জল্লাদরা কারাবন্দী রেখে কবর খুঁড়েও যাঁকে হত্যা করার সাহস পায়নি; অথচ স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সেই হিমালয়সম ব্যক্তিত্বের অধিকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একাত্তরের পরাজিত শক্তির ঘাতকরা হত্যা করে ক্ষমতার পালাবদল করেছিল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের হয়ে কাজ করা ঘাতকচক্রের বুলেটে সেদিন ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের হৃৎপিন্ড। কিন্তু তার পরও একটি জাতি ও অবহেলিত মানুষের মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে বঙ্গবন্ধু শুধু দেশে নয়, সারাবিশ্বেই ইতিহাস হয়ে রয়েছেন। সেই ইতিহাস হয়ে থাকবেন মহাকাল। নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও দেশের মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কারণে বাঙালী জাতির পিতা উপাধি অর্জন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যাঁরা মহানায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁদের মধ্যে অন্যতম। সাম্য, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার বিরামহীন সংগ্রামে অবিস্মরণীয় ভূমিকার কারণে বঙ্গবন্ধু ভূষিত হয়েছিলেন নোবেল খ্যাত বিশ্বশান্তি পরিষদের ‘জুলিওকুরি’ পদকে। বিশ্বের কোটি কোটি বাঙালীর হৃদয়ের মণিকোঠায় বঙ্গবন্ধু যে অমলিন, তার প্রমাণ মেলে সারাবিশ্বের বাঙালীর ওপর পরিচালিত বিবিসির জরিপে। সারাবিশ্বের বাঙালীর শ্রদ্ধাঞ্জলিতে বঙ্গবন্ধু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠতম বাঙালী হিসেবে নির্বাচিত হন। টুঙ্গিপাড়া গ্রামেই খোকা থেকে জাতির পিতায় পরিণত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমান ধন-ধান্য পুষ্পে ভরা শস্য শ্যামল রূপসী বাংলাকে দেখেছেন। আবহমান বাংলার আলো-বাতাসে লালিত ও বর্ধিত হয়েছেন। তিনি শাশ্বত গ্রামীণ সমাজের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ছেলেবেলা থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। শৈশব থেকে তৎকালীন সমাজ জীবনে বঙ্গবন্ধু জমিদার, তালুকদার ও মহাজনদের অত্যাচার, শোষণ ও প্রজাপীড়ন দেখেছেন। গ্রামের হিন্দু, মুসলমানদের সম্মিলিত সামাজিক আবহে তিনি দীক্ষা পান অসাম্প্রদায়িকতার। বস্তুত সমাজ ও পরিবেশ তাঁকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের সংগ্রাম করতে শিখিয়েছে। তাই পরবর্তী জীবনে কোন শক্তির কাছে, যে যত বড়ই হোক, আত্মসমর্পণ করেননি; মাথানত করেননি। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়রা খাতুনের তৃতীয় সন্তান। ৭ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী গিমাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি মাদারীপুর ইসলামিয়া হাইস্কুল, গোপালগঞ্জ সরকারী পাইলট স্কুল ও পরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল লেখাপড়া করেন। মাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনার সময় বঙ্গবন্ধু বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হলে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর চোখের অপারেশন হয়। এ সময় কয়েক বছর তাঁর পড়াশোনা বন্ধ থাকে। ১৯৪২ সালে তিনি ম্যাট্টিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে কলকাতায় গিয়ে বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন এবং সুখ্যাত বেকার হোস্টেলে আবাসন গ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি বিএ পাস করেন। শেখ মুজিবুর রহমান এ সময় ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সময়ই তিনি শীর্ষ রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিমের মতো নেতাদের সংস্পর্শে আসেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের একমাত্র চাওয়া-পাওয়া। যার জন্য জীবনে তিনি জেল-জুলুম-হুলিয়া কোন কিছুরই পরোয়া করেননি। দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রাম তিনি শত যন্ত্রণা, দুঃখ, কষ্ট-বেদনা সহ্য করেছেন, ফাঁসির মঞ্চও যাঁর কাছে ছিল তুচ্ছÑ তিনি হচ্ছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী শেখ মুজিবুর রহমান। ‘৭৫ পরবর্তী ইতিহাসের এই রাখাল রাজার নাম মুছে ফেলার অনেক ষড়যন্ত্র চক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের সকল ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ হয়েছে। কারণ বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব। ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ এবং সরকারী ছুটি ঘোষণা করে। কিন্তু ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেই বিএনপি ছুটি বাতিল করে দেয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার আবারও সরকারী ছুটি ঘোষণা করে। তাই, আজ সরকারী ছুটির দিন। যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবেই পালন করা হচ্ছে। প্রগতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীসহ জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াইয়ের দুর্জয় প্রেরণা, ইস্পাতকঠিন প্রত্যয় আর সকল ষড়যন্ত্রের অন্ধকার ভেদ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকরের দৃপ্ত শপথ নিয়ে বাঙালী আজ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দিনটি পালনে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গসংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, র‌্যালী রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ