বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেট-২ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন ফরম কিনলেন ইলিয়াসপত্নী লুনা  » «   যে কারণে দুটি আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনলেন এমপি এহিয়া..  » «   সিলেট-২ আসনে নৌকার কান্ডারী হতে চান যারা….  » «   সিলেট-২ আসনে চলছে মনোনয়ন লড়াই  » «   বিশ্বনাথে যুবলীগ নেতা রুহেল খান সংবর্ধিত  » «   বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা  » «   বিশ্বনাথে প্রশাসনের উদ্যোগে বিলবোর্ড অপসারণ  » «   প্রধানমন্ত্রীর দোয়া নিয়ে মনোনয়ন কিনলেন মাশরাফি  » «   নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট  » «   ইয়াহ্ইয়া চৌধুরীকে পুনরায় এমপি নির্বাচিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা  » «   জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন সাকিব-মাশরাফি  » «   বিশ্বনাথে জুয়ার আসর থেকে আ’লীগ নেতা সহ আটক ৯  » «   বিশ্বনাথে বিএনপি নেতা তাহিদ মিয়া চেয়ারম‌্যান গ্রেফতার  » «   বিশ্বনাথে শ্রমিক সুলতান হত্যা মামলায় স্ত্রী’সহ গ্রেফতার ২  » «   বিশ্বনাথে ইউপি চেয়ারম‌্যান রুহেল গ্রেফতার  » «  

একাত্তুরে ইউরোপে বাঙালির ত্রাণকর্তা ছিলেন বিশ্বনাথের গাউস খান

এ এইচ এম ফিরুজ আলী

এ এইচ এম ফিরুজ আলী

এ এইচ এম ফিরোজ আলী :: পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ মরেও অমত্ব লাভ করেন। বেঁচে থাকেন অবিস্মরণীয় হয়ে নিজ সৎ কর্মগুনে। তবে সুখ্যাতির শিখরে আরোহন করেছেন খুব কম সংখ্যক লোক। ক্ষর্ণস্থায়ী এ দুনিয়ায় তাৎপর্যময় কর্ম করে ইতিহাস হয়ে রয়েছেন এমন একজন মানুষের নাম গাউছ খাঁন। তিনি ব্যক্তি নয় ইতিহাসের একটি অংশ, একটি উপাদান। তিনি ছিলেন একজন আপোসহীন রাজনিতিবিদ দেশ প্রেমিক, বিদেশে অসহায় বাঙালির আশ্রয় দাতা। কোনো ভয়ভীতি, প্রলোভন, তাঁকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একজন অকৃতিম বন্ধু । মুক্তিযুদ্ধের একজন খ্যাতিমান সংগঠক। যুক্তরাজ্যে তিনি প্রবাসিদের একজন ত্রানকর্তা হিসেবে ৫০ দশক থেকে ৮০ দশক পর্যন্ত বাঙালির পাশে ছিলেন। ২০১১সালে তিনি মরনোত্ত স্বাধীনতা পদকও লাভ করেন।
১৯৭০ সালে বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে গঠন করে ছিলেন বাংলাদেশ আওমীলীগের যুক্তরাজ্য শাখা। তিনি ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ছয় দফা আন্দোলন, আগর তলা ষড়যন্ত মামলায় অর্থ সংগ্রহ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন করা সহ প্রতিটি আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন। মুজিবনগর সরকার বিদেশে কাজ শুরুর আগেই তিনি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে স্বাধীনতার পক্ষে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর একজন বিশ্বস্ত কাছের লোক হিসেবে বিচার প্রতি আবু সাঈদ কে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ১২ নং সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ প্রকাশের জন্য তিনি সাপ্তাহিক বাংলাদেশ নামক একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেন। বলা আবশ্যক যে, বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনে দেশ বিদেশে যে সব বিশ্বস্ত লোক সৃষ্টি করেছিলেন তাঁর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন গাউছ খাঁন।

ahmগাউছ খানের বাড়ী সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ৭নং দেওকলস ইউনিয়নের কজাকাবাজ গ্রামে। তাঁর পিতার নাম জাহিদ খান ও মাতার নাম নুরজাহান খানম। ১৯০৯ সালের ২৫মার্চ নিজ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। স্থানীয় পাঠশালা স্কুল এবং ওসমানীনগরের মঙ্গলচন্ডী নিশীকান্ত এম-ই স্কুলে লেখাপড়া করে চল্লিশের দশকে একজন জাহাজি হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করে ১৯৫০ সালে স্থায়ী ভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন। তাঁর বড় মেয়ের নাম লায়লা ইসলাম এবং ছোট মেয়ের নাম সুফিয়া ইসলাম। গাউছ খান ২০১১ সালে মরনোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। তাঁর বড় জামাতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী সৈয়দ জহিরুল ইসলাম স্বাধীনতা পদকটি গ্রহন করেন। ১৯৮০সালের ২০মে তিনি পরলোক গমন করেন। বিবিসির সাংবাদিক কাদের মাহমুদ, ডক্টর কামাল হোসেন, কলামিষ্ট মুনাইম সরকার, আব্দুল মতিনসহ দেশ বরেন্য ব্যক্তিগন গাউছ খানকে নিয়ে স্মৃতিচারন করেছেন।

১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষনার পর গাউছ খাঁন যুক্তরাজ্যে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র যুব ফেডারেশন গঠন করে ছয় দফার হাজার হাজার কপি ছাপিয়ে স্বেচ্ছায় বিতরন শুরু করেন। তখন থেকে তাঁর নিজের এলাহাবাদ রেস্টুরেন্ট ছিল বাঙালির অফিস। ৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে আগর তলা ষড়যন্ত্র মামলায় আসামী করা হলে গাউছ খাঁন আন্দোলন শুরু করেন। তিনি লন্ডনের শ্রমিক দলীয় পার্লামেন্ট সদস্য স্যার টমার্স উইলিয়ামকে মামলা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশে পাঠান। আগরতলা ষড়যন্ত মামলা থেকে মুক্তি লাভের পর বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনে যে সম্বর্ধনা দেওয়া হয় সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন গাউছ খাঁন। ১৯৬৯সালে ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পযর্ন্ত বঙ্গবন্ধু ও তাঁর প্রতিনিধি দল লন্ডন অবস্থান কালিন সময়ে যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করেন গাউছ খাঁন। বাংলার স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর জন্য তাঁর সকল অর্থ সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছেন।
১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ রবিবার গাউছ খাঁনের নেতৃত্বে দশ হাজারের বেশি বাঙালি যুক্তরাজ্যর হাউস পার্কে সমবেত হয়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য পাকিস্তান হাই কমিশন ঘেরাও করেন। ২৬ মার্চ গাউস খাঁন বাঙালি ছাত্রদের নিয়ে পাকিস্তান হাই কমিশন দখলের চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয় এবং কয়েকজন বাঙালি ছাত্র গ্রেফতার হলে গাউস খাঁন সমস্ত ব্যয়বার গ্রহন করে আইনের মাধ্যমে ছাড়িয়ে আনেন। ২৮ মার্চ ট্রাফালগার স্কোয়ারে প্রায় ৮০০ লোকের উপস্তিতিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ২৯ মার্চ গাউছ খাঁন লন্ডন টাইমর্স এর সাথে এক সাক্ষাতকারে বাংলাদেশের স্বীকৃতি দানের জন্য জাতিসংঘ বৃটেন সহ ইউরোপের দেশ গুলোর প্রতি আহবান জানান এবং বৃটেনে তৈরী অস্ত্র বাঙালিকে হত্যার জন্য পাকিস্তানীদের না দেয়ার জোর দাবি করেন। ৪ এপিল ট্রাফালগার স্কোয়ারে গাউস খাঁনের সভাপতিত্বে দশ হাজার লোকের সমাবেশ, ১২ এপিল পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের দাবিতে চীনা দূতাবাস ঘেরাও করা হয়। ১লা আগষ্ট ট্রাফালগার স্কোয়ারে গাউছ খাঁন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় এবং বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো তৎতপরতা চালানোর কারনে পাকিস্তানীরা তাঁকে হত্যার ভয়ভীতি দেখায়। এতে তিনি জীবনের তোয়াক্ষা না করে আন্দোলন আরও বেগবান করেন। পহেলা আগষ্ট ট্রাফালগার স্কোয়ারে বিশ হাজার লোকের উপস্থিতিতে বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিচারপতি আবু সাইদ চেীধুরী,গাউছ খাঁন লর্ডব্রকওয়ে, অশুক সেন, পিটারশোর, রেজপ্রেন্টিস, ব্রুক ডগল্যাস ম্যান, জন স্টোনহাউস, লডগিফোর্ড, পলকনেট, বেগম লুলু,বিলকিস বানু। এই সভাটি গৌছ খানের উদ্যোগে অনুষ্টিত হয়। পহেলা ডিসেম্বর বিকেলে লন্ডনের হাউস পার্ককর্ণারে প্রায় ১৫হাজার প্রবাসীর উপস্থিতিতে গাউছ খান মিছিল সহকারে ১০ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর বাস ভবনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতির জন্য স্বারকলিপি প্রদান করেন। দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় এ মিছিলকে” ভিক্টরি প্যারেড” অর্থাৎ বিজয় সমারোহ বলে অবহিত করে। মুজিব নগর সরকারের উপদেষ্টা আব্দুস সামাদ আজাদ, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরাগান্ধীর সাথে সাক্ষাত করে গাউস খান প্রবাসে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিস্থিতি ব্যাখা করেন। এভাবে গাউস খান বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে বহিবিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক কলামিষ্ট একুশে গানের রচয়িতা আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ স্মৃতিচারণ মুলক এক লেখায় (গাউছ খান স্মারকগ্রন্থ লন্ডন ২৪ জলাই ২০১০ইং) বলেছেন,” ১৯৭৪সাল থেকে ১৯৮০সাল পর্যন্ত গাউছ খানের সান্নিধ্যে ছিলেন তিনি। একবার তিনি ঢাকায় আসার সময় গাউছ খান এক গাদা টাক বিস্কুট এবং এরিন মোর টোবাকো তাঁর হাতে দিয়ে বলে ছিলেন, বঙ্গবন্ধু টাক বিস্কুট এবং এরিন মোর টোবাকো খুবিই পছন্দ করেন। এসব পেলে তিনি খুশি হবেন। এগুলো দিয়ে দিবেন। আরেকবার তিনি বাংলাদেশ থেকে লন্ডন ফিরে যাবার সময় বঙ্গবন্ধু মুজিব কোট তাঁর হাতে (গফ্ফার চৌধুরীর হাতে) একটি মুজিব কোট দিয়ে বলেছিলেন, এটা গাউছ খান সাহেবকে দিবেন, এটা গায়ে দিলে তাঁর আমার কথা (শেখ মুজিবের কথা) সবসময় মনে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি গাউস খানের এবং গাউছ খানের প্রতি বঙ্গবন্ধুর গভীর ভালবাসা, আস্থা বিশ্বাস কতটুকু ছিল তা কারো বোঝার বাকি নেই। তিনি লিখেছেন, ১৯৭৫সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের মর্মন্তদ খবর লন্ডনে শুনে আমরা সবাই বজ্যাহত। তখন যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ, সিপিবি ন্যাপ নিয়ে গঠিত বাকশালের নেতা কর্মীরা গাউছ খানের এলাহাবাদ রেষ্টুরেন্টে সমবেত হন। তখন ঢাকা বঙ্গভবন থেকে খোন্দকার মোস্তাক আহমদ গাউছ খানকে টেলিফোনে কেন্দ্রীয় আ’লীগের দায়িত্ব ভার গ্রহনের অফার দিয়ে ছিলেন। তখন গাউছ খান তাকে প্রশ্ন করে ছিলেন, আগে বলুন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হল কেন? মোস্তাক কোন জবাব দিতে না পারায় তখন তিনি ফোন কেটে দেন। এসময়ই গাউছ খানের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। জেনারেল ওসমানি গাউছ খানের একজন ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ওসমানি জনতা পার্টি গঠন করে গাউছ খানকে এপার্টিতে যোগদানের অনুরোধ করলে তিনি উত্তরে বলে ছিলেন, বঙ্গবন্ধু আমার নেতা, তার স্থান শিরে, তাঁকে সেখান থেকে আমি নামাতে পারবনা। জিয়াউর রহমান গাউছ খানকে অনেক ভয়ভীতি দেখিয়ে শেষপর্যন্ত লন্ডনে বাংলাদেশর হাই কমিশনার পদের প্রলোভন দেখালে গাউছ খান একই ভাবে বলে ছিলেন আমি বঙ্গবন্ধুর রক্ত, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করতে পারবোনা। জেলে জাতীয় চার নেতা হত্যার পর তাঁর এলাহাবাদ রেষ্টুরেন্টে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তখন একজন বলে ছিলেন দেশে আ’লীগের প্রধানমন্ত্রী হবার মত আর কেউ রইল না। এসময় হঠাৎ গাউছ খান উঠে বলে ছিলেন নেতা খুজতে হবেনা, ওরা বঙ্গবন্ধুকে নির্বংশ করতে পারেনি। তাঁর মেয়ে হাসিনা, রেহেনা, বেঁচে আছেন।

গাউস খানের মৃতুতে এক শোকবাণীতে বৃটিশ লেবার পার্টির মন্ত্রী বাঙালির বন্ধু নামে পরিচিত পিঠার শোর বলেছিলেন, গাউস খান শুধু বঙ্গবন্ধুর অনুসারী ছিলেন না আমারও বন্ধু ছিলেন, তিনি বাংলাদেশের একজন প্রবাসী নেতা ও ছিলেন। বৃটিশ অপর এক এমপি গাউছ খানের কফিনে ফুল দিয়ে বলেছিলেন,”ম্যান ইজ মরট্রাল, বাট গাউছ খান ইজ ইমমরট্যাল। ১৯৭৪সালে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে যখন প্রথম যুক্তরাজ্য যান তখন বঙ্গবন্ধু গাউছ খানের নিকট একটি চিঠি লিখে দিয়েছিলেন তাঁর হাতে। ১৯৭৪ সালে অক্টোবর মাসে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে লন্ডন যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ট বন্ধু, অনুসারী নাম ঠিকানা টেলিফোন নম্বর হাতে দিয়ে ছিলেন। এই নামের তালিকায় প্রথমেই গাইছ খানের নাম ছিল। স্ত্রীকে লন্ডনে সেন্ট টমার্স হাসপাতালে ভর্তি করার একটু পরে চলে যান গাউছ খানের এলাহাবাদ রেষ্টরেন্টে। তিনি গাউছ খান কে চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করে তাঁর নিবন্ধে লিখেছেন, ‘তখন সময় সন্ধ্যা, দেখলাম মাথা ভর্তি চুল, গ্রীক হিরোর মত দীর্ঘ মেদহীন শরীর এবং অভিজাত চেহারার একটি মানুষ, পৌঢ় চেহারা, কিন্তুু তাতে ভাঙ্গন ধরেনি। সালাম দিতেই চেয়ার থেকে উঠে এসেই আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, বললেন বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার কথা হয়েছে, তিনি আপনার কথা বলেছেন। কোন দ্বিধা, লজ্জা করবেন রা, কোন অসুবিধা হবে না’ গাফ্ফার চৌধুরী আরও বলেছেন বঙ্গবন্ধু যে তাঁকে (গাউছ খানকে) কেন এত বিশ্বাস করেন এবং তার উপর আস্থা রাখেন প্রথম দিনের আলাপের আলাপেই তা বুঝতে পেরেছিলাম। আপাদমস্তক বাঙালি এ কৃতি পুরুষের গুণগান শুনে আমাদের গর্বে বুক ভরে যায়। একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরবর্তী সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে গাউস খানের নেতৃত্ব শক্তি ও সাহসের কোন তুলনা হয়না। ১৯৮০ সালের ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিনে লন্ডন কমন্স হাউসে স্যার টমাস উইলিয়ামের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধুর জীবনি সম্পর্কে ইংরেজিতে বক্তব্য দিয়ে বৃটিশ ও প্রবাসী বাঙলীদের মধ্যে আলোনড় সুষ্টি করে ছিলেন গাউছ খান।
জাতির পিতার আদর্শের অনুসারী গাউছ খানকে দেখার আমার সৌভাগ্য হয়নি। দেওকলস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল আব্দুল মুকিদের মাধ্যমে আমাদের এ বীরসন্তানের জীবন সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। বিশেষ করে শ্রদ্ধেয় আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী স্মৃতিচারন মুলক লেখাটি পাঠ করে আমি অবিভুত এবং গর্বিত। আমি কীর্তিমান এ পুরুষকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে গাউছ খানের অবদানের যৎসামান্য বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমাদের মৃত্যুঞ্জয়ী এ বীরপুরুষ আমাদের মাঝে আজীবন বেঁছে থাকবেন এটাই প্রত্যাশা।

লেখক: কলামিষ্ট

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ