মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বনাথে জঙ্গিবাদ সচেতনতায় দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনাথ থেকে স্কুলছাত্র নিখোঁজ  » «   আ’লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্বনাথে র‌্যালী-সভা  » «   বিশ্বনাথের পশ্চিম ধলিপাড়া গ্রামের পানি নিষ্কাশনে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে স্মারকলিপি  » «   কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২ : আহত ২৫০  » «   বিশ্বনাথের সড়কগুলো সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন  » «   বিশ্বনাথে হেক্সাস’র সার্টিফিকেট বিতরণ  » «   বিশ্বনাথে প্রেগনেন্সি টেস্টে ভূল রিপোর্ট : অল্পের জন্য রক্ষা পেল গর্ভের সন্তান  » «   বিশ্বনাথে ভ্রাম্যমান অভিযানে সাড়ে ৯ হাজার জরিমানা আদায়  » «   বিশ্বনাথে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রাস্তার ঝোপঝার পরিস্কার  » «   বিশ্বনাথে উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নুনু মিয়া  » «   বিশ্বনাথে আহমদ আলী স্মরণে উপজেলা আ’লীগের শোকসভা  » «   কৃষকরাই বাংলাদেশের প্রাণের বন্ধু :শফিক চৌধুরী  » «   বিশ্বনাথে প্রবাসীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের পাল্টা অভিযোগ : আদালতে মামলা  » «   সংবাদ প্রকাশের একদিন পরই বিশ্বনাথে সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ  » «  

বাঙালিকে নেতৃত্ব ও মেধা শূণ্য করতে জেল হত্যাকান্ড

এ এইচ এম ফিরোজ আলী :: আজ ৩ নভেম্বর শোকাবহ ও বেদনাবিধুর ৪৪তম জেল হত্যা দিবস। একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধ যেমন বাঙালি জাতীকে মহিমান্বিত করেছে, তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক কালো দিন বা কলঙ্কময় ঘটনা আছে-যে দিন গুলো আমাদের আচ্ছন্ন করে বেদনা ও শোকে, কাঁদতে হয় গোপনে গোপনে। তেমনই বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল কালো দিন গুলোর একটি হলো এই ৩ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ২মাস ২০দিন পর ৩ নভেম্বর মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য ও কলঙ্কময় রক্তঝরা এ দিন। ঐ দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্টে চার জাতীয় নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমদ, মন্ত্রীসভার অন্যতম সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একাত্তুরের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রæরা দেশ মাতৃকার সেরা ও বরেণ্য সন্তান জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মত গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে একাত্তুরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। ইতিহাসের এ নিষ্টুর হত্যা কান্ডের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব বিবেক। কারাগারে থাকাবস্থায় বর্বরোচিত এমন খুনের ঘটনা ইতিহাসে বিরল।
হত্যাকান্ডের পরদিন ডিআইজি প্রিজন কাজি আব্দুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করা হয়। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়দা জজ আদালত মো: মতিউর রহমান রায় ঘোষনা করে ২০ জন আসামির মধ্যে ১২ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন, রিসালদার মোসলে উদ্দিন ওরফে হিরন খান, দফাদার মারফত আলী শাহ্, এলডি দফাদার মো: আব্দুল হাসেম মৃধাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। কে এম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, নুরুল ইসলাম মনজু, মেজর অব: খায়েরুজ্জামানকে খালাস প্রদান করেন।
মুজিব নগর সরকার গঠন করে মাত্র ৯ মাসে দেশ স্বাধীন করা এবং বেঈমান খন্দকার মস্তাকের নেতৃত্বে সরকারে যোগদানের প্রস্তাব ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করায় তাঁদেরকে হত্যার মূল কারন বলে ইতিহাসে স্বাক্ষ্য রয়েছে। এ হত্যাকান্ড ছিল জাতীর পিতাকে হত্যার ধারাবাহিকতা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধবংস, বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব ও মেধা শুণ্য করা ছিল জেল হত্যা কান্ডের অন্যতম লক্ষ্য। একই উদ্দেশ্যে ৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দেশ বরেণ্য বুদ্ধিজীবি যারা এ ভুখন্ডকে স্বাধীন করতে চেষ্টা করেছেন জাতীর সেইসব শ্রেষ্ট সন্তানদের হত্যা করে পাকিস্তান ভাঙার প্রতিশোধ নিতে দেশটিকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের আবর্তে নিক্ষেপ করে। এর ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়। বরেণ্য অর্থনীতিবিদ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এসএম কিবরিয়া এবং শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাষ্টার এমপি সহ শত শত উদিয়মান নেতা কর্মীকে হত্যা করেছে প্রতিক্রিয়াশীলরা।
১৫ আগস্টের পর দিন খুনি চক্র তোফায়েল আহমদকে তুলে রেডিও স্টেশনে নিয়ে অমানষিক অত্যাচার চালায়। তখন জেনারেল শফি উল্লাহ ও প্রয়াত সাফায়াত জামিল তাকে বাসায় ফেরত দেন। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি ইএ চৌধুরী জিল্লুর রহমান ও তোফায়েলকে বঙ্গভবনে মোস্তাকের সামনে নিয়ে গেলে তারা দুজন মন্ত্রী সভায় যোগদানের প্রস্তাব মানতে রাজি হননি। ২২ আগষ্ট (১৯৭৫) মস্তাক চক্র জাতীয় চার নেতা সহ বাঙালি বীরদের গ্রেফতার করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাইনে দাঁড় করে গুলি করে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ঘাতকরা কোন কারনে গুলি না করে কারাগারে নিয়ে যায়। খুনি মস্তাক মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও তোফায়েল আহমদকে বঙ্গভবনে নিয়ে তাঁর আনুগত্ব স্বীকার করতে হত্যার ভয় ভীতি দেখায়। ৬ সেপ্টেম্বর পূন:রায় জিল্লুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমদকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কোনে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ৬ দিন বন্দী রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে তোফায়েল ও আবিদুর রহমানকে ময়মনসিংহ এবং জিল্লুর রহমান ও আব্দুর রজ্জাককে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। আবিদুর রহমান ছিলেন ‘দি পিপল পত্রিকার এডিটর,। তোফায়েল আহমদ ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দী থাকাবস্থায় জেলসুপার ছিলেন নির্মলেন্দু রায়। সেনা বাহিনীর একজন মেজর বার বার কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা করলে জেলসুপার অস্ত্র নিয়ে মেজরকে কারাগারে ঢুকতে না দেয়ায় রক্ষাপান তোফায়েল সহ অন্যরা। তোফায়েল আহমদ তাঁর বিভিন্ন স্মৃতিচারণ মুলক লেখায় এমন কথা উল্লেখ করেছেন।
৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঘাতক মোসলে উদ্দিনকে ঢুকতে দেয়ার আগে ডিআইজি প্রিজন টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট মস্তাকের অনুমতি নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ঘটনা বহুল রাজনীতির বিরল স্বাক্ষী লন্ডনের সানডে টাইম্স পত্রিকার সাংবাদিক এ্যান্তনী ম্যাসকার্নহাস তাঁর এক বই এ এসব তুলে ধরে ছিলেন। ভোর ৪ টায় দিকে মস্তাক কর্ণেল রশিদ সহ জেলের ভেতর ঢুকার সম্মতি জ্ঞাপন করে। ফারুক রশিদের পরিকল্পতি পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্য রিসালদার মোসলে উদ্দিন তাঁর দলবল নিয়ে কারাগারে চার নেতাকে খুন করার জন্য ভেতরে প্রবেশ করে। কারাগারের একটি কক্ষে তাউ উদ্দিন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং অপর সেলে ছিলেন মনসুর আলী ও কামারুজ্জামান। তাঁদের দুইজনকে তাজ উদ্দিন আহমদের সেলে একত্রিত করে খুব কাছ থেকে সয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিতে নৃশংসভাবে খুন করা হয় বঙ্গবন্ধুর স্নেহের জাতীয় চার নেতাকে। ৩ জন সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ হারালেও তাজ উদ্দিন আহমদের পেটে ও পায়ে গুলি খেয়ে রক্তক্ষরণের ফলে আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে মারা যান। বর্বর ঘাতক মোসলে উদ্দিন ও তার গ্যাং চলে যাওয়ার আগে সেলটিকে খুব শক্ত করে তালা বদ্ধ করে রেখে যায়। ফলে মৃত্যুর আগে তাজ উদ্দিনের মুখে কেউ এক ফোটা পানিও দিতে পারেনি। সকালে জেনারেল ওসমানী প্রেসিডেন্ট ভবনে গিয়ে খালেদ মোশাররফ, দুই কর্ণেল, প্রাক্তন দুই মেজর দিয়ে কয়েকটি দাবি প্রেসিডেন্ট মস্তাকের নিকট পাঠিয়ে দেন। (১) বঙ্গভবনে অবস্থানরত টাঙ্কগুলোকে নিরস্ত্র অবস্থায় ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যেতে হবে। (২) জেনারেল জিয়ার পরিবর্তে অন্য একজনকে সেনাবাহীনির প্রধানের দায়িত্ব দিতে হবে। (৩) মস্তাক প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন, তবে পররাষ্ট্র নীতির পরিবর্তন করতে হবে। দাবি গুলোর কথা শুনে মস্তাক ক্ষেপে গিয়ে অস্বীকৃতি জানায় এবং এক পর্যায়ে মেজর ডালিম ওসমানীকে খুব কর্কষভাষায় বলে, তাঁদেরকে (অফিসারদের) আত্মসমর্পণ করতে বলুন। আমি জানি আয়ুব খান কেন আপনাকে বৃদ্ধ নকুল বলে ঢাকতেন। কিন্তু জেদ দেখাবার চেষ্টা করবেননা। এসময় মাহবুবুল আলম চাষি বঙ্গভবনে মস্তাকের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করতেন।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমদ, কামারুজ্জামান পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি (১৯৭১) পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিংয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের নেতা, সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপনেতা, তাজ উদ্দিন আহমদ পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা ও কামারুজ্জামান সচিব নির্বাচিত হন। আর প্রাদেশিক পরিষদ নেতা নির্বাচিত হন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। ৬৪তে তাজ উদ্দিন আহমদ আওয়ামীলীগের সংগঠনিক সম্পাদক, ৬৬তে বঙ্গবন্ধু ৬ দফা শেষে সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রথম সহ সভাপতি, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী অন্যতম সহ সভাপতি এবং কামারুজ্জামান নিখিল পাকিস্তান আওয়ামীলীদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৬৮তে কারাবন্দী থাকাবস্থায় সাধারণ সম্পাদক পূন:নির্বাচিত হন তাজ উদ্দিন আহমদ। ছাত্র থাকাকালিন সময়ে সুদক্ষ নেতৃত্বের বিস্ময়কর প্রতিফলন ঘটে সৈয়দ নজরুল ইসলামের চরিত্রে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে থাকাকালে তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে হল সংসদ নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৭-৪৮ সালে সলিমুল্লাহ হলের সহ সভাপতি ও কিছুদিন পর মুসলিম ছাত্রলীগের সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালে তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহের জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ৭২ সাল পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে দেশের সংকটময় মুহুর্তে সৈয়দ নজরুল ইসলাম আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে ৬৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৬৮সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর একজন অন্যতম আইনজীবি ছিলেন। ২৫ মার্চ ৭১ বঙ্গবন্ধু গ্রেফতারের পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ৭২ সালে সংসদের উপনেতা নির্বাচিত হন।
১০ এপ্রিল মুজিব নগর সরকার গঠন ও ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন জাতীয় এ চার নেতা। প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিনের সাথে সুচিন্তিত মত বিনিময় ও সৌহাদ্য পুর্ন সম্পর্কের চিন্তার মাধ্যমে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরকার পরিচালনা করে যুদ্ধকে এগিয়ে নিতে থাকেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বের ফলে আপামর জনতা মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেয় এবং ধীরে ধীরে সূচিত হতে থাকে বিজয়ের ধারা। এ সরকারের দুরদর্শী কর্মকান্ড দ্বারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করা সম্ভব হয়। অক্টোবরে ভারত সফররত তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভের উপস্থিতিতে ইন্দিরা গান্ধির কাছে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদশের স্বীকৃতি দাবি করেন। ৬ ডিসেম্বর ভারত স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয়। পরের দিন ভারতীয় বাহিনী মুক্তিবাহীনির সঙ্গে যৌথভাবে অংশ নেয় এবং ৭ ডিসেম্বর যশোর সেনা নিবাসের পতন হয় এবং যশোরে ছুটে আসেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ৭১ সালের ১৮ ফেব্রæয়ারী ঐতিহাসিক ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়িতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় চার নেতা সহ সকলকে সানিভিলা, ২১ রাজেন্দ্র রোর্ড নর্দান পার্ক ভবানিপুর কলকাতা এ ঠিকানা মুখস্ত করালেন। তিনি জানালেন পাকিস্তানি ভুট্রো ইয়াহিয়া ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা ক্ষমতা দেবেনা। দেশ আক্রান্ত হলে এটাই হবে তোমাদের ঠিকানা। এখান থেকে মুক্তিযুদ্ধ সংগটিত করবে। বঙ্গবন্ধু সেখানে সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। কলকাতা ৮নং থিয়েটার রোডে প্রবাসি বা মুজিবনগর সরকারের রাজধানি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসস্থান ছিল। জাতীয় পরিষদের সদস্য চিত্ত রঞ্জন সুতার ও ড. আবু হেনাকে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু তাদের আগেই কলকাতা পার্টিয়ে দিয়েছিলেন। অফিস কক্ষের পাশেই থাকতেন তাজ উদ্দিন আহমদ। তিনি নিজের কাপড়-চোপড় নিজেই ধুতেন, আহার নিদ্রা ত্যাগ করে স্বধীনতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দিলেন। দেড় বছরের একমাত্র শিশুপুত্র সুহেল তাজ রুগাক্রান্তে খবর পেয়ে দেখতে যাননি। তাঁর পুত্রকে অন্য সবার পুত্রের সমান করে দেখেছেন। তাঁর মতে যুদ্ধের সময় তাঁর কাছে সব শিশুই ছিল সমান। মহান এই নেতার জীবন দর্শন যে কোন জাতীর জন্য অনুস্মরণীয় হতে পারে। এম মনসুর আলী ছিলেন গণ মানুষের নেতা, তিনি একজন পেশাজীবি হিসেবেও সফল ছিলেন। রাজনীতিতে খুব অল্প সময়েই ব্যক্তিগত চারিত্রিক মাধুর্য্য ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে সবার মন কেড়েছেন। এম মনসুর আলী বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কামারুজ্জামান ছিলেন ব্যক্তিগত জীবনে খুবই ধার্মিক। তিনি অত্যন্ত ধীরস্থির ও ঠান্ডা প্রকৃতির লোক ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধাবোধ ছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সহ জাতীয় চার নেতার অবদান শুধু উল্লেখ যোগ্য নয় চিরস্মরণীয়ও বটে। তাঁদের অবদান ও বীরত্ব গাঁথা বাংলাদেশের ইতিহাস বিশ্বে স্মরণীয় হয়ে আছে। বাঙালি জাতির জন্য জাতীয় চার নেতার মৃত্যুর ক্ষতি ছিল অপূরণীয়।

লেখক: কলামিষ্ট ও সমাজ বিশ্লেষক।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ