বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেট-৩ আসনের জনগণের উন্নয়নে কাজ করতে চাই : এড. মিসবাহ সিরাজ  » «   বিশ্বনাথে প্রবাসী ইসলাম উদ্দিনের উদ্যোগে অসহায় শিশুদের ফ্রি খতনা প্রদান  » «   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় দিনমজুর আহত  » «   সিলেট বিভাগের মধ্যে ‘ই-নামজারি’ কার্যক্রমে বিশ্বনাথের সফলতা অর্জন  » «   বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী সংবর্ধিত  » «   শিক্ষক নিয়োগে বিশ্বনাথ উপজেলা কৌটায় ভুয়া নাগরিক সনদে বহিরাগতরা  » «   নৌকার বিজয়ে অব্যাহত থাকবে কৃষকদের উন্নয়ন -শফিক চৌধুরী  » «   যারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড দেখতে পান না তারা অন্ধ -ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী  » «   রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদা শাহ আজিজের দাফন সম্পন্ন  » «   সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আজিজ আর নেই  » «   বিশ্বনাথে জাতীয় পার্টিতে শতাধিক নেতাকর্মীর যোগদান  » «   বিশ্বনাথে দেওকলস স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষ আব্দুল মুকিত স্মরণে শোকসভা  » «   বিশ্বনাথে ময়লা পরিস্কার করতে সড়কে ঝাড়ু হাতে শিক্ষার্থীরা  » «   রশিদপুরে স্পীড ব্রেকার-গোল চত্তর-যাত্রী চাউনী নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন  » «   বিশ্বনাথে শ্রমিকলীগের জরুরী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত  » «  

শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে এই দিনে বাঙালির ইতিহাসে এক কালিমালিপ্ত অধ্যায় রচিত হয়েছিল। কতিপয় চক্রান্তকারী সেনাসদস্য ১৯৭৫ সালের এই দিনে নৃশংসভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও স্বাধীনতাসংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে।

১৫ আগস্টের ভোরে সেনাবাহিনীর কয়েকজন বিপথগামী সৈনিকের হাতে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল, ভাগ্নে মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ অনেকে নিহত হন।

ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হলেও দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। সে সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

যা ঘটেছিল ১৫ আগস্টে : ওইদিন ভোরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালায় ঘাতক দল। কলঙ্কজনক ওই হামলার পর ভবনটির প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাচ, মেঝে ও ছাদে রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড়ো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। গুলিতে দেয়ালগুলোও ঝাঁঝরা হয়ে যায়, চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহ পড়েছিল। তার তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। পাশেই পড়ে ছিল তার ভাঙা চশমা ও তামাকের পাইপ।

এছাড়া অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল, মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব, বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, নীচতলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবির ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের লাশ।

স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুরো জীবন ছিল সংগ্রামমুখর। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা মুজিব ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকায় কারাবরণ করেন তিনি। বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফার প্রণেতা মুজিবকে পাকিস্তান আমলে বারবারই কারাবরণ করতে হয়েছে। ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধু, আর ‘৭০ এর নির্বাচনে পুরো পাকিস্তানেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ।

এরপর দীর্ঘ টানাপোড়েনের মধ্যে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এর ২৬ শে মার্চে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হলেও পুরো স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙ্গালির শক্তি-সাহসের মূল প্রেরণা।

শোক দিবসে আয়োজন: প্রতিবছরের মত এবারও পুরো জাতি শ্রদ্ধার সাথে জাতীয় শোক দিবস পালন করবে। এজন্য বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান পৃথক পৃথক ভাবে কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এবারো সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে দিবসটির বিভিন্ন কর্মসূচি। দিবসটিকে ইতোমধ্যেই সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

শোক দিবসে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসনের কর্মসূচী : আজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে উপজেলার সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে (বিআরডিবি হল রোম) জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন, সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে কালো ব‌্যাজ ধারণ করে শোক র‌্যালী, ১০টা ৪৫ মিনিটে বিআরডিবি হল রোমে আলোকচিত্র ও প্রামাণ‌্যচিত্র প্রদর্শন, ১১টা ১৫মিনিটে রচনা-চিত্রাংকন ও আবৃত্তি প্রতিযোগীতা, দুপুর ১২টায় আলোচনা সভা, উপজেলা হাসপাতালে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, মসজিদ-মন্দির-গীর্জা ও অন‌্যান‌্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা। এছাড়া উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যথাযোগ‌্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ