মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
পূজামন্ডপ পরিদর্শনে বিশ্বনাথ অনলাইন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ  » «   বিশ্বনাথে সরকারি রাস্তার গাছ কর্তন  » «   বিশ্বনাথে জাতীয় পার্টি ও পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নিস্পত্তি  » «   বিশ্বনাথে ‘ভূয়া নাগরিক সনদে’ নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বাতিলের দাবীতে মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান  » «   বিশ্বনাথে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে ইউএনও  » «   বিশ্বনাথে শিশু কন‌্যাকে অপহরণকালে জনতার হাতে আটক ১  » «   বিশ্বনাথে অজ্ঞাতনামা নারী হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের জন্য ওসি’কে আদালতের নির্দেশ  » «   বিশ্বনাথে রামপাশা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন  » «   স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত যমজ দুই ভাই মাফী ও শাফী  » «   আলোকিত দেশ গঠনে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই – প্রতিমন্ত্রী মান্নান  » «   বিশ্বনাথে ট্রাক ড্রাইভারকে মারধর করার অভিযোগ : এমপির বিরুদ্ধে মিছিল-পাল্টা মিছিল  » «   বিশ্বনাথে প্রবাসীর উদ্যোগে হুইল চেয়ার ও সেফটি জ্যাকেট বিতরণ  » «   বিশ্বনাথে বিএনপি নেতা আব্দুল হাই গ্রেফতার  » «   বিশ্বনাথে পূজা মন্ডপে এমপি ইয়াহইয়া চৌধুরী সংবর্ধিত ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন  » «   পিস্তল’সহ বিশ্বনাথের যুবক গ্রেফতার  » «  

প্রিয় বাদশা ভাই এখন ওপারের বাসিন্দা

মোঃ রহমত আলী :: সেদিন সকালে মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে প্রথমেই যে ম্যাসেজটি পেলাম তা হলো ‘প্রিয় বাদশা ভাই আর আমাদের মাঝে নেই, অল্প কিছুক্ষণ আগে লন্ডনের সেন্টবাথ হসপিটালে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউওন)।’ গত সোমবার খুব অল্প কথায় এ ম্যাসেজটি মিসবাহ উদ্দিন পাঠালেও এটা যেন বজ্রপাতের মত আচমকা আমার মাথায় আঘাত হানে। আমি দাঁড়ানো থাকলেও ম্যাসেজটি পড়ার পর আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি। সাথে সাথে চেয়ারে বসে পড়ি। এক অজানা আশংকায় যেন আমার সমস্ত শরীর অবশ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। অবচেতনের মত বার বার সে ম্যাসেজটি পড়তে থাকি। আর যতই পড়ি ততই মনের মধ্যে অনেক স্মৃতি ভেসে উঠতে থাকে। আমি তখন অনুভব করতে থাকি স্মৃতি যে কতটুকু বেদনাময় হতে পারে!আমার তখন মনে হয়েছে এ মৃত্যুে সংবাদটির রিয়েকশন যেন আমার আপন ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদের চাইতে কোন অংশেই কম নয়।
মানুষ তার ব্যবহারের মধ্যেমে অন্যের কাছে শুধু আপন হয়ে উঠে না, কোন সময় বন্ধু-বান্ধবদের কাছে আপন ভাইয়ের চাইতেও ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। আমার মনে হয় মদরিছ আলী বাদশা ছিলেন আমাদের কাছে সে রকমই এক আদর্শের প্রতিক। বাদশা ভাই, আমার চাইতে বয়সে অন্তত: দশ বছরের ছোট ছিলেন। কিন্তু তাকে আমি ‘বাদশা ভাই‘ বলে ডাকতাম যেভাবে তার অন্য দুই বড় ভাই তৈমুছ আলী ভাই ও হাছন আলী ভাইকে ডাকি। তিনি তার ব্যবহরের মাধ্যমেই আমাকে এ সম্বোধন করতে বাধ্য করেছিলেন।
মদরিছ আলী বাদশা ছিলেন এক অসাধারণ চরিত্রের অধিকারী মানুষ। একদিকে তিনি ছিলেন বন্ধুবৎসল অন্যদিকে সততা ও ন্যায়পরায়নতার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন আপোষহীন। কোন অন্যায়-অবিচার দেখলে তিনি সাথে সাথেই এর প্রতিবাদ করতেন। তার মধ্যে সবচাইতে বড়গুন ছিল সহজেই মানুষকে আপন করে নিতে পারতেন ও অন্যের অসুবিধায় নিজের কাজ ফেলেও সহযোগিতায় এগিয়ে আসতেন। তবে এটা শুধু তার মধ্যে ছিল যে তা নয়, তাদের অন্যান্য ভাইদের মধ্যেও সেটা বিদ্যমান রয়েছে।
মদরিছ আলী বাদশা ছিলেন, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সভাপতি, বিশ্বনাথ স্পুর্টিং ক্লাবের সভাপতি, বিশ্বনাথ এইড ইউকে এর লাইফ মেম্বার, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন ট্রাস্টের ট্রাস্টিসহ অনেক সামাজিক সংগঠনের সদস্য। মূলত তিনি ছিলেন ব্যবসায়ি। বিলেতের বাঙালী পাড়ার ‘মধুর কেন্টিন’ হিসাকে পরিচিত ‘আলাদিন’ রেষ্টুরেন্ট থেকে শুরু করে বৈশাখী রেস্টুরেন্ট ও বেথনালগ্রীণের একটি গ্রোসারী শপ পর্যায়ক্রমে পরিচালনা করেছেন। তবে এ সমস্ত ব্যবসার পাশাপাশি তিনি সমাজকর্ম ও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন। বন্ধু-বান্ধবদের আড্ডা প্রায় সময়ই তার এ সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লেগেই থাকতো। শুধু বিলেতে নয়, দেশে গেলেও তিনি বন্ধু-বান্ধবদের আড্ডায় সব সময় মেতে থাকতেন। বিভিন্ন সময় তিনি দেশে বিরাট ফুটবল খেলারও আয়োজন করেছেন।যুব সমাজ অপেক্ষায় থাকতো কখন তিনি দেশে যাবেন আর ফুটবল খেলা শুরু হবে। সেই যুব সমাজও আজ তার মৃত্যুতে শোকাহত হবে তাকে আর কোনদিন কাছে না পাওয়ার বেদনায়।
ব্যক্তিগত জীবনে মদরিছ আলী বাদশা ছিলেন তার ৫ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তৃতীয়। তিনি ৩ মেয়ে ও ২ ছেলের জনক। তারা ইস্ট লন্ডনের ফরেস্ট গেইট এলাকায় থাকতেন। তাদের দেশের বাড়ী বিশ^নাথ উপজেলায় পাশর্^বর্তী হরিকলস গ্রামে।
তিনি এবার তার স্ত্রীকে নিয়ে পবিত্র হজ্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। গত ১১ আগস্ট হজে¦ যাওয়ার পর সেখানে হজ¦ পর্ব শেষে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। সাথে সাথে তখন তাকে কিং ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাকে হসপিটালে নেয়া সহ দেশে আত্মীয়-স্বজনের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখেছিলেন একই সাথে হজে¦ যাওয়া বিশ^নাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সেক্রেটারী মিসবাহ উদ্দিন। তার মাধ্যমই অসুস্থতার খবরটি ছবিসহ ম্যাসেজ আমরা পাই। আমরা তখনই আশংকা করছিলাম যে, তিনি কি সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসতে পারবেন। অবশেষে প্রায় ছয় দিন সেখানে থাকার পর কিছুটা সুস্থ হলে গত ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। আমরা তখন কিছুটা আশ^স্ত হয়েছিলাম। তবে এখানে আসার পর আবারো তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হঠাৎ ১০ সেপ্টেম্বর সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি শেষ বিদায় নেন।
তার এ মৃত্যু আকস্মিক হলেও মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ করুণা লাভ করেছেন বলে সবাই মনে করছেন। কারণ পবিত্র হজ¦ব্রত পালন করার সাথে সাথেই তিনি শেষ বিদায় নিয়েছেন। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
গত ১২ সেপ্টেম্বর বুধবার ইস্ট লন্ডন মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান তারেক রহমানসহ বিপুল সংখ্যক লোকজন উপস্থিত হয়েছিলেন। আমি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে তারমত একজন অন্য মানুষের জানাজায় এমন উপস্থিতি আর লক্ষ্য করিনি। আমার মনে হয়েছে যে, তার পরিচিত মহলের অধিকাংশ লোকই যে যেভাবে সংবাদ পেয়েছেন সেভাবেই যানাজায় ছুটে এসেছেন। সবার মূখেই বলতে শুনেছি বাদশা ভাইয়ের প্রশংসার কথা। তার বিভিন্ন স্মৃতির কথা। অনেকে এসময় নিরবে চুখের অশ্রু ফেলেছেন তার জন্য।
মহান আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুন ও আমাদেরকেও সেভাবে চলার ও মানুষের ভালবাসা অর্জনের তওফিক দান করুন। আমিন।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ