বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
ইলিয়াস আলীর সন্ধান কামনায় বিশ্বনাথে বিএনপির মিলাদ-দোয়া মাহফিল  » «   বিশ্বনাথ এইড ইউকে’র নতুন কমিটি গঠন  » «   বিশ্বনাথে পৃথক স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ  » «   বিশ্বনাথে তালাবদ্ধ সেই মার্কেট আদালতের নির্দেশে খুলে দিল পুলিশ  » «   বিশ্বনাথে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের মাঝে চাল বিতরণ  » «   বিশ্বনাথে মাত্র ৬০ হাজার টাকার অভাবে দুচোখ হারাতে বসেছে কিশোর মারজান  » «   বিশ্বনাথে গরু চুরি : থানায় জিডি  » «   বিশ্বনাথ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বখাটে কর্তৃক ইভটিজিংয়ের শিকার কলেজ ছাত্রী  » «   বিশ্বনাথের খাজাঞ্চীতে ত্রাণ বিতরণ করলেন ইলিয়াসপত্নী লুনা  » «   বিশ্বকাপ জয়ে উৎসবে ভাসছে ফ্রান্স  » «   দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জিতলো ফ্রান্স  » «   লালাবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ : আহত ৪০  » «   জগন্নাথপুরে ইউএনও ও এসিল্যান্ডের পদ শুন্য : প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা  » «   বিশ্বনাথে সাড়ে ২৬ হাজার শিশু খেল ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাপসুল  » «   ব্রিটেনে বিশ্বনাথের ছেলে মাসায়েল’র ডিগ্রী অর্জন  » «  

স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৫

বিশ্বনাথনিউজ২৪::

‘এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ

তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক..’

আজ শনিবার পহেলা বৈশাখ। বাঙালির অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক জাগরণের উৎসবের দিন। সূর্য উদয়ের সাথে সাথে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে নতুন বছর ১৪২৫। স্বাগত বাংলা নববর্ষ। জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে বর্ষবরণের অফুরান আলোয় আজ উদ্ভাসিত হবে বাঙালি।

বাঙালির শত বছরের এই ঐতিহ্যের উৎসব যেন পুরাতনের বিনাশ। অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার, ভীরুতা ও কাপুরুষতার বিনাশ। নতুন সৃষ্টির উন্মাদনা। নতুন জীবন জন্মদানের বেদনা। এ যেন নতুন বিপ্লবের অপ্রতিরোধ্য সূচনা। কবি নজরুল লিখেছেন-
‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? প্রলয় নূতন সৃজন বেদন,
আসছে নবীন জীবন হারা, অসুন্দরের করতে ছেদন।…
ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!’

বছরের প্রথম দিনে নতুন নতুন স্বপ্ন বুনবে বাংলার কৃষক। হালখাতা খুলবে ব্যবসায়ীরা। সরাকারি ছুটির দিনে রাজধানীসহ সারাদেশে একযোগে চলবে লোকজ ঐতিহ্যের নানা উৎসব অনুষ্ঠান। নববর্ষের প্রথম দিন উপলক্ষ্যে হাজার বছরের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির আলোয় নতুন করে জ্বলে উঠবে বাঙালি। দ্রোহের আগুনে শানিত হবে প্রতিটি মন। বাঙালি পুরনো বছরের সকল অপ্রাপ্তি ভুলে গিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু হয় মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসন ভিত্তি কওে প্রবর্তন হয় নতুন এই বাংলা সন। ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।

পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দিয়েছে।

বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নববর্ষ উদযাপন পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে। পহেলা বৈশাখের ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে মেতে ওঠে সারাদেশ। শনিবার বর্ষবরণের এ উৎসব আমেজে মুখরিত থাকবে বাংলার চারদিক। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে বাঙালি মিলিত হবে তার সর্বজনীন অসাম্প্রদায়িক উৎসবে। দেশের পথে-ঘাটে, মাঠে-মেলায়, অনুষ্ঠানে থাকবে কোটি মানুষের প্রাণের চাঞ্চল্য, আর উৎসব মুখরতার বিহ্ববলতা।

আবহমান কাল ধরেই চলছে বৈশাখ বরণের আনুষ্ঠানিকতা। প্রকৃত রূপটি দৃশ্যমান হয় গ্রামে। একসময় গ্রামবাংলায় চৈত্রসংক্রান্তি ছিল প্রধান উৎসব। বছরের শেষ দিনে তেতো খাবার খেয়ে শরীর শুদ্ধ করতেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। নির্মল চিত্তে প্রস্তুত হতেন নতুন বছরে প্রবেশ করার জন্য। এখনও বৈশাখ বরণের অংশ হিসেবে বাড়িঘর ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করেন গৃহিণীরা। অদ্ভুত মুন্সিয়ানায় আল্পনা আঁকেন মাটির মেঝেতে। খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন সবাই। গোসল সারেন। নতুন পোশাক পরেন। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়িতে বেড়াতে যান। ঘরে ঘরে সাধ্যমতো বিশেষ খাবার রান্না করা হয়। থাকে পিঠা-পুলির আয়োজন। আজ হাটে-মাঠে-ঘাটে বসবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। নানা রকম কুটির শিল্প, খেলনা, মিষ্টিসহ বাহারি পণ্যে স্টল সাজানো হবে। বিভিন্ন এলাকায় থাকবে নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

বাংলা নববর্ষে ব্যবসায়ীদের হালখাতা রীতি এখনও এদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির আমেজ নিয়ে উৎসবের পরিধির আরো বিস্তার ঘটিয়েছে। কৃষক সমাজ আজও অনুসরণ করছে বাংলা বর্ষপঞ্জি। এককালে কেবল গ্রামাঞ্চলেই পয়লা বৈশাখের উৎসবে মেতে উঠতো মানুষ। নানা অনুষ্ঠান, মেলা আর হালখাতা খোলার মাধ্যমে তখন করানো হতো মিষ্টিমুখ। এখন আধুনিক বাঙালি তাদের বাংলা নববর্ষকে সাজিয়ে তুলছে মাতৃভূমির প্রতিটি আঙিনায় আরও বেশি উজ্জ্বলতায়।

নববর্ষ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বাংলা নববর্ষের বিশেষ দিক তুলে ধরে ক্রোড়পত্র বের করেছে। সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলে নববর্ষকে ঘিরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

বাঙালির এই প্রাণের উৎসবকে ঘিরে সারাদেশেই নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যৌথভাবে কাজ করছে সব সংস্থা।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ