মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেট-২ আসনে কে কোন প্রতীক পেলেন..  » «   বিশ্বনাথে ‘ধানের শীষ’র প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন  » «   বিশ্বনাথ মুক্ত দিবস আজ  » «   সহকারী পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেলেন ওসি রফিকুল হোসেন  » «   বিশ্বনাথে অপরাধ নির্মূলের লক্ষে পুলিশ প্রশাসনের মতবিনিময়  » «   সিলেট-২ আসনে বিএনপির চুড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন ইলিয়াসপত্নী লুনা  » «   আ.ন.ম. শফিক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেমুসাস’র সভাপতি নির্বাচিত  » «   খাজাঞ্চী একাডেমী এন্ড উচ্চ বিদ‌্যালয়ে দুই প্রবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়  » «   লুনার বিরুদ্ধে ইসি’তে দায়েরকৃত অভিযোগ খারিজ  » «   নাজিরবাজারে অগ্নিকান্ডে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই : ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি  » «   ওসমানীনগরে ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতি : স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুট  » «   বিশ্বনাথে পূর্ব চান্দসীর কাপন ও বিদাইসুলপানি গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের মতবিনিময়  » «   বিশ্বনাথের প্রীতিগঞ্জ বাজারে পুলিশ প্রশাসনের মতবিনিময়  » «   আপিলেও টিকলো না মুহিব-সরদার’র মনোনয়ন  » «   লুনায় একাট্রা বিএনপি : মহাজোটের প্রার্থী হয়েও এহিয়া’কে লড়তে হবে একা!  » «  

প্রিয় বাদশা ভাই এখন ওপারের বাসিন্দা

মোঃ রহমত আলী :: সেদিন সকালে মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে প্রথমেই যে ম্যাসেজটি পেলাম তা হলো ‘প্রিয় বাদশা ভাই আর আমাদের মাঝে নেই, অল্প কিছুক্ষণ আগে লন্ডনের সেন্টবাথ হসপিটালে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউওন)।’ গত সোমবার খুব অল্প কথায় এ ম্যাসেজটি মিসবাহ উদ্দিন পাঠালেও এটা যেন বজ্রপাতের মত আচমকা আমার মাথায় আঘাত হানে। আমি দাঁড়ানো থাকলেও ম্যাসেজটি পড়ার পর আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি। সাথে সাথে চেয়ারে বসে পড়ি। এক অজানা আশংকায় যেন আমার সমস্ত শরীর অবশ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। অবচেতনের মত বার বার সে ম্যাসেজটি পড়তে থাকি। আর যতই পড়ি ততই মনের মধ্যে অনেক স্মৃতি ভেসে উঠতে থাকে। আমি তখন অনুভব করতে থাকি স্মৃতি যে কতটুকু বেদনাময় হতে পারে!আমার তখন মনে হয়েছে এ মৃত্যুে সংবাদটির রিয়েকশন যেন আমার আপন ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদের চাইতে কোন অংশেই কম নয়।
মানুষ তার ব্যবহারের মধ্যেমে অন্যের কাছে শুধু আপন হয়ে উঠে না, কোন সময় বন্ধু-বান্ধবদের কাছে আপন ভাইয়ের চাইতেও ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। আমার মনে হয় মদরিছ আলী বাদশা ছিলেন আমাদের কাছে সে রকমই এক আদর্শের প্রতিক। বাদশা ভাই, আমার চাইতে বয়সে অন্তত: দশ বছরের ছোট ছিলেন। কিন্তু তাকে আমি ‘বাদশা ভাই‘ বলে ডাকতাম যেভাবে তার অন্য দুই বড় ভাই তৈমুছ আলী ভাই ও হাছন আলী ভাইকে ডাকি। তিনি তার ব্যবহরের মাধ্যমেই আমাকে এ সম্বোধন করতে বাধ্য করেছিলেন।
মদরিছ আলী বাদশা ছিলেন এক অসাধারণ চরিত্রের অধিকারী মানুষ। একদিকে তিনি ছিলেন বন্ধুবৎসল অন্যদিকে সততা ও ন্যায়পরায়নতার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন আপোষহীন। কোন অন্যায়-অবিচার দেখলে তিনি সাথে সাথেই এর প্রতিবাদ করতেন। তার মধ্যে সবচাইতে বড়গুন ছিল সহজেই মানুষকে আপন করে নিতে পারতেন ও অন্যের অসুবিধায় নিজের কাজ ফেলেও সহযোগিতায় এগিয়ে আসতেন। তবে এটা শুধু তার মধ্যে ছিল যে তা নয়, তাদের অন্যান্য ভাইদের মধ্যেও সেটা বিদ্যমান রয়েছে।
মদরিছ আলী বাদশা ছিলেন, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সভাপতি, বিশ্বনাথ স্পুর্টিং ক্লাবের সভাপতি, বিশ্বনাথ এইড ইউকে এর লাইফ মেম্বার, বিশ্বনাথ ইউনিয়ন ট্রাস্টের ট্রাস্টিসহ অনেক সামাজিক সংগঠনের সদস্য। মূলত তিনি ছিলেন ব্যবসায়ি। বিলেতের বাঙালী পাড়ার ‘মধুর কেন্টিন’ হিসাকে পরিচিত ‘আলাদিন’ রেষ্টুরেন্ট থেকে শুরু করে বৈশাখী রেস্টুরেন্ট ও বেথনালগ্রীণের একটি গ্রোসারী শপ পর্যায়ক্রমে পরিচালনা করেছেন। তবে এ সমস্ত ব্যবসার পাশাপাশি তিনি সমাজকর্ম ও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন। বন্ধু-বান্ধবদের আড্ডা প্রায় সময়ই তার এ সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লেগেই থাকতো। শুধু বিলেতে নয়, দেশে গেলেও তিনি বন্ধু-বান্ধবদের আড্ডায় সব সময় মেতে থাকতেন। বিভিন্ন সময় তিনি দেশে বিরাট ফুটবল খেলারও আয়োজন করেছেন।যুব সমাজ অপেক্ষায় থাকতো কখন তিনি দেশে যাবেন আর ফুটবল খেলা শুরু হবে। সেই যুব সমাজও আজ তার মৃত্যুতে শোকাহত হবে তাকে আর কোনদিন কাছে না পাওয়ার বেদনায়।
ব্যক্তিগত জীবনে মদরিছ আলী বাদশা ছিলেন তার ৫ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তৃতীয়। তিনি ৩ মেয়ে ও ২ ছেলের জনক। তারা ইস্ট লন্ডনের ফরেস্ট গেইট এলাকায় থাকতেন। তাদের দেশের বাড়ী বিশ^নাথ উপজেলায় পাশর্^বর্তী হরিকলস গ্রামে।
তিনি এবার তার স্ত্রীকে নিয়ে পবিত্র হজ্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। গত ১১ আগস্ট হজে¦ যাওয়ার পর সেখানে হজ¦ পর্ব শেষে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। সাথে সাথে তখন তাকে কিং ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাকে হসপিটালে নেয়া সহ দেশে আত্মীয়-স্বজনের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখেছিলেন একই সাথে হজে¦ যাওয়া বিশ^নাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সেক্রেটারী মিসবাহ উদ্দিন। তার মাধ্যমই অসুস্থতার খবরটি ছবিসহ ম্যাসেজ আমরা পাই। আমরা তখনই আশংকা করছিলাম যে, তিনি কি সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসতে পারবেন। অবশেষে প্রায় ছয় দিন সেখানে থাকার পর কিছুটা সুস্থ হলে গত ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। আমরা তখন কিছুটা আশ^স্ত হয়েছিলাম। তবে এখানে আসার পর আবারো তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হঠাৎ ১০ সেপ্টেম্বর সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি শেষ বিদায় নেন।
তার এ মৃত্যু আকস্মিক হলেও মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ করুণা লাভ করেছেন বলে সবাই মনে করছেন। কারণ পবিত্র হজ¦ব্রত পালন করার সাথে সাথেই তিনি শেষ বিদায় নিয়েছেন। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
গত ১২ সেপ্টেম্বর বুধবার ইস্ট লন্ডন মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান তারেক রহমানসহ বিপুল সংখ্যক লোকজন উপস্থিত হয়েছিলেন। আমি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে তারমত একজন অন্য মানুষের জানাজায় এমন উপস্থিতি আর লক্ষ্য করিনি। আমার মনে হয়েছে যে, তার পরিচিত মহলের অধিকাংশ লোকই যে যেভাবে সংবাদ পেয়েছেন সেভাবেই যানাজায় ছুটে এসেছেন। সবার মূখেই বলতে শুনেছি বাদশা ভাইয়ের প্রশংসার কথা। তার বিভিন্ন স্মৃতির কথা। অনেকে এসময় নিরবে চুখের অশ্রু ফেলেছেন তার জন্য।
মহান আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুন ও আমাদেরকেও সেভাবে চলার ও মানুষের ভালবাসা অর্জনের তওফিক দান করুন। আমিন।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ