সোমবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
আশুগঞ্জ আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজে নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন শফিক চৌধুরী  » «   বৈরাগী বাজারে পুলিশের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবি : এলাকাবাসীর সভা  » «   বিশ্বনাথে দেড় হাজার লোককে অলংকারী ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ফ্রি চিকিৎসা  » «   বিশ্বনাথ ইউনিয়নের ১৯টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশ্রহনে আন্ত:প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রিড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনাথে রামসুন্দর স্কুল মাঠে তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত  » «   সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে মুহিবুর রহমানের আহবান  » «   বিশ্বনাথে এলাকাবাসীর বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণে ‘চাউলধনী স্কুল এন্ড কলেজ’র যাত্রা শুরু  » «   বিশ্বনাথের রামপাশায় ১৩তম ইউনিয়ন ক্রিকেট লীগের উদ্বোধন  » «   বিশ্বনাথে লজ্জতুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউট’র ৪র্থ দীক্ষা ও তাবু জলসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনাথে ওয়ান পাউন্ট হসপিটালের উদ‌্যোগে ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান  » «   বিশ্বনাথে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার  » «   বিশ্বনাথে পানি সংরক্ষণের জন্য নিজ জমিতে বোরো চাষিদের পুকুর খনন!  » «   বিশ্বনাথে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান : ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা  » «   আল্লামা ফুলতলী’র ১১তম ঈসালে সওয়াব মাহফিল সম্পন্ন  » «   জগন্নাথপুরে প্রয়াত সামাদ আজাদের ৯৭তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন  » «  

বিশ্বনাথে শখের বসে গাভী পালন করে আশিক মিয়ার বাজিমাত

picture-khamar-biswanath-sylhet-03-11-2017আব্বাস হোসেন ইমরান :: সন্তানদেরকে দুধেভাতে রাখতে নিতান্তই শখের বসে একটি বিদেশী জাতের গাভী কিনেন বিশ^নাথ উপজেলার দেওকলস কজাকাবাদ গ্রামের আশিক মিয়া। শখ পেয়েই বসে তাকে। কিনেন একই জাতের আরও দুটি গাভী। শুরু হয় এগুলোর বংশ বিস্তার। তিনি উদ্যোগ নেন ছোট পরিসরে বাড়ির আঙিনাতেই খামার গড়ে তোলার। ‘বিসমিল্লাহ ডেইরী ফার্ম’ নাম নিয়ে সেই যে শুরু হয়েছিল আশিক মিয়ার খামার, আজ সেটি বাণিজ্যিক খামারে রুপ নিয়েছে। দুধ ও গরু বিক্রি করে তিনি এখন বছরে আয় গুনেন ৩৫লক্ষের অধিক টাকা।
আশিকের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, উঠোনের উত্তর-পূর্বদিকের অংশে বিশাল পরিসরে তার খামার। তার ভেতরে বৃহৎ ঘরটিতে রাখা হয়েছে গাভী ও বাছুর। অপেক্ষাকৃত ছোট ঘরটিতে দশের অধিক ষাড় রাখা। এসময় আশিক মিয়া নিজ হাতে গাভীদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছিলেন। ঘরের পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত রয়েছেন দুজন কর্মচারী। আরও কয়েকজন কর্মচারীকে দেখা গেল খামারের অন্যান্য কাজে ব্যতিব্যস্ত। এরই ফাঁকে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বললেন আশিক মিয়া। জানালেন তার সফলতার পেছনের গল্প। বললেন, ‘সন্তানদের দুধেভাতে রাখতে ২০১১ সালের প্রথম দিকে অর্ধলক্ষাধিক টাকায় একটি বিদেশী গাভী কিনি। সেটি যে পরিমাণ দুধ দিত, তা পরিবারের চাহিদা মেটানোর পরও বিক্রি করা যেত। মনে হল, বিদেশী গাভী পালন করলে এর দুধ বিক্রয়টা বাড়তি আয়ের পন্থা হতে পারে। যেই ভাবা সেই কাজ। শখের বসেই আরও দুটি বিদেশী গাভী কিনে ফেলি। বংশ বিস্তারের ফলে বাড়তে থাকে গাভীর সংখ্যা। গড়ে তুলি ডেইরী ফার্ম। তারপর আর আমাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।’
আশিক মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, কোনো রকম সরকারী আর্থিক সহায়তা ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবেই তিনি এ খামার গড়ে তুলেছেন। প্রায় ১২ শতক জায়গার উপর গড়ে উঠা খামারে এখন গাভীর সংখ্যা ৩০টি। এছাড়া রয়েছে ১০টি ষাড় ও বাদবাকি বাছুর। যেগুলোর বাজার মূল্য আনুমানিক দুই কোটি টাকার উপরে। ৩০টি গাভী থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৭৫ লিটার দুধ দোহন করে বিক্রি করা হয়। এক সময় হাত দিয়ে দুধ দোহন করা হলেও এখন আশিক মিয়ার খামারে হাতের স্পর্শ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দুধ দোহন করা হয়। এছাড়াও তার খামারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান হয়েছে ৬জন লোকের। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন দুই বেলা মিলিয়ে ২৭৫ লিটার দুধ বিক্রি করে এবং ঈদসহ বিভিন্ন সময়ে ষাড় অথবা গাভী বিক্রি করে বছরে ৩৫লক্ষাধিক টাকা আয় হয় তার।
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, আশিক মিয়ার খামারের শুরু থেকেই ব্যবস্থাপনা ও ঘাস উৎপাদনের প্রক্রিয়া মানানসই থাকার কারণে সেটা গাভীর মোটাতাজা হওয়া এবং দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আর এ জন্যে তিনি তার খামারের মাধ্যমে সফলতার মুখ দেখেন। একটি গ্রামীণ জনপদে সফল খামারী হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আশিক মিয়া। তার এমন সফলতা অনুপ্রাণিত করছে বিশ^নাথের বেকার যুবকদের।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ