শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বনাথ ব্লাড সোসাইটি’র সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালিত  » «   বিশ্বনাথে সাজ্জাদুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন  » «   সবাইকে শতভাগ খাঁটি দেশ প্রেমিক হতে হবে -শফিক চৌধুরী  » «   শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় বিশ্বনাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন  » «   বিশ্বনাথে গাড়ি দূর্ঘটনায় যুবক নিহত  » «   বিশ্বনাথের রামপাশায় তাফসীরুল কুরআন সংস্থা’র উদ্যেগে ফ্রি খতনা প্রদান  » «   বিশ্বনাথে ১৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন সম্পন্ন  » «   উপজেলা নির্বাচন : বিশ্বনাথের ৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, ১৫ প্রার্থীর বৈধ  » «   বিশ্বনাথের ১০টি হাওর-খাল পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান  » «   বিশ্বনাথে সিদ্ধ বকুলতলায় অন্তর্ধান মহোৎসবে মানুষের ঢল  » «   বিশ্বনাথে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস-ব্যাগ-ছাতা বিতরণ করলেন শফিক চৌধুরী  » «   বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩ পদে ২২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল  » «   বিশ্বনাথে ভাইস-চেয়াম্যান প্রার্থী জুবেল আহমদের মনোনয়নপত্র জমা  » «   বিশ্বনাথে ভাইস-চেয়াম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল আহমদ  » «   বিশ্বনাথে চেয়ারম্যান প্রার্থী সুহেল আহমদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র জমা  » «  

বিশ্বনাথে রুমী হত্যাকান্ডে গ্রেফতারকৃত ৪ জনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের বিশ্বনাথে কিশোরী রুমী আক্তারকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত শফিক মিয়া (৩২) হত্যাকান্ড ও ধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালতে গ্রেফতারকৃত শফিক মিয়া, তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হিরা (২৪), তার দুই ভাবী দিপা বেগম (৩২) ও লাভলী বেগম (২৫) কে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়।

জবানবন্দী শেষে আদালত তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্বনাথ থানার পুলিশ পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ দুলাল আকন্দ।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ৯টায় উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের পাঠাকইন গ্রামের জনৈক তবারক আলীর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে অজ্ঞাতনামা হিসেবে রুমী আক্তারের লাশ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানার পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিনের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌছে লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার ৭ দিনের মাথায় অজ্ঞাতনামা ওই কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। এরপর বুধবার (১৯সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান পিপিএম ও বিশ্বনাথ থানায় ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম প্রেস ব্রিফিং করেন।

এসময় তারা বলেন- অজ্ঞাতনামা ওই কিশোরীর গলায় প্যাঁচানো ওড়নার দুই পাশের দুই মাথায় পলিথিন দ্বারা মোড়ানো সাদা কাগজে লেখা দুটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরেই ঘটনার তদশেন্ত নামে পুলিশ। ঘটনাচক্রে পুলিশ ওই ঘটনার সাথে গত ১৭ মাস আগে একই জায়গায় আরো একটি হত্যাকান্ডে মিল পায়। তদন্তের এক পর্যায়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বনাথ থানা পুলিশ লাশের সাথে পাওয়া মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে মামলার অগ্রগতির দিকে এগুতে থাকে।

এরপর টাঙ্গাইল থানার কুমুদিনি হাসপাতাল থেকে রুমী আক্তার নামের এক রোগী নিখোঁজের সূত্র ধরে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে- অজ্ঞাতনামা লাশটি রুমী আক্তার, সে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার নগরভাত আউতপাড়া গ্রামের মো. আতাউর রহমানের মেয়ে। তদন্তের একপর্যায়ে মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানায় নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরী থেকে শফিক মিয়াকে আটক করে পুলিশ। সে বিশ্বনাথ থানাধীন রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ওহাব উল্লার পুত্র।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়- ‘থেলাসেমিয়া রোগে’ আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে রুমী আক্তার। রুমীর পাশের বেডেই চিকিৎসাধীন ছিলেন ঘাতক শফিকের আরেক শাশুড়ী। আর গত ৪ সেপ্টেম্বর শাশুড়ীর চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিতে গিয়েই রুমী আক্তারের সাথে পরিচয় হয় লম্পট শফিক মিয়ার। আর এই পরিচয় থেকেই শফিকের প্রেমের ফাঁদে পড়েন রুমি আক্তার। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫.১১ মিনিটের কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে নিয়ে বের হয়ে রুমী বেগমকে সাথে নিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে নিজ বাড়িতে উঠেন শফিক মিয়া। ছোট ভাবী লাভলী বেগম ঘরের দরজা খুলে তাদেরকে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতে দেন।

বিশ্বনাথে আসার পর শফিকের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ দেখে রুমী চটপট করতে থাকে। এসময় শফিক রুমীর মুখ-হাত বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিলেও শফিকের চিন্তাভাবনায় ছিল অন্য বিষয়। তাই আরোও কয়েকবার সে (শফিক) রুমীকে ধর্ষণ করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাত-পা বেঁধে নিজেদের বসত ঘরের পিছনে থাকা খালে ডুবিয়ে রুমীকে শফিক হত্যা করে এবং সন্ধ্যার পর রুমীর মরদেহটি স্থানীয় তবারক আলীর বাড়ির রাস্তায় রেখে সে (শফিক) পালিয়ে প্রথমে ছাতকে থাকা নিজের বোনের বাড়িতে যায়, এরপর সে পুনরায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরেস্থ নিজ কর্মস্থল ‘নাসির গ্লাস ফ‌্যাক্টরী’তে চলে যায়।

অন্যদিকে, এঘটনায় অন্য কাউকে ফাঁসিয়ে দিয়ে শফিককে বাঁচানোর চেষ্ঠা করায় তার দুই ভাবী দিপা বেগম ও লাভলী বেগমকে এবং ওসি’কে ফোন করে হত্যাকান্ড ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকায় সফিক মিয়ার স্ত্রী সোনালী আক্তার হিরা’কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত শফিক মিয়া একজন নারী পিপাসু ও লম্পট প্রকৃতির লোক। সে মোট ৮টি বিয়ে করেছে। বর্তমানে সে ৪ জন স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছে। একটি গণধর্ষণ মামলার প্রলাতক আসামী হয়ে সে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে সবার অগোচরে নিরীহ মেয়েদেরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একের পর এক হত্যা ও ধর্ষণ করে বেড়ায় এবং হত্যার পর নিরীহ লোকদের ফাঁসিয়ে নিজে আত্মরক্ষার অপচেষ্টা করে।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন- এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় মোট ১৪ জনকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ