বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বনাথে আলহাজ্ব তাহির আলী উচ্চ বিদ‌্যালয়ে কার্যকরী কমিটির প্রতিবাদ সভা  » «   সিলেট-২ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন ফরম কিনলেন ইলিয়াসপত্নী লুনা  » «   সিলেট-২ আসনে নৌকার কান্ডারী হতে চান যারা….  » «   সিলেট-২ আসনে চলছে মনোনয়ন লড়াই  » «   বিশ্বনাথে যুবলীগ নেতা রুহেল খান সংবর্ধিত  » «   বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা  » «   বিশ্বনাথে প্রশাসনের উদ্যোগে বিলবোর্ড অপসারণ  » «   প্রধানমন্ত্রীর দোয়া নিয়ে মনোনয়ন কিনলেন মাশরাফি  » «   নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট  » «   ইয়াহ্ইয়া চৌধুরীকে পুনরায় এমপি নির্বাচিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা  » «   জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন সাকিব-মাশরাফি  » «   বিশ্বনাথে জুয়ার আসর থেকে আ’লীগ নেতা সহ আটক ৯  » «   বিশ্বনাথে বিএনপি নেতা তাহিদ মিয়া চেয়ারম‌্যান গ্রেফতার  » «   বিশ্বনাথে শ্রমিক সুলতান হত্যা মামলায় স্ত্রী’সহ গ্রেফতার ২  » «   বিশ্বনাথে ইউপি চেয়ারম‌্যান রুহেল গ্রেফতার  » «  

বিশ্বনাথে চাঞ্চল্যকর অগ্নিদগ্ধের ঘটনার রহস্য উদঘাটন : গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের রহিমপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের চাঞ্চল্যকর অগ্নিদগ্ধের ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিলেট নগরী থেকে ঘটনার মূলহোতা আরশ আলীকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। আরশ উপজেলার রহিমপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত হুসন আলীর পুত্র। ইতিপূর্বে এঘটনায় একই গ্রামের ফরিদ মিয়ার স্ত্রী রেহেনা বেগম (২৫)’কে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।
পুলিশের হাতে গ্রপ্তার হওয়ার পর ‘২৮ আগস্ট ফারুক মিয়ার ঘরে আগুন দেওয়ার দায় পুলিশের কাছে স্বীকার করে নিয়েছে’ বলে বুধবার দুপুরে বিশ্বনাথ থানা কমপাউন্ডে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) সাইফুল ইসলাম, বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ দুলাল আকন্দ, এসআই স্বাধীন তালুকদার।
সংবাদ সম্মেলনে ওসি শামসুদ্দোহা সাংবাদিকদের জানান, ভিকটিম ফারুক মিয়ার সৎ বোনের স্বামী হচ্ছেন গ্রেপ্তারকৃত আরশ আলী ও সৎ ভাইয়ের স্ত্রী রেহেনা বেগম। সেই সুবাদে ফারুক মিয়ার বাড়িতে রেহেনা বেগমের ঘরে সব সময় যাওয়া করতেন ঘটনার মূলহোতা আরশ আলী। স্বামী ফরিদ মিয়া প্রবাসে থাকাকালীন অবস্থায় রেহেনার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে তাদের বাড়ির ২/৩ জন পুরুষের। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রেহেনার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে আরশ আলী। এরপর থেকে অবাদে রেহেরার সঙ্গে মেলামিশা করতে থাকেন আরশ। কিন্তু এই অনৈতিক কর্মকান্ড দেখে তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না ফারুক মিয়া, তার স্ত্রী চম্পা বেগম, মেয়ে রিপা বেগম ও পুত্ররা। উক্ত বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে একাধিকবার শালিস বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফারুক মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আরশ আলী ও রেহেনা বেগম। তারা ফারুক মিয়ার পরিবারের ক্ষতি সাধন করার চেষ্টা করে ও বিভিন্ন সময়ে হুমকি প্রদান করে। একপর্যায়ে ফারুক মিয়ার ঘরে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা নেয় আরশ ও রেহেনা।
তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার ২দিন আগে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামাল বাজারস্থ (আনন্দ বাজার) হুসিয়ার এন্টার প্রাইজ থেকে ২লিটার পেট্রোল ক্রয় করে নিয়ে আসে আরশ। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক আড়াইটায় ঘটনাস্থলে গিয়ে রেহেনা বেগমের দরজায় কড়া নাড়ে আরশ। এসময় ঘর থেকে বের হয়ে রেহারা ও আরশ পরিকল্পনা অনুযায়ী ফারুক মিয়ার বসতঘরের দরজার ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর কয়েলের আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে আরশ ও রেহেনা লোকমুখে প্রচার করতে থাকে। সেই বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার পরদিন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কয়েলের আগুণ থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিক, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে সেই পুড়া কয়েলের ছাই ও অবশিষ্ট অংশ অক্ষত দেখতে পান এবং অগ্নিদগ্ধ পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য ও সন্দেহজনক লোকরা আত্মগোপন করায় ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হয়। একপর্যায়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় এটি হত্যার উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনা, তাই সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকান্ডের ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে চেষ্টা চালায়। এরপর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার মূল সন্দেহজনক রেহেনা ও আরশের অবস্থান সনাক্ত করে পুলিশ এবং গত ৫ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা থেকে রেহেনা বেগমকে ও গত মঙ্গলবার ৯ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরীতে অভিযান চালিয়ে আরশ আলীকে গ্রেপ্তার করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার এসআই স্বাধীন তালুকদার।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে রেহেনা বেগম ও আরশ আলী ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বলে জানান ওসি। এছাড়া তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সহযোগীতা করায় তিনি সাংবাদিককের ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রহিমপুর পূর্বপাড়া গ্রামের ফারুক মিয়া বসত ঘরের সামনের ষ্টিলের দরজার নিচের ভাঙা অংশ দিয়ে ঘরের ভিতরে থাকা দরজার পাশে রাখা সোফায় আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘর থেকে বাহির হওয়ার চেষ্টা করলে আগুনে দগ্ধ হন ফারুক মিয়া (৫০), তার স্ত্রী চম্পা বেগম (৪৫), মেয়ে রিফা বেগম (১৮), ছেলে এমাদ উদ্দিন (১৪), ইমরান আহমদ (১২), নিজাম উদ্দিন (১০)। তাদের আত্মচিৎকারে পাশের ঘরে থাকা ফারুক মিয়ার পুত্র রাজু মিয়া ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে আহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ সেপ্টেম্বর সকালে চম্পা বেগম মৃত্যুবরণ করেন। এঘটনায় নিহত চম্পা বেগমের ভাই, উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের মৃত আবদুল মছব্বিরের পুত্র সফিক মিয়া বাদি হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২১)।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ