বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
ছাতকের সাংবাদিক চান মিয়া’র ইন্তেকাল : বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের শোক  » «   বিশ্বনাথে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করলেন শফিক চৌধুরী  » «   বিশ্বনাথে নেতাকর্মীর সঙ্গে ইলিয়াসপত্নী লুনার মতবিনিময়  » «   বিশ্বনাথে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন এমপি ইয়াহ্‌ইয়া চৌধুরী  » «   দেশ-জাতি ও দলের জন্য ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করতে হবে -শফিক চৌধুরী  » «   ইলিয়াস সন্ধান আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারকে অনুদান প্রদান  » «   বিশ্বনাথে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন ও গৃহহীনদেরকে ইলিয়াসপত্নী লুনার আর্থিক অনুদান প্রদান  » «   বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরবাসীকে মুনতাসির আলীর ঈদ শুভেচ্ছা  » «   বিশ্বনাথ নিউজ ২৪ ডটকমের ঈদ স্মারক ‘উৎসব’র মোড়ক উন্মোচন  » «   অলংকারী ইউনিয়নের ১২শ লোকের মধ‌্যে ভিজিডি’র চাল বিতরণ  » «   বিশ্বনাথ বিএনপির সভাপতির উদ্যোগে ঈদের বস্ত্র বিতরণ করলেন লুনা  » «   সিলেট জেলা পরিষদ সদস‌্য রাজী চৌধুরীর ঈদ শুভেচ্ছা  » «   বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম‌্যান সুহেল চৌধুরী’র ঈদ শুভেচ্ছা  » «   তাহসিনা রুশদী লুনা’র ঈদ শুভেচ্ছা  » «   সাবেক এমপি শফিক চৌধুরী’র ঈদ শুভেচ্ছা  » «  

জগন্নাথপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয় মূখ মানস রায়’র পরলোক গমন

মো: আব্দুল হাই, জগন্নাথপুর: জগন্নাথপুর পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের মন্দির বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জগন্নাথপুরের ঐতিহ্যবাহি সংগঠন নাট্য বানীর সাবেক সভাপতি, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারন সম্পাদক, আবৃত্তি পরিষদ (অংকুর) এবং খেলাঘর আসর জগন্নাথপুর উপজেলা শাখা ও উদীচি শিল্পী গোষ্টির সভাপতি মানস রঞ্জন রায় (৬৫) আর নেই। তিনি শনিবার বেলা ৩টায় সিলেট শহরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। বিকেল সাড়ে ৫টায় জগন্নাথপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হয়। শহীদ মিনারে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক পেশাজীবি, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার সহস্্রাধিক লোকজনদের উপস্থিতিতে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সন্ধ্যায় শহরের কেন্দ্রীয় শ্মশানে শেষ কৃত্তানুষ্টান সম্পন্ন হয়। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মানস রঞ্জন রায় কর্তৃক ২০১২সালে প্রকাশিত নাট্যচতুষ্টয় গ্রন্থে প্রকাশিত তথ্যে থেকে জানাযায়, ১৯৫৪সালের ৩ মে হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার জগৎপুর গ্রামে মানস রায় জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম মধু সুদন রায় মায়ের নাম পারুল বালা রায়। ১৯৭০সালে এসএসসি, ১৯৭৩সালে সিলেটের মদন মোহন কলেজ থেকে এইচ এসসি পাশ করে পরবর্তীতে তিনি হবিগঞ্জের বৃন্দাবন কলেজ থেকে বি এ পাশ করেন। কর্মসূত্রে জগন্নাথপুরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। গল্প, কবিতা, গান ও নাটক লেখায় এবং অভিনয় ও নির্দেশনায় তার সচ্ছন্দ বিচরন সর্বজনবিদিত। অভিনেতা, আবৃত্তিকার হিসেবে ১৯৭২সাল থেকেই সিলেট বেতারে অংশ গ্রহন করেন। মফস্বল শহরে মঞ্চ, আলোকসজ্জা, মিউজিক, মহিলা শিল্পীর অপ্রতুলতা সত্ত্বেও দিয়েছেন অন্তত বিশটি নাটকের পঞ্চানটি সফল মঞ্চায়ন ও নির্দেশনা। মানস রায়ের মা পারুল বালা রায় ছিলেন কন্ঠ শিল্পী, বাবা মধু সুদন রায় ছিলেন অভিনেতা ও আবৃত্তিকার। মা-বাবার হাত ধরেই মানস রায়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পদার্পন। ২ মেয়ে ১ ছেলের জনক মানস রায় জীবিত অবস্থায় তার স্ত্রী শংকরী রায়ের অনুপ্রেরনায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে টিকে থাকেন। ২০১০সালে “ভাঙ্গন” নাটকটি “দু কুলে নদীর ভাঙ্গন” সিডিতে বের হয়। তার রচনা ও নির্দেশনায় “উপেনদের কথা” নাটকটি শিশু একাডেমি আয়োজিত শিশু নাট্য প্রতিযোগিতা ২০১১সালে সুনামগঞ্জ জেলা ও সিলেট বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করার সুযোগ পায়। জগন্নাথপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয় মূখ হিসেবে পরিচিত মানস রায় অসুস্থ থাকা কালীন সময়ে সর্বশেষ লেখা “বজ্রপাতে সতর্কতা” নাটকটি সম্প্রতি সিলেট বেতারে সম্প্রচার হয়। মানস রঞ্জন রায়ের একমাত্র ছেলে দেবু রায় পেশায় একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কাজ করছেন, দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে শ্বাশতী রায় জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক ও ছোট মেয়ে সুষ্মিতা রায় কানাডা প্রবাসী।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ