বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বনাথে বিভিন্ন মন্ডপ পরিদর্শনে শফিক চৌধুরী  » «   শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে বিশ্বনাথে শফিক চৌধুরী’র বস্ত্র বিতরণ  » «   সিলেটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ দূর্গাপূজা -পুলিশ সুপার  » «   পূজামন্ডপ পরিদর্শনে বিশ্বনাথ অনলাইন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ  » «   বিশ্বনাথে সরকারি রাস্তার গাছ কর্তন  » «   বিশ্বনাথে জাতীয় পার্টি ও পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নিস্পত্তি  » «   বিশ্বনাথে ‘ভূয়া নাগরিক সনদে’ নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বাতিলের দাবীতে মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান  » «   বিশ্বনাথে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে ইউএনও  » «   বিশ্বনাথে শিশু কন‌্যাকে অপহরণকালে জনতার হাতে আটক ১  » «   বিশ্বনাথে অজ্ঞাতনামা নারী হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের জন্য ওসি’কে আদালতের নির্দেশ  » «   বিশ্বনাথে রামপাশা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন  » «   স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত যমজ দুই ভাই মাফী ও শাফী  » «   আলোকিত দেশ গঠনে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই – প্রতিমন্ত্রী মান্নান  » «   বিশ্বনাথে ট্রাক ড্রাইভারকে মারধর করার অভিযোগ : এমপির বিরুদ্ধে মিছিল-পাল্টা মিছিল  » «   বিশ্বনাথে প্রবাসীর উদ্যোগে হুইল চেয়ার ও সেফটি জ্যাকেট বিতরণ  » «  

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫০ : বিমানে ছিলেন রাগীব-রাবেয়া মেডিকল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থী

বিশ্বনাথনিউজ২৪:: নেপালের কাঠমান্ডুতে ঢাকা থেকে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৫০জন নিহত হয়েছেন। দেশটির সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সোমবার বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত একই পরিবারের তিনজনসহ ৪জন বাংলাদেশিকে সনাক্ত করা হয়েছে। ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট স্থানীয় সময় ২টা ২০ মিনিটে বিএস-২১১ ফ্লাইটটি অবতরণের মুখে বিধ্বস্ত হয়।

নেপালের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকেও এই দুর্ঘটনার খবর প্রকাশিত হতে থাকে। সবশেষ তথ্যে জানা যাচ্ছে- ফ্লাইটিতে ৬৭ জন আরোহী ছিলেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালের ৩০ জন, মালদ্বীপের ১জন ও চীনের ১জন নাগরিক ছিলেন। এছাড়া ৪জন ক্রু ছিলেন বিমানে। তাদের মধ্যে প্রথম দিকেই উদ্ধার করে ১৭ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাকি ২০ জন নিহত হওয়ার খবর দিচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যম। তবে নেপালের পুলিশের বরাত দিয়ে এপি জানায়, এ পর্যন্ত ৩৮জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে, নেপালের কাঠমন্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের যাত্রী সিলেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থীর সকলেই নিহত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছেন । এদের মধ্যে ১১জন ছাত্রী ও দুইজন ছাত্র রয়েছেন। এ ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের খোঁজ খবর নিতে কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন ক্যাম্পাসে। তারা সকলেই নেপালের নাগরিক। চুড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শেষ হওয়ায় তারা ছুটি কাটাতে নিজ দেশে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাদের এখনও কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন- ১৯তম ব্যাচের সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, পূর্নিমা লোহানি, শ্রেতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠ, আলজিরা বারাল, চুরু বারাল, শামিরা বেনজারখার, আশ্রা শখিয়া ও প্রিঞ্চি ধনি।

জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আবেদ হোসেন বলেন, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানে আমাদের ১৩জন শিক্ষার্থীর সকলেই সম্ভবত নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে তারা জেনেছেন।

তিনি বলেন, চুড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশের জন্য দুই মাসের মতো সময় লাগে। সাধারণ রেজাল্ট বের হওয়ার আগ পর্যন্ত কোন এসাইনমেন্ট থাকে না। তাই ওই সময়ে সকলেই নিজেদের বাড়িতে চলে যায়। নেপালের শিক্ষার্থীরাও গতকাল রোববার ঢাকা হয়ে তাদের দেশে যাচ্ছিলো।

তিনি আরও জানান, আমরা নেপালি অন্য শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। একই সাথে তাদের দূতাবাসের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে সকলেই নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন তারা। মর্মান্তিক এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-কলেজের পতাকা অর্ধনমিত রাখা,  ক্লাস সাসপেন্ড ও কালো ব্যাজ ধারণ।

হিমালয়ান টাইমস জানাচ্ছে- দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর কাঠমাণ্ডু মেডিকেল কলেজের বরাত দিয়ে বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুরকে উদ্ধৃত করে বলা হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে আহত অবস্থায় অন্তত ২৫ জনকে পাঠানো হয়েছে।

নেপালের টেলিভিশন চ্যানেল এপি ওয়ান সবশেষ খবরে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য দিচ্ছে । আহতদের মধ্যে ৫ জন নেপালি ছিলেন বলেও নিশ্চিত করেছে ওই চ্যানেলটি। দেশটির ট্যুরিজম মিনিস্ট্রিম যুগ্ন-সচিব সুরেশ আচার্যের বরাত দিয়ে কাঠমাণ্ডু পোস্ট জানায়, আরোহীদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ ২৭ জন নারী ও দুটি শিশু ছিলো।

নেপালের সিভিল অ্যাভিয়েশনের মহাপরিচালক সঞ্জীব গৌতমকে উদ্ধৃত করে কাঠমাণ্ডু পোস্ট জানায়, অবতরণের সময়ে বেশ অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায় ফ্লাইটিতে। সেটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন ছিলো। রানওয়ের দক্ষিণ দিকে অবতরণের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু দক্ষিণ দিকের অনুমতি নিয়ে সেটি উত্তর দিকের রানওয়েতে ল্যান্ড করে। তিনি সন্দেহ করছেন, কোনও কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটা ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

টেলিভিশনের খবরে আরও বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটি ক্যাপ্টেন বেঁচে আছেন বলে আশা করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যাচ্ছে- ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আবেদ সুলতান নামের একজন।

ঢাকায় ইউএস-বাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, আবেদ সুলতানই ওই ফ্লাইটের ক্যাপ্টেইন হিসাবে ছিলেন। নেপাল টিভি জানাচ্ছে, পাইলটের সহকারী হিসাবে ছিলেন একজন নারী। যিনি মারা গেছেন বলেই ধারনা করা হচ্ছে। ত্রিভুবন বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালান। বিমানবন্দর থেকে সকল ফ্লাইট অপারেশন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে ১৯৯২ সালে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হলে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটের ৫৬ জন আরোহীর সকলেই নিহত হন।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ