বিশ্বনাথী হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করেন স্পিকার আয়াছ মিয়া
মঙ্গলবার, ১৪ আগষ্ট, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ  » «   বিশ্বনাথে রাস্তায় গেইট নির্মাণ নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ  » «   বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে প্রশাসনিক অনুমোদন  » «   শিক্ষা প্রতিষ্টানে মাদক বিরোধী কমিটির আলোচনা সভা  » «   বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা  » «   বিশ্বনাথে ব্রাক এর ‘উপজেলা মাইগ্রেশন ফোরাম মিটিং’ অনুষ্ঠিত  » «   দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে আ’লীগের বিকল্প নেই -শফিক চৌধুরী  » «   পবিত্র হজ্ব পালন করতে স্বপরিবারে সৌদি আরব গেলেন মিছবাহ উদ্দিন  » «   বিশ্বনাথে উদ্ধারকৃত ২২টি গরু সনাক্ত করতে থানায় জনতার ভিড়  » «   সিংগেরকাছ পাবলিক বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে নবীণ বরণ  » «   বিশ্বনাথে জাতীয় শোক দিবস পালনের লক্ষে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা  » «   বিশ্বনাথে স্বামীর হাতুড়ির আঘাতে স্ত্রী নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের  » «   বিশ্বনাথে ‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জনপদ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক  » «   বিশ্বনাথে ১১টি চোরাই গরু উদ্ধার : আটক ২  » «   জগন্নাথপুরের তিনটি এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের উদ্বোধন  » «  

বিশ্বনাথী হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করেন স্পিকার আয়াছ মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :: যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কৃতি সন্তানরা বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রবাসে দেশের মূখ উজ্জ্বল করছেন। ১৯৭২ সালে যুক্তরাজ্যের ব্রাডফোর্ড কাউন্সিলে বিশ্বনাথের হাজারীগাঁও গ্রামের মনোয়ার হোসেন ১ম বাংলাদেশী ও ১ম এশিয়ান কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টির যে সূচনা করেছিলেন এর ধারাবাহিকতায় তার উত্তরসূরীরা এখনও তা অব্যাহত রেখেছেন। এরই অংশ হিসেবে ১৯৯৪ সালে বিশ্বনাথের আয়েশা চৌধুরী রাখি ১ম বিশ্বনাথী নারী হিসেবে নিউহাম কাউন্সিলে কাউন্সিলর এবং ২০০৪ সালে ওল্ডহাম মেট্রোপলিটন বরা কাউন্সিলে ১ম বাংলাদেশী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন বিশ্বনাথের আব্দুল জব্বার। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১ম বাংলাদেশী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন বিশ্বনাথের রোশনারা আলী। পরপর তিন বার এমপি নির্বাচিত হয়ে বিলাতের মাঠিতে বাংলাদেশ সুনাম অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বিশ্বনাথের পল্লীগাঁয়ে জন্ম নেওয়া রোশনারা আলী। এবারে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক বিশ্বনাথের ৭জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২য় বারের মতো নির্বাচিত কাউন্সিলর মো. আয়াছ মিয়া বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সর্বোচ্চ সমানিত স্পিকার (সিভিক মেয়র) পদে নির্বাচিত হন। লন্ডনের প্রাণ কেন্দ্রে ২০বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে অবস্থিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এলাকার প্রায় ৩লাখ জনসংখ্যার মধ্যে বাংলাদেশী রয়েছেন প্রায় ৩২%।
এই কাউন্সিলে প্রথম বারের মতো বিশ্বনাথের কোন ব্যক্তি হিসেবে স্পিকার বা সিভিক মেয়র পদে অধিষ্টিত হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন কাউন্সিলর মো. আয়াছ মিয়া। বিশ্বনাথের প্রথম ও জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বিশ্বনাথ নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম’ এর সম্পাদক ও প্রকাশক এমদাদুর রহমান মিলাদের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এ অনুভূতি প্রকাশ করেন।
বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের ধরারাই (মোল্লাবাড়ী) গ্রামের আলহাজ্ব মো. আবুল হোসেনের পুত্র কাউন্সিলর মো. আয়াছ মিয়া দেওকলস দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে স্টার মার্ক সহ কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং বিশ্বনাথ কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় যুক্তরাজ্য গমন করেন। যুক্তরাজ্য যাওয়ার পর তিনি একাউন্টিং ও ফাইন্যান্স (হিসাব বিজ্ঞান) বিষয়ের উপর সর্বোচ্চ ডিগ্রী অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে লাভ করে সাথে সাথে একাউন্টিং-এ নিজস্ব প্র্যাকটিস শুরু করেন। সাধারণত ব্রিটেন বা ইউরোপে নিজস্ব প্র্যাকটিস শুরু করতে হলে চার্টার্ড একাউন্টেন্ট শেষ করার পর তিন বছর অন্য একজন চার্টার্ড একাউন্টের অধীনে সম্পূর্ণ সময় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। যে অবস্থানে যেতে হলে ৩৫ বৎসর বয়স লাগে, কিন্ত মো. আয়াছ মিয়া ২৮ বৎসর বয়সে নিজস্ব প্র্যাকটিস শুরু করেন এবং পড়া-লেখাকালীন সময়ে এই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হন। যেটা ব্রিটেনের মত জায়গায় খুব কম সংখ্যক দেখা যায়। ফলে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সর্বনি¤œ বয়সে চার্টার্ড একাউন্টিং হওয়ার গৌরব অর্জন করায় ব্রিটেনে বহুল প্রচারিত চ্যানেল এস (বাংলা টিভি চ্যানেল) কর্তৃক আয়োজিত কমিউনিটি এ্যাওয়ার্ড সম্মানে ভূষিত হন মো. আয়াছ মিয়া। অত্যন্ত কম সময়ে একাউন্টিং সার্ভিস প্রদান করায় ব্রিটেনে ফাইন্যান্স এবং বিজনেস জগতে অল্প দিনের মধ্যেই খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। ব্যবসা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি বর্তমানে তিনি ব্রিটেনের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন।
একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত হয়ে ব্রিটেনের রাজনীতিতে জড়ানোর কারণ জানতে চাইলে স্পিকার মো. আয়াছ মিয়া বলেন, ২০০১ সালে আমি যখন একাউন্টিং প্র্যাকটিস শুরু করি তখন শুধু একাউন্টিং এর জন্য নয়, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লোকজন আমার কাছে আসতেন এবং যারাই আমার কাছে আসতেন আমি তাদের সকলকেই পরামর্শ দিয়ে ও বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করি। জনগণের সেবা করলে যে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় তা মিলিয়ন টাকা দিয়েও পাওয়া যায় না। তাই কমিউনিটিকে ব্যাপকভাবে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কাউন্সিল হতে আমার ইচ্ছে হয়। আর কাউন্সিলর হতে হলে রাজনীতি করতে হয়। তখন সকলের পরামর্শে আমি রাজনীতিতে আসি এবং ২০১০ সালে সক্রিয়ভাবে লেবার পার্টির রাজনীতিতে জড়িত হই। রাজনীতিতে আসার পর আমি আমার কর্ম ও যোগ্যতা দিয়ে পার্টিকে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে, আমার দ্বারা কমিউনিটি লাভবান হবেন। ফলে দল আমাকে মূল্যায়ন করে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে সিলেকশন করে এবং আমি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হই।
দলের কোন পদে দায়িত্ব পালন করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি লেবার পার্টির টাওয়ার হ্যামলেটস জেলা শাখার অডিটর, পপলার (লন্ডন) নির্বাচনী এলাকার মেম্বারশীপ সেক্রেটারী, টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার গ্রæপের আট জনের এক্সিকিউটিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ মিডিয়া এবং কমিউনিকেশন অফিসারের দায়িত্ব পালন করি। এরপর গত কাউন্সিলের বাজেট অধিবেশনে লেবার পার্টির পক্ষ থেকে আমি বাজেট পেশ করি। ২০১৪-২০১৫ সালে স্থানীয় লেবার পার্টির বাজেট স্পুকম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। এছাড়া কাউন্সিলের বিভিন্ন কমিটিতে আমি সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি এবং যুক্তরাজ্য লেবার পার্টির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে আমার অত্যান্ত সু-সম্পর্ক রয়েছে।
কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে উল্লেখযোগ্য কি জনসেবা করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ২২ মে এর নির্বাচনে আমি প্রথম বারের মতো কাউন্সিল নির্বাচিত হই। এরপর ২০১৫ সালের উপ-নির্বাচনে লেবার পার্টির মেয়র জন বিগস্ নির্বাচিত হন এবং তিনি ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কেবিনেট গঠন করেন। ঐ কেবিনেটে আমাকে পরিবেশ ও পরিবহন কেবিনেট সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আমি কেবিনেট সদস্য হিসেবে সংসদের মতো প্রতিটি অধিবেশনে আমি বিভিন্ন কাউন্সিলরদের প্রশ্নের উত্তর দেই এবং বিল উত্তাপন করি। আমার বাজেট ছিলো বৎসরে ৫৬ মিলিয়ন পাউন্ড। অতিরিক্ত বাজেট প্রনয়ণের মাধ্যমে আমি বিভিন্ন সার্ভিসগুলোকে আরো উন্নত করি এবং লন্ডনের অন্যান্য কাউন্সিলে টাওয়ার হ্যামলেটস এর প্রতিনিধিত্ব করি। লন্ডন মেয়র সাদিক খানের সিটি হলের পরিবেশ ও বায়ূ দূষণ উন্নয়নে বিভিন্ন কমিটির মিটিং এ অংশগ্রহন করে টাওয়ার হ্যামলেটসের বায়ূ দূষণ থেকে পরিত্রাণ পেতে সিটি হল থেকে ১মিলিয়ন পাউন্ড আদায় করতে সক্ষম হই। করনার সার্ভিস সেবা ৫দিনের পরিবর্তে ৭দিন করতে আমার যতেষ্ট ভূমিকা ছিলো। ১ম বছর কেবিনেট মেম্বার হিসেবে সফল হওয়ায় ২য় বছরে মেয়রের পক্ষ থেকে আমাকে স্পোর্টস এন্ড ফিজিক্যাল এ্যাকটিভিটিজ এর অতিরিক্ত বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ২০১৭ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে আমাকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর সাথে তাকে গর্ভরনেন্স এন্ড ডেমক্রেটিক সার্ভিসের লীড মেম্বার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই দায়িত্বের অন্যতম হলো নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পূর্ববর্তী কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা তদারকি করা এবং ব্রেকসিটের পরবর্তীতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে কি ধরণের সমস্যা হতে পারে তা চিহিৃত করে তা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে সর্বদলীয় কাউন্সিলর ও বিভিন্ন বিভাগের ডাইরেক্টরদের নিয়ে কমিটি করে একাধিক মিটিং করার মাধ্যমে একটি প্রতিবেদন তৈরী করা। ঐ সকল মিটিং এ লীড মেম্বার হিসেবে আমি সভাপতিত্ব করি।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার বা সিভিক মেয়রের দায়িত্ব কি জানতে চাইলে আয়াছ মিয়া বলেন, যিনি স্পিকার হন তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পাওয়ার সাথে সাথে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে তিনি ফাস্ট সিটিজেন হিসেবে নির্বাচিত হন। স্পিকার কাউন্সিলের সিভিক সাইডের প্রধান হিসেবে বিবেচ্ছ হন এবং কাউন্সিলের প্রতিটি অধিবেশনে তিনি সভাপতিত্ব করেন। প্রতিটি অধিবেশন যাতে সুন্দর ও সঠিক ভাবে চলে এবং সকল দলের কাউন্সিলররা যাতে অধিবেশনের আলোচনায় যাতে অংশগ্রহন করে নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করতে পারেন তা নিশ্চিত করা। বিভিন্ন কাউন্সিলে টাওয়ার হ্যামলেটস’র এম্বেসেডর হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করা। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলকে প্রমোট করা, বিদেশী ভিআইপি অতিথিদেরকে (মন্ত্রী, এমপি ও মেয়র) স্বাগত জানানো এবং তাদেরকে নিয়ে মতবিনিময় করা, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত জাহাজ ও নৌ-বাহিনীদেরকে স্বাগত জানানো। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে কাউন্সিলের প্রতিনিধিত্ব করা, এই কাউন্সিলের এলাকার ভিতরে যারা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান তখন স্পিকার তাদের হাতে সিটিজেন সার্টিফিকেট হস্তান্তর করা, রয়েল ফ্যামেলী থেকে আগত অতিথিদেরকে অভ্যর্থনা জানানো, কাউন্সিল ও কমিউনিটির মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করা ইত্যাদি।
ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে কি স্বপ্ন দেখেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম খুবই মেধাবী। তারা নিজেদের একাডেমীক দিক নিয়েই বেশী ব্যস্ত। বিভিন্ন সেক্টরে তারা ভাল রেজাল্ট করে যাচ্ছেন। ব্রিটেনে ইন্ডিয়ান মেয়র ও পাকিস্তানী কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন। এক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানী কমিউনিটি আমাদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তাই আমি কমিউনিটির যেকোন মিটিং বা যেখানেই যাই সব সময় বলে থাকি, আমরা বাঙ্গালী কমিউনিটি যদি নেতৃত্বের জন্য আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তৈরী করে যেতে না পারি তাহলে এখানে বড় একটি দূরত্ব সৃষ্টি হবে। তাই যাতে ব্রিটেনে আমাদের সন্তানেরা নেতৃত্ব দিতে পারেন সেজন্য এখন থেকেই আমাদের প্রজন্মকে, অন্তত প্রত্যেকটি পরিবারের একজন ছেলে অথবা মেয়েকে ব্রিটেনের রাজনীতি বা সামাজিক কর্মকান্ডে আগ্রহী করে তুলতে হবে।
নিজ জন্মস্থান বিশ্বনাথ উপজেলার জন্য কি করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বনাথে শিক্ষা, চিকিৎসা ও অসহায় মানুষের কল্যাণে আমরা প্রবাসীরা বিভিন্ন ট্রাস্ট ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে বিশ্বনাথে স্থায়ী কিছু কর্মকান্ড করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
আপনি কোন কোন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে বিশ্বনাথ এইড ইউকের সহ-সভাপতি, দশঘর প্রবাসী সোসাইটির উপদেষ্ঠা, দশঘর প্রবাসী ট্রাস্ট ইউকের ট্রাস্টী ও মাদানিয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ট্রাস্টী হিসেবে আছি। এছাড়া হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস্ ফর বাংলাদেশ এর ইউকে শাখার জেনারেল সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
বিশ্বনাথে কেন প্রবাসীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার মো. আয়াছ মিয়া বলেন, বিনিয়োগ করতে হলে একটি পরিবেশ লাগে। যখন অর্থের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিদা থাকে তখন মানুষ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। বিশ্বনাথে যদি গ্যাস ও বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সংযোগ দেওয়া হয় তাহলে প্রবাসীরা বাসা-বাড়ী, শিল্প-কারখানা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহী হবেন বলে আমি মনি করি। আমরা প্রবাসীরা আশাবাদি শীঘ্রই বিশ্বনাথ পৌরসভায় উন্নীত হবে এবং বিশ্বনাথে গ্যাস সংযোগ ও ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন স্থাপন করা হবে।
একজন বিশ্বনাথী হিসেবে নিজের কাছে কেমন অনুভূতি লাগে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যখন বিশ্বনাথের সন্তান হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেই তখন আমার খুবই ভাল লাগে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে প্রথম বারের মতো বিশ্বনাথের কোন সন্তান হিসেবে স্পিকার বা সিভিক মেয়র পদে অধিষ্টিত হতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। এজন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ দেশে-বিদেশে অবস্থানরত আমার বিশ্বনাথবাসীর কাছে। বিশেষ করে ব্রিটেন বসবাসরত বিশ্বনাথের মানুষ তথা বাঙ্গালী কমিউনিটি আমাকে সার্বিক সহযোগীতা করেছেন এবং বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিকবৃন্দ ও সুশিলসমাজ সবসময় ফেসবুকের মাধ্যমে সহযোগীতা করেছেন বা উৎসাহ দিয়েছেন এজন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আশাবাদী ভবিষ্যতেও সকলে আমাকে সহযোগীতা করবেন।
বিশ্বনাথ নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে স্পিকার মো. আয়াছ মিয়া বলেন, এই নিউজ পোর্টালটি খুবই প্রশংসার দাবি রাখে। কারণ একসময়ে আমরা প্রবাসে থেকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ নিজ এলাকার খবরাখবর জানতে অপেক্ষা করতাম। কিন্ত এখন বিশ্বনাথের যে কোন সংবাদ বিশ্বনাথ নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের মাধ্যমে আমরা মুহুর্তের মধ্যেই জানতে পারি। এই পোর্টালটি শুধু বিশ্বনাথই নয় বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে আমি মনে করি। পোর্টালের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত হিসেবে স্পিকার হওয়ার কারণে শীঘ্রই তিনি অফিসিয়াল ভাবে বাংলাদেশ সফরে আসবেন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাৎ করার আশা পোষণ করেন। যাতে মানুষের সেবা করে যেতে পারেন এজন্য তিনি সকলের দোয়া প্রার্থী।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ