বিশ্বনাথে জায়গা নিয়ে দু'পক্ষের উত্তেজনা : ওসি'র হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে
বুধবার, ১৫ আগষ্ট, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বনাথে রামপাশা-বৈরাগী-সিংগেরকাছ বাজার সড়কের বেহাল দশা : জনদূর্ভোগ  » «   বিশ্বনাথে জাতীয় শোক দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পন ও র‌্যালী  » «   শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ  » «   বিশ্বনাথে রাস্তায় গেইট নির্মাণ নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ  » «   বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে প্রশাসনিক অনুমোদন  » «   শিক্ষা প্রতিষ্টানে মাদক বিরোধী কমিটির আলোচনা সভা  » «   বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা  » «   বিশ্বনাথে ব্রাক এর ‘উপজেলা মাইগ্রেশন ফোরাম মিটিং’ অনুষ্ঠিত  » «   দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে আ’লীগের বিকল্প নেই -শফিক চৌধুরী  » «   পবিত্র হজ্ব পালন করতে স্বপরিবারে সৌদি আরব গেলেন মিছবাহ উদ্দিন  » «   বিশ্বনাথে উদ্ধারকৃত ২২টি গরু সনাক্ত করতে থানায় জনতার ভিড়  » «   সিংগেরকাছ পাবলিক বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে নবীণ বরণ  » «   বিশ্বনাথে জাতীয় শোক দিবস পালনের লক্ষে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা  » «   বিশ্বনাথে স্বামীর হাতুড়ির আঘাতে স্ত্রী নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের  » «   বিশ্বনাথে ‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জনপদ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক  » «  

বিশ্বনাথে জায়গা নিয়ে দু’পক্ষের উত্তেজনা : ওসি’র হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে

বিশ্বনাথনিউজ২৪:: সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা সদরে জায়গা নিয়ে দুই গ্রামের দু’পক্ষের (রাজনগর গ্রামের মোখলেছুর রহমান গং ও জানাইয়া গ্রমের হাজী মবশ্বির আলী গং) মধ্যে কত কয়েক দিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম’র হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। দুই গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে অনাকাঙ্খিত ঘটন এড়াতে বিরুদপূর্ণ স্থানে দীর্ঘ সময় পুলিশ মোতায়েন ছিল। উভয় পক্ষ ওসির করা সমঝোতায় মানলে তা প্রত্যাহার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ ভবনের ও বিশ্বনাথ-পনাউল্লাহ-কামাল বাজার সড়কের পার্শ্ববর্তি উপজেলা সদরস্থ প্রায় ৫০শত ভূমি নিয়ে সদর ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মোখলেছুর রহমান গং ও জানাইয়া গ্রামের হাজী মবশ্বির আলী গংদের মধ্যে ১৯৮৫ সাল থেকে বিরুধ চলে আসছে। এনিয়ে ১৯৮৬ সালে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জানাইয়া গ্রামের দুই ব্যক্তি নিহত হন। এরপর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা চলে আসছে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৮ আগষ্ট মহামান্য সুপ্রীপ কোর্টের রায় পান রাজনগর গ্রামের মোখলেছুর রহমান গংরা। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও মির্জা হোসেন হায়দার’র সমন্বয়ে বেঞ্চ ওই রায় প্রদান করেন। এবছরের ১১ এপ্রিল মোখলেছুর রহমান রায়ের সার্টিফাই কপি হাতে পান এবং মঙ্গলবার (১৫ মে-১৮ইং) সকালে সেই জায়গাতে সীমানা প্রাচীর নির্মানের কাজ শুরু করেন। অপর দিকে প্রাচীর নির্মাণ কাজে বাঁধা দেওয়ার জন্য জানাইয়া গ্রমের হাজী মবশ্বির আলী গংরা জড়ো হতো শুরু করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে চলামান চরম উত্তেজনার সংবাদ শুনে বিশ্বনাথ থানার ওসি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগীতায় বিষয়টি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য সোমবার রাত থেকে চেষ্ঠা চালিয়ে যান। অবশেষে উভয় পক্ষের সাথে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করে মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিয়ন্ত্রনে আনেন। ফলে একটি আনাকাঙ্খিত ঘটনা থেকে রক্ষা পান দুই গ্রামের দু’পক্ষ।
এব্যাপারে মোখলেছুর রহমান বলেন, ১৯৭০ সালে ‘বরদা নাথ চৌধুরী ও বিদিত কৃষ্ণ চৌধুরী’র কাছ থেকে জায়গাটুকু ক্রয় করেন ইসমাইল আলী, আর তার (ইসমাইল) কাছ থেকে ১৯৮৫ সালে আমি (মোখলেছুর) ওই ৫০ শতক ভূমি ক্রয় করি। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর ২০১৭ সালের ৮ আগষ্ট মহামান্য সুপ্রীপ কোর্টের সর্বশেষ রায় আমার (মোখলেছুর) পক্ষে আসে। এরপূর্বে নিন্ম আদালত ও জজ কোর্টের রায়ও আমার (মোখলেছুর) পক্ষে আসে। ফলে আমি ওই জায়গায় প্রকৃত মালিক হিসেবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করি। ইতিপূর্বে আমি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করে সেই রায়ও নিজের পক্ষে পেয়েছি।
অপর দিকে এব্যাপারে হাজী মবশ্বির আলী বলেন, মহামান্য সুপ্রীপ কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে আমরা ‘রিভিউ’ করেছি। রিভিউ নিষ্পত্তি না হওয়ার পূর্বেই তারা (মোখলেছুর) জোরপূর্বক জায়গা দখলের পায়তারা শুরু করে। ১৯৭৮ সালে আমি (মোবাশ্বির) ‘বরদা নাথ চৌধুরী ও বিদিত কৃষ্ণ চৌধুরী’র সাথে যুক্তিপত্র সম্পাদনের মাধ্যমে জায়গার মালিক হই। এরপর মুনসিফ আদালতে মামলা দায়ের করি এবং ১৯৮২ সালে আদালতের রায়ে আমি ওই ভূমির প্রকৃত মালিক হই। ইতিপূর্বে মহামান্য হাইকোর্টে দায়ের করা মামলার রায়ও আমার (মোবাশ্বির) পক্ষে আসে। ফলে আশা করি রিভিউতেও রায় আমার পক্ষে আসবে। রিভিউ শেষ না হওয়ার পূর্বে কেউ জোরপূর্বক জায়গা দখলের চেষ্ঠা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, উভয় পক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার স্বার্থে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। এরমধ্যে আইনানুগ বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ