সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
জগন্নাথপুরে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরন বিতরণ  » «   বিশ্বনাথে রাস্তা উন্নয়ন কাজের নামফলক ভাংচুর  » «   বিশ্বনাথে তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলার আসামীদের ছবি দিয়ে পোস্টারিং : আ’লীগের বিবৃতি  » «   বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় মাদক ব‌্যবসায়ী নিহত  » «   বিশ্বনাথে ‘মিরেরচর-পুরাণগাঁও-হাসনাজির সড়ক’ দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস  দিলেন এমপি এহিয়া  » «   ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ধর্ষণ মামলার আসামি নিহত  » «   বিশ্বনাথে ৩টি গরু চুরি  » «   বিশ্বনাথে কিশোরী নিখোঁজের ৫দিন পর উদ্ধার : আটক ২ : মামলা দায়ের  » «   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সংবর্ধনা  » «   বিশ্বনাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা’ বই বিতরণ  » «   বিশ্বনাথে দ্রুত ধান কাটার আহবান জানিয়ে প্রশাসনের মাইকিং  » «   বিশ্বনাথে বজ্রপাতে দুটি গরুর মৃত্যু  » «   জাতীয় পার্টিকে ছাড়া ক্ষমতার স্বপ্ন দেখা ভূল -ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী  » «   বিশ্বনাথে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার : মামলা দায়ের  » «   বালাগঞ্জে ‘দেশরত্ম শেখ হাসিনা সেতু’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন  » «  

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ৬ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ : এখনও আশাবাদী পরিবার

এমদাদুর রহমান মিলাদ :: বিএনপি’র সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়ী চালক আনসার আলী নিখোঁজের ৬ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। এই ৬ বছরেও সন্ধান মেলেনি তাদের। এখনো ইলিয়াস আলী নিখোঁজের কারণ রহস্যাবৃত রয়ে গেছে। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের আন্দোলনও ক্রমশ ঝিমিয়ে পড়তে শুরু করেছে।
ইলিয়াস আলী ও আনছার আলীকে ফিরে পেতে এখনও অপেক্ষার প্রহর গুণছেন তাদের স্বজন-শুভার্থীরা। নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর পরিবার তাকে ফিরে পাবার ব্যাপারে আশাবাদী হলেও দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ এ নিয়ে হতাশ। তাঁর এক সময়ের সহকর্মী-সহযোদ্ধাদের অনেকেই ভুলতে বসেছেন ত্যাগী এই নেতাকে।
প্রিয় স্বামীকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদি লুনা। পিতাকে ফিরে পাবার আশায় বুকে পাথর বেঁধে দিন যাপন করছে ইলিয়াসের পুত্র আবরার ইলিয়াস, লাবিব সারার ও মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল। পরিবারের একটাই দাবি তারা যে কোন মূল্যে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ী চালক আনছার আলীকে অক্ষত এবং সুস্থ অবস্থায় তাদের মাঝে ফিরে পেতে চান। এজন্য তারা দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
আলাপকালে ইলিয়াস পত্নী তাহসিনা রুশদি লুনা বলেন, সরকার আন্তরিক হলে ইলিয়াসকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। কেননা গুম-নিখোঁজ হওয়ায় অনেক ব্যক্তি এরই মধ্যে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। আমরাও বিশ্বাস করি, ইলিয়াস আলী একদিন ফিরে আসবেন। আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ইলিয়াসের অপেক্ষায় থাকব। এখন তিনি শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে ইলিয়াস আলী ফিরে আসার পথে চেয়ে রয়েছেন। লুনা বলেন, হত্যা-হামলা-মামলা অনেক নির্যাতন করেও ইলিয়াস নিখোঁজ আন্দোলন দমন করা সম্ভব হয়নি। সিলেটে এখনও ইলিয়াসের সন্ধান দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। বিগত উপজেলা ও ইউপি নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরবাসী ইলিয়াস আলী নিখোঁজের জবাব দিয়েছেন। ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ি চালক আনসার আলীকে ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
নিখোঁজ হবার পর ইলিয়াস আলীর পরিবারের ভর করে দীর্ঘশ্বাসের কালোমেঘ। এখনো থামেনি মায়ের আহাজারী। শুকিয়ে গেছে তাঁর চোখের জল। সন্তান হারা বৃদ্ধা মাকে সান্তনা দিতে প্রায় প্রতিদিন গ্রামের বাড়িতে দলের নেতাকর্মীরা ছুটে আসলেও এখন আর আগের মত ইলিয়াস আলীর গ্রামের বাড়িতে নেতা-কর্মীদের নেই তেমন কোন আনাগোনা। সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক ইলিয়াস আলীর গর্ভধারিনী বৃদ্ধা মা সূর্যবান বিবি। তিনি পুত্র শোকে কাতর। অনেকটা শয্যাশায়ী অবস্থায়ও তিনি অপেক্ষার প্রহর গুণছেন পুত্রের জন্য।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে নিজ বাসায় ফেরার পথে রাজধানী ঢাকার মহাখালী থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী ও তার বিশ্বস্থ গাড়ী চালক আনছার আলী। মধ্যরাতে মহাখালী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলীর গাড়ীটি উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সময় থেকেই তারা নিখোঁজ রয়েছেন। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ ইস্যুতে ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল বিশ্বনাথে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হয় মনোয়ার, সেলিম ও জাকির। আহত হন অনেকেই। ঐ সংঘর্ষে বিক্ষুব্দ জনতা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায়-জিপগাড়িতে, বিভিন্ন ব্যাংক, মার্কেট, কমিউনিটি সেন্টার, বিপনিবিতানে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করেছিল। এতে উপজেলা পরিষদের ১৯টি দপ্তরের প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
২২ ও ২৩ এপ্রিলের সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্বনাথে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আসামী করে দায়ের করা হয় ৬টি মামলা। এসব মামলায় বিশ্বনাথের ৮টি ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী ও অনেক সাধারণ মানুষ’সহ প্রায় ১৮ হাজার লোককে আসামী করা হয়। ৬ ইউপি চেয়ারম্যান’সহ শতাধিক নেতাকর্মী কারাবরণ করেন। ইলিয়াস আলী ‘নিখোঁজ’ ইস্যুতে আন্দোলন করতে গিয়ে ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল পুলিশের সাথে জনতার সংঘর্ষ ও উপজেলা পরিষদের ভাংচুর-অগ্নি সংযোগের ঘটনায় আসামী হওয়ার কারণে ঐ বছরের ১ জুলাই উপজেলার ৭ ইউপি চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতের উচ্চ আদালতের রিটের মাধ্যমে তাদের চেয়ারম্যান পদ বহাল থাকে।
এদিকে, নিখোঁজের পর থেকে ইলিয়াস আলীর অবর্তমানে বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর বিএনপির কান্ডারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁর সহধর্মীনি তাহসিনা রুশদি লুনা। ধীরে ধীরে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত তাহসিনা রুশদী লুনা। প্রথমে লুনাকে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির প্রথম সদস্য করা হয়। পরবর্তীতে দলীয় চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা করা হয় তাকে। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও বিগত ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী সিলেক্ট ও প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনায় লুনা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ফলে বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচন এবং ইউপি নির্বাচেন অধিকাংশ বিএনপির প্রার্থীই বিজয়ী হন। আগামী সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর অবর্তমানে তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদি লুনা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ