বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বনাথে ধর্ষণের শিকার হওয়া কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য ২লাখ টাকা!  » «   বিশ্বনাথে বিএনপি নেতা ফয়েজ আলীর ইন্তেকাল : শোক  » «   আইপিএলকে ঘিরে বিশ্বনাথে চলছে জুয়া-বাজী : উদ্বিগ্ন অভিভাবকমহল  » «   বিশ্বনাথে উপ-সচিব ওয়াদুদ চৌধুরীর ভাই কাদির চৌধুরীর ইন্তেকাল  » «   বিশ্বনাথে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খানের ইন্তেকাল  » «   বিশ্বনাথে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান : ৬টি প্রতিষ্ঠানে জরিমানা  » «   বিশ্বনাথের ধানী জমি থেকে অজ্ঞাতনামা ব‌্যক্তির লাশ উদ্ধার  » «   সিলেট কারাগারে ১৬টি ফ‌্যান প্রদান করলেন বিশ্বনাথের পংকি খান  » «   বিশ্বনাথ উপজেলা জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিল ৯জুন  » «   ইলিয়াস আলীর বাসায় তল্লাশীর প্রতিবাদে বিশ্বনাথে বিএনপির প্রতিবাদ সভা  » «   ডিবি পরিচয়ে নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর বাসায় ‘তল্লাশির’ চেষ্টা  » «   ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন পুরণ হলো না ইব্রাহিমের  » «   হৃদয়বানদের সাহায্যে বাঁচতে চান স্কুল শিক্ষিকা এমিলি  » «   ধর্মীয় শিক্ষার জ্ঞান দিয়ে সমাজ পরিবর্তনে কাজ করতে হবে -শফিক চৌধুরী  » «   বিশ্বনাথে মামলা দিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানীর প্রতিবাদে প্রবাসীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন  » «  

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে ঈর্ষনীয় সাফল্য : এ কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে

untitled-1এ.এইচ. এম. ফিরোজ আলী :: জনসংখ্যা সমস্যা বাংলাদেশর প্রধান ও অন্যতম সমস্যা। এ দেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি ঘণবসতি পূর্ণ দেশ।এ দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু মানুষ কমছে। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের বিবেক বুদ্ধি ও মানবীয় গুনাবলি লোপ পাচ্ছে। দিন দিন মানবতার বিপর্যয় ঘটছে। এ দেশের জনসংখ্যার গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৮৬০ সালে এ ভূখন্ডে জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২ কোটি। ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের লোক সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৫০ লাখ ৪৮ হাজার ২৩৯ জন। আর এ বছর পশ্চিম পাকিস্তানের লোক সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৮০ লাখ ৯৪ হাজার ২৩৯ জন। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৭১৮ জন এবং পাকিস্তানের বর্তমান জনসংখ্যা ১৯ কোটি ৬৭লাখ ৪৪হাজার ৩৭৬জন। ১৯৭০ থেকে এ পযর্ন্ত ৪৮ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার চেয়ে পাকিস্তানের জনসংখ্যা ৩ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৫৮ জন বেশি। বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৯৭৪ সালে ২.৬২,১৯৮১ সালে ২.৩২, ১৯৯১ সালে ২.০১, ২০০১ সালে ১.৫৮, ২০১১সালে ১.৩৪ এবং ২০১৪ সালে একটু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১.৩৭। ইউনিয়ন পর্যায়ে অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মোট প্রজনন হার বা নারী প্রতি গড় সন্তান জন্ম দানের হার ছিল ১৯৭৫ সালে ৬.৩ আর ২০১৪ সালে হ্রাস পেয়ে দাড়ায় ২.৩ এ। ২০০৮ সালে প্রকাশিত ইউনিসেফের তথ্যমতে ১৯৯০ সালে প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যু ছিল১৪৯ জন,২০০৬সালে ৬৯ জন, ২০০৮ সালে ৫২ জন এবং ২০১৪ সালে হ্রাস পেয়ে হয়েছে ৩০ জন এবং ক্রমে শিশু মৃত্যু হ্রাস পাচ্ছে। তাঁর পরও বাল্যবিবাহের কারনে কিছু কিছু শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। এখন আইনের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ রোধ করা হচ্ছে। পুরাপুরি বাল্যবিবাহ বন্ধ হলে জনসংখ্যা অনেক হ্রাস পাবে। আমাদের দেশের আয়তন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার, ভারতের সাথে ছিট মহল চুক্তির মাধ্যমে ২৮ হাজার ৪৬৭ বর্গ কিলোমিটার এবং মায়ানমারের সাথে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে ৭০ হাজার বর্গ কিলোমিটার সংযুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করেন এক হাজার ৩৬ জন লোক, আর পাকিস্তানে বাস করেন ২শত ৪৫ জন লোক। সামাজিক সূচকে আর্ন্তজাকিত তথ্য মতে পাকিস্তান ও ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।
১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ভাষনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, “একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, প্রত্যেক বছর আমাদের ৩০ লাখ লোক বাড়ে, আমার জায়গা হলো ৫৫ হাজার বর্গ মাইল। যদি আমাদের এ ভাবে লোক বাড়ে তা হলে ২৫/৩০ বছরে বাংলায় কোন জমি থাকবে না হাল চাষের জন্য। সে জন্য আমাদের পপুলেশন কন্টোল, ফ্যামেলি প্লানিং করতে হবে”। তাঁর এ হিসাব মতে বর্তমানে জনসংখ্যা দ্বিগুন হওয়ার কথা এ দেশে। আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরের দিকে যাচ্ছে আর কৃষি জমি কমছে। যদি ২০৫০ সালে জনসংখ্যা ৩০/৩২ কোটিতে দাড়ায় তা হলে প্রতি বর্গ কিলোামিটারে প্রায় ২১০০ জন লোক বাস করবে। এতে কৃষি জমি মোটেই থাকবে না, এবং দেশে মানবিক বিপর্যয় ঘটবে এবং খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে।
সমাজের প্রাথমিক প্রতিষ্টান হচ্ছে পরিবার। পরিবার থেকে সমাজের উৎপত্তি। প্রত্যেকটি মানব শিশু প্রতি পবিবারে জন্ম গ্রহন করে লালিত- পালিত হয়। পৃথিবীতে এমন কোন মানব সমাজের অস্তিত্ব খোজে পাওয়া যাবেনা, যেখানে পরিবার নেই। বিয়ের মাধ্যমে পরিবারের নর-নারীর জৈবিক চাহিদা পূরণ করে। বিবাহ পরিবার গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। আদিকাল থেকে সমাজে এক পতœী (স্ত্রী) বহু পতœী ও বহু পতী (স্বামী) পরিবার এক সময় ছিল। একজন নারীর সাথে একাধিক পুরুষের বিবাহের মাধ্যমে গড়ে উঠা পরিবার হচ্ছে বহু পতী পরিবার। এধরণের পরিবার এখন আধুনিক সভ্য সমাজে নেই। এক সময় তিব্বতে বহু স্বামী গ্রহনের প্রচলন ছিল এবং দক্ষিণ ভারতের মালাগর অঞ্চলের টোডাদের মধ্যে এ ধরণের পরিবার দেখা যেত।
পরিবারের তথা সমাজের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে পাকিস্তান আমলে বে-সরকারী ভাবে সেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে এবং ১৯৬৫ সালে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে অধিগ্রহণ করে ক্লিনিক ভিত্তিক কার্যক্রম শুরু হয়। জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিটি ওয়ার্ডকে দু-ভাগে ভাগ করে ইউনিট গঠন করে ১৯৭৬ সালে মহিলা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। যাদের নাম পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফ.ডাব্লিউ.এ), আর এদের কার্যক্রম দেখা শোনা ও বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনে সহায়তার জন্য নিয়োগ দেয়া হয় একজন পুরুষ কর্মী যার পদবী ছিল পরিবার পরিকল্পনা সহকারী (এফ.পি.এ)। এরা কেউ টেকনিক্যাল পার্সন নন। পরবর্তীতে এফ.পি.এদের পদবী পরিবর্তন করে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফ.পি.আই) পদে উন্নীত করা হয়, এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একজন মহিলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা, কমিউনিটি ম্যাডিকেল অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়। এরা হচ্ছেন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের মূল কারিগর। এদের হাতে দম্পতি ও তাঁর পরিবারের যাবতীয় তথ্য লেখার জন্য একটি করে রেজিষ্টার দেয়া হয়। বর্তমানে এ রেজিষ্টারের অষ্টম সংস্করন করা হয়েছে। এটা একটি লিখিত দলিল। যেখানে প্রতিটি পরিবারের সেবা সহ যাবতীয় তথ্য লেখা থাকে। ৭০ দশক থেকে ৯০ দশক পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে প্রচার এবং দম্পতিদের চাহিদা মোতাবেক সেবা প্রদান করতেন তাঁরা। এ সময় কিছু কিছু লোকের হাতে শত শত মহিলা কর্মী লাঞ্চিত হয়েছেন। ডায়রিয়া, অমাশয় রোগ যখন গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ত তখন চিকিৎসক বলতে এ সব কর্মীদের কাছে পেতেন মানুষ। স্থানীয় পর্যায়ে এ সব কর্মী নিয়োগ দেয়ায় চাকুরিতে টিকে থাকা তখন তাদের সম্ভব হয়েছিল। তখন ফতোয়াবাজদের যন্ত্রনায় অতিষ্ট ছিলেন কর্মীরা। গ্রাম্য মড়লরা এসব কর্মী দেখলে বলতেন, বাথ কন্ট্রোলের মেয়েরা এসেছে, এদের বাড়ি থেকে বের করে দাও। পুরুষ কর্মী এপিএদের অনেক স্থানে বেঁধে রাখা হতো। তখন সমাজের কেউ এগিয়ে আসতেন না। মান-ইজ্জতের ভয়ে অনেকেই চাকুরীতে আসতেন না এবং অনেকেই স্বেচ্চায় চলে গেছে। স্যাটেলাইট ক্লিনিক, ই.পি.আই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের টিকা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষা, কিশোর কিশোরিদের বয়ঃসন্ধি কালিন চিকিৎসা, মায়েদের গর্ভকালীন গর্ভত্তোর সেবা, সংক্রামক অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় টিকা দিবস, ভিটামিন এ ক্যাপসোল বিতরন, ভোটার তালিকা তৈরি, নির্বাচনী দায়িত্ব পালন, শিক্ষা, চিকিৎসা, মৎস চাষ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূমিকম্প, বর্জ্যপাত, জলোচ্ছাস, বৃক্ষ রোপন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা সহ প্রতিটি পরিবারের জীবন মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছেন এ বিভাগের কর্মীরা। সরকার কমিনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পর সপ্তাহে তিন দিন পরিবার কল্যাণ সহকারীরা ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। যে কারণে কর্মীরা তাঁর নির্ধারিত দম্পতি পরিদর্শনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৪৬ বছরের মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। অনেক বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের উন্নয়ন খাত থেকে রাজস্ব্য খাতে স্থানান্তর করে যথা নিয়মে প্রমোশন, পেনশন সহ যাবতীয় সুযোগ সুবিদার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ঝড় তুফান বৃষ্টি বাদল বন্যা এবং ধর্মীয় প্রতিকূল পরিস্থিতি উপেক্ষা করে পরিবার পরিকল্পনা কর্মচারিদের রাজ্যস্ব খাতে স্থানাস্তর ব্যতীত অন্য কোন অগ্রগতি হচ্ছেনা। এ বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রমোশন নিয়ে মন্ত্রনালয়, অধিদপ্তরে নানা ধরনের চলচাতুরি কর্মকান্ড সৃষ্টি হয়েছে। এমন কি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠ কর্মচারীদের বিলোপ্তির বিষয়ে অত্যন্ত সু-পরিকল্পিত ভাবে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ একই মন্ত্রনালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীদের প্রমোশন, উন্নত বেতন স্কেল সহ বিভিন্ন সুবিধাদি প্রদান করা হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের কার্যক্রমের জন্য আলাদা মন্ত্রনালয়, মন্ত্রী, সচিবসহ উর্ধতন কর্মকর্তা রয়েছেন। যে কারণে এসব দেশ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে কম সময়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে। আমাদের দেশে মন্ত্রনালয়, সচিব আলাদা না থাকায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের তদারকি সহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু এ বিভাগের কর্মচারিদের কোন দাবি দাবা সরকারের নিকট থেকে আদায় করতে গেলে সচিবালয়ে এক শ্রেণির লোক নানা বাধা আপত্তি উত্তাপন করেন। অনেক সময় জন প্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে মহা পরিচালকসহ উর্ধতন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় এবং যাদের চাকুরির বয়স ২/৩ বছর থাকে। ফলে এ বিভাগের কার্যক্রম বোঝার আগেই কর্মকর্তারা পেনশনে চলে যান। যে কারনে মাঠ কর্মচারিদের পদোন্নতিসহ অনেক ফাইল আটকা পড়ে যায়। বিভাগীয় কর্মকর্তা কর্মচারিদের ধারাবাহিক প্রমোশনের ব্যবস্থা থাকলে এমন জটিলতার সৃষ্টি হতো না।
বিগত দুই দশক ধরে মাঠ কর্মচারীরা তাঁদের জৈষ্ট্যতার ভিত্তিতে প্রমোশন, দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা এফ.ডাব্লিউ.এ, এফ.পি.আই, এফ.ডাব্লিউ.ভি চাকমোদের টেকনিকেল পার্সন হিসাবে ঘোষনা সহ বিভিন্ন দাবি করে আসছেন। অতি সম্পতি কিছু পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকদের স্ব-বেতনে, সহকারি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পদে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু এই পদের বেতন সহ সুযোগ সুবিদাদি প্রদান করা হচ্ছেনা। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সহকারিগণও পদোন্নতি চাচ্ছেন এবং তাদের বেতনসহ পদোন্নতির বিষয়টি প্রক্রিয়াদিন আছে। অফিস ব্যবস্তাপনায় তাঁদের প্রমোশন হউক। কিন্তু মাঠে-ঘাটে যারা দীর্ঘ জীবন কাজ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, তাদের স্ব-বেতনে পদায়ন এবং প্রমোশন আটকিয়ে রাখা অযুক্তিক। এক সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নন ট্রেনিং শিক্ষকরা ছিলেন ১৮ নং গ্রেডে, আর পরিবার কল্যাণ সহকারীগণ ছিলেন ১৭ নং গ্রেডে। এখন প্রাথমিক শিক্ষকরা পেয়েছেন ১১নং গ্রেড আর পরিবার কল্যাণ সহকারীরা আটকে আছেন আগের জায়গায়। চাকুরীর নিয়োগ বিধির অজুহাতে পদোন্নতির বিষয়টি আটকা পড়ে রয়েছে। তারা শুধু কলুর বলদের মত কাজ করবেন? সব সমাজে, সব পেশায় কিছু না কিছু লোক কর্মহীন থাকতে পারে, তাই বলে পূরো বিভাগ বিলুপ্তির চিন্তা ধারা কিংবা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের উদ্যোগ মোটেই কাম্য নয়। অপ্রিয় হলেও সত্য যে ২০১৮ সালের মধ্যে অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারিরা অবসরে যাবেন। এ সুযোগটা কাজে লাগাতে চাচ্ছেন কিছ’ লোক। যাদের দায়িত্ব কতব্য অবহেলার কারনে রাস্তায় গর্ভবর্তী সন্তান প্রসব করে, ছুরি, কাচিঁ, বেন্ডিজ পেটে রেখে সেলাই দেয়া হয়, টাকা না দিলে লাশ আটকানো হয়, ডেলিভারির সময় মা ও শিশুর মৃত্যু ঘটে, সেবা গ্রহীতাদের অপমান লাঞ্চিত ও মারামারির ঘটনা গনমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এধরনের কিছু লোকের কারনে কিংবা সংগঠনের চাপে এ বিভাগে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। তারা বিভিন্ন স্থানে ভুল তথ্য ও অপপ্রচার চালিয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাফল্য নিজের দিকে ছিনিয়ে নিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর সাহসী ভুমিকায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নতি সাধিত হচ্ছে। একমাত্র তিনিই পারেন এ বিভাগের সকল শূন্য পদ পূরণ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন কারিগরদের দাবি পুরণ করতে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ে অনেক সংগঠনের জন্ম হয়েছে। কিন্তু দাবি দাওয়া আদায়ের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ না করায় দাবী পূরণ হচ্ছে না।
উন্নয়নের সিঁড়িতে এখন বাংলাদেশ অবস্থান করছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সব সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট তাঁদের পূর্বাবাসে বলেছে, ২০৩০ সাল নাগাত, “নেক্সট ইলেভেন, সম্মিলিত ভাবে ইউরোপিয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। লন্ডনের জাতীয় দৈনিক দ্য গার্ন্ডিয়ান লিখেছে ২০৫০ সালে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির বিচারে পশ্চিমা দেশ গুলোকে ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া মুডিস স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস গত কয়েক দশক ধরে ক্রমাগত বাংলাদেশের সান্তোসজনক অর্থনৈতিক রেটিং দিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের প্রক্ষেপনও স্থীতিশীল ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের ইঙ্গিত বহন করে। বিশ্ব খ্যাত সংস্থাগুলো এসব পূর্বাভাসই প্রমাণ করে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। আর এসব অসম্ভব,সম্ভব হয়েছে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের মাধ্যমে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে রাখার কারণে দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিপলন ও স্বীকৃতি হচ্ছে ক্ষুদ্রায়ন এ ভূখন্ডে অধিক জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে রাখা। আন্তর্জাতিক মহল বারবার একথা বলে আসছেন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন ও মাইল ফলকও বটে। এটির মনস্তাাস্তিক প্রভাব যেমন রয়েছে, তেমনি বাস্তবে বিভিন্ন প্রাপ্তির বিষয়টি ও সংযোযিত হয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা অবস্থান সুসংহত হয়েছে। বাংলাদেশের সাফল্য এখন ফিনিক্স পাখির উপমার সঙ্গে তুলনীয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন বাংলাদেশ ঈর্ষনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ধ্বংস স্তুপের মধ্য থেকে এগোতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রূপ কথার ফিনিক্স পাখির মত স্বক্ষমতা দেখিয়েছে। ভস্মের মধ্যে থেকে উড়াল দেয়ার কৃত্বিতের অধিকারি বাংলাদেশের পরিশ্্রমি মানুষ। যে বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করা হয়েছিল তলা বিহীন ঝুড়ি বলে। সেই বাংলাদেশের পরিচয় এখন অপার সম্ভাবনার দেশ। মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছেন, আর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা শত প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে তাঁদের কর্মের সাফল্য দেখিয়েছেন। কিছ ুলোকের বিরোধীতা ষড়যন্ত এবং অপপ্রচারের কারণে এ বিভাগের কর্মচারিদের পিছনে ফেলে দেশের উন্নতি সাধিত হবেনা। দেশের স্বার্থে তাঁদের সকল দাবি দাবা মেনে নেওয়া উচিত। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন করেই স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে ভাবতে হবে।

লেখক: কলামিষ্ট

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ