বিশ্ব বরণ্য আলেম মাওলানা মুহিউদ্দিন খান (রাহ:)
শনিবার, ১৮ আগষ্ট, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
ইলিয়াস আলীর সন্ধান কামনায় বিশ্বনাথে বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল  » «   যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্বনাথে জাতীয় শোক দিবস পালিত  » «   যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত  » «   লালাবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্বনাথের পিকআপ চালক ও হেলপার নিহত  » «   ঘাতক নূরের রায় কার্যকর না হওয়ায় আমরা সিলেটবাসী লজ্জিত -শফিক চৌধুরী  » «   বিশ্বনাথে রামপাশা-বৈরাগী-সিংগেরকাছ বাজার সড়কের বেহাল দশা : জনদূর্ভোগ  » «   বিশ্বনাথে জাতীয় শোক দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পন ও র‌্যালী  » «   শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ  » «   বিশ্বনাথে রাস্তায় গেইট নির্মাণ নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ  » «   বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে প্রশাসনিক অনুমোদন  » «   শিক্ষা প্রতিষ্টানে মাদক বিরোধী কমিটির আলোচনা সভা  » «   বিশ্বনাথে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা  » «   বিশ্বনাথে ব্রাক এর ‘উপজেলা মাইগ্রেশন ফোরাম মিটিং’ অনুষ্ঠিত  » «   দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে আ’লীগের বিকল্প নেই -শফিক চৌধুরী  » «   পবিত্র হজ্ব পালন করতে স্বপরিবারে সৌদি আরব গেলেন মিছবাহ উদ্দিন  » «  

বিশ্ব বরণ্য আলেম মাওলানা মুহিউদ্দিন খান (রাহ:)

সৈয়দ নাঈম আহমদ : mohiuddin-khanবিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইসলামী ব্যক্তিত্ব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ সভাপতি, মাসিক মদীনা সম্পাদক, বাংলা ইসলামী সাহিত্যের জনক পুরুষ মাওলানা মুহি উদ্দিন খান (রাহ:)।
মুহিউদ্দিন খান একাই এক উম্মাহ তথা জাতি ছিলেন। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। সর্ব দিক বিচারে মাওলানা মুহিউদ্দিন খান অসাধারণ অবদানের অধিকারী মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বিশ্বের দরবারে আমাদের গৌরবোজ্জল জাতীয় পরিচয়ন বহন করে চলতেন। মাওলানা প্রিয় নবীর (সা:) সত্যিকার ওয়ারিস হিসেবে বিশেষ এলাকা, দেশ ও জনপদের নয় সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কর্ণধার ছিলেন। তিনি তাঁর প্রতিটি শৈল্পিক কর্মে, প্রতিটি ছত্রে ও বাক্যে বেঁচে থাকবেন মানব জাতির হৃদয়ে চিরকাল।
তিনি ছিলেন বিশ্ব বরণ্য আলেম এবং বিশ্ববিখ্যাত মনীষীদের একজন। খাঁটি দেশেপ্রেমিক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, মজলুম ও নির্যাতিত অত্যাচারিতদের পক্ষে জালেমের বিরুদ্ধে আপসহীন। নাস্তিক মুরতাদ এবং ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে সাহসী সিপাহসালার। তার বলিষ্ট লেখা ও কণ্ঠের সাহসী হুঙ্কারে জনসাধারণের মাঝে দীনি জযবা ও প্রেরণার সৃষ্টি হতো। তিনি মুসলিম উম্মাহ্র যে কোন সংকটকালীন সময়ে কান্ডারীর ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা ও ভারতের সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। টিপাই মুখে ভারত কর্তৃক বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে লংমার্চে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি সর্বদা ওলামায়ে কেরামের বাস্তবসম্মত ঐক্য স্থাপনের চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি মনে করতেন আলেম সমাজের অনৈক্যই মুসলিম উম্মাহর পতনের প্রধান কারণ। ইসলাম প্রিয় সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল কালোত্তীর্ণ। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে তার সুদৃঢ় নেতৃত্ব ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মাওলানা মাসিক মদিনা সম্পাদনার পাশাপাশি অনুবাদ করেছেন মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ শফী রহ. লিখিত পবিত্র কুরআনের বিখ্যাত তাফসির মা’রিফুল কুরআন। তার সম্পাদিত, অনূদিত ও সংকলিত বইয়ের সংখ্যা অগুণিত। তিনি একজন জাতীয় রাজনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংগঠক। তার মৃত্যুতে বিশ্ববাসী হারালো এক অনন্য কলম-যোদ্ধাকে। তিনি হক্কানী ওলামায়ে কেরামের বিপ্লবী কাফেলার একটি উজ্জল নক্ষত্র, তার শূন্যতা পূরণ হবার নয়।
তিনি ইসলামী আন্দোলন, রাজনীতি ও লেখালেখি সমানভাবে চালিয়ে গেছেন। তিনি একাধারে মাসিক মদীনার সম্পাদক, সীরাতে রাসূল সা এর গবেষক, বহুগ্রন্থ প্রণেতা, বিদগ্ধ সাহিত্যিক, বরেণ্য আলেমেদ্বীন, সত্যিকারের নায়েবে রাসুল।
ভারত উপমহাদেশে আলেমদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে প্রতিভার সাক্ষর রেখে যারা খ্যাতির মালা পরেছেন তাদের মধ্যে মাওলানা মহিউদ্দীন খান একজন। তিনি দেশের বাইরে, আরব জাহানে, ইউরোপে এবং দূরপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও পরিচিত ছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এমন আলেমের সংখ্যা বাংলাদেশে হাতেগোনা। তাদের অন্যতম ছিলেন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান।
তিনি ছিলেন মুসলিম বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা। তার ইন্তেকালে মুসলিম বিশ্ব একজন দায়িত্বশীল অবিভাবক হারিয়েছে। তিনি অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করে দিশেহারা মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেখাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, যা অতুলনীয়।
মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সবধরনের আলেম-ওলামাদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। এদেশের আলেম-ওলামা এবং ইসলামি দলগুলোর কাছে ঐক্যের প্রতীক ছিলেন। তার সম্পাদিত মাসিক মদীনা পত্রিকাটি ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা অর্জন করেছিল। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পত্রিকাটি পৌঁছে গিয়েছিল। বিশেষ করে মাসিক মদীনার প্রশ্নোত্তরগুলো পাঠকরা মনযোগ সহকারে পড়তেন।
ভারতের লেখক গব্ষেক আলেম মাওলানা ঈসা মনসূরী বলেন-আমার দৃষ্টিতে মাওলানা মহি উদ্দিন খান পুরো বাংলার মাটিতে এমনই এক মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন যেমন মাওলানা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী (রাহ:) ও মাওলানা সৈয়দ আসআদ মাদানী (রাহ:) ভারতে ছিলেন, উমাম্মাহর জন্য মাওলানা খান সাহেব অত্যন্ত বিগলিত ও বিচলিত একটি হৃদয় তাঁর ভেতরে রাখতেন। আজ এর অভাব অত্যন্ত প্রকট।
এত বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়েও এত বড় ও উদার মনের অধিকারী ছিলেন মাওলানা মুহি উদ্দিন খান। তিনি আমার আব্বা মাওলানা সৈয়দ আবদুন নুর সাহেবের সাথে তাঁর “নিসবত” কে যে সম্মান দেখিয়েছেন, তা আমার জন্য অভুলনীয় এক স্মৃতি।
দোয়া করি কেয়ামত পর্যন্ত যাতে তাঁর আলোচনা অব্যাহত থাকে এবং তাঁর অনুস্মরণীয় আদর্শ অনুসৃত হতে থাকে।

লেখক:
সৈয়দ নাঈম আহমদ
সাংগঠনিক সম্পাদক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ