শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমানের জানাজায় লাখো মানুষের ঢল  » «   বিশ্বনাথে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দূর্গা পূজা সম্পন্ন  » «   বিশ্বনাথে কমিউনিটি সেন্টার থেকে কনে ছাড়াই ফিরে গেলেন বর  » «   বিশ্বনাথে একই রাতে দুটি বাড়িতে ডাকাতি : আহত ১  » «   প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান আর নেই  » «   বিশ্বনাথে ঘাতক শফিকের বাড়িতে রুমির পরিবার : ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন  » «   বিশ্বনাথে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে এমপি ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী  » «   বিশ্বনাথের বিভিন্ন মন্ডপ পরিদর্শনে ইলিয়াসপত্নী লুনা  » «   কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই  » «   বিশ্বনাথে বিভিন্ন মন্ডপ পরিদর্শনে শফিক চৌধুরী  » «   শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে বিশ্বনাথে শফিক চৌধুরী’র বস্ত্র বিতরণ  » «   সিলেটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ দূর্গাপূজা -পুলিশ সুপার  » «   পূজামন্ডপ পরিদর্শনে বিশ্বনাথ অনলাইন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ  » «   বিশ্বনাথে সরকারি রাস্তার গাছ কর্তন  » «   বিশ্বনাথে জাতীয় পার্টি ও পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নিস্পত্তি  » «  

স্মৃতির পাতায় আফছর মিয়া ……তপন দাশ

021সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ৬নং বিশ্বনাথ ইউনিয়নের সন্নিকটে আতাপুর গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। বিশ্বনাথের সর্বাধিক পরিচিত এক নাম আফছর মিয়া। তিনি গত ০৬/১১/২০১৬ ইং রোজ রবিবার সকাল ১০.০০ ঘটিকার সময় সিলেট নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আওয়ামী লীগের যখন দুর্দিন ছিল, আওয়ামী লীগের নাম যখন নিতে মানুষ ভয় করত, ঠিক তখনই আমাদের আফছর ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিল তার অবাধ বিচরণ। পুরানবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী চিত্ত রঞ্জন দে দিলু কাকার চা-স্টলে ছিল মনুমিয়া, বজলুর রশিদ, আফছর, ভাইদের রাজনৈতিক আড্ডা। জব্বার মার্কেট তৎকালীন সোনালী ব্যাংকের সামনে জিয়া, এরশাদ স্বৈরাচার বিরোধী সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশ শেষ করে আমরা যখন এখানে এসে বসতাম। তৎকালীন আওয়ামীলীগ সভাপতি মরহুম মনু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ, আছলম খান, কাপ্তান মিয়া, বিশ্বশ্বর রায় (ভানু বাবু), আফছর ভাই, বাবুল ভাই, ছয়ফুল ভাই, সাজিদ আলী, নোয়াব আলী তারা আমাদের রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা দিতেন। আমরা কাজ করতাম। ইতিহাস সাক্ষী, পুলিশী হয়রানী, পুলিশ বন্দুক তাক করে আমাদের যখন তাড়া করত তখনও জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতাম। আমরাও অনেক সময় পুলিশকে তাড়া করতাম। রাজপথে স্লোগান দিতাম মুজিব হত্যার পরিণাম বাংলা হবে ভিয়েতনাম,এরশাদের মরণ হবে, কাঁপন ছাড়া দাফন হবে, পুলিশী নির্যাতন, রুখে দাড়াও জনগণ। ভাত দে কাপড় দে, নইলে গদি ছেড়ে দে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে তোল। সেই সোনালী দিনগুলোর কথা আজও মনে পড়ে। আফছর ভাইসহ আমরা যখন বিশ্বনাথবাজারে জিয়া, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ও হরতাল পালনের জন্য মিছিল করতাম তখন অনেকেই আমাদের ব্যঙ্গ করে বলত “সিলেটী ভাষায়, হক্কল ফখরানীর পুয়াইনতে রাজনীতি করইন, ইতার একটার ঘরে ভাত নাই।” এ সকল অপমান, অপবাদ, মামলা, হামলা সহ্য করেও আফছর মিয়া বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে সরে দাড়াননি। আমাদেরকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা নির্মাণে সংগ্রাম করে গেছেন। আমাদেরকেও ছায়ার মত আগলে রেখেছেন। বিশ্বনাথ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল নেতা বিধান হত্যা মামলায় আফছর ভাইকে ও আমাকে আসামী করা হয়। ৩১/১০/১৯৯৩ ইংরেজী জামাত শিবির এর হামলা মামলায় উপজেলা সদরে ০১/১১/১৯৯৩ ইংরেজী সালে বিশ্বনাথ থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় আমাদের নেতা আফছর ভাইকে ৩নং আসামী ও আমি তপন দাশকে ৪নং আসামী করা হয়। দিলু বাবুর দোকানে বসে বজলু ভাই আমাকে টাকা দিয়ে বলতেন পত্রিকা নিয়ে আসার জন্য। তখন বিশ্বনাথে অনেক পত্রিকাই ছিল না ও আসতনা। ২/১ টি পত্রিকা আসত, তৎকালীণ মাস্টার লাইব্রেরী বা সিলেট থেকে হকার আসলে খবর, বাংলার বাণী পত্রিকা নিয়ে আমি তাদেরকে খবরের সংবাদ শুনাতাম। বজলু ভাই, আফছর ভাই খবর শুনে পরের দিন কর্মসূচী ঠিক করতেন। আমরা অনেকেই প্রস্তুতি নিতাম। কাল মশাল মিছিল হবে।

14925238_917824831681087_24339223594564595_n মশাল তৈরি করা, মশালে কেরোসিন ভরানোসহ যা যা প্রয়োজন সবকিছু নিয়ে প্রস্তুত থাকতাম। মিছিল শেষে পত্রিকায় খবর ছাপানোর জন্য সাপ্তাহিক সিলেট বাণী, সিলেট সুরমা অফিসে যেতাম। আজ মনু মিয়া, বজলুর রশিদ, বিশ্বশররায় (ভানু বাবু), ইসকন্দর আলী, তজম্মুল আলী, মর্তুজ আলী মাস্টার, আবুল গৌছ চৌধুরী, আব্দুল বারী, মবশ্বির আলী, দলিল লেখক তজম্মুল আলী, চিত্ত রঞ্জন দে দিলু বাবু, প্রভাত বৈদ্য, ময়না বাবু, ফজর খাঁ, সর্বশেষ জননেতা আফছর ভাই আজ আমাদের মাঝে নেই আজকের হাইব্রিডরা, বসন্তের কোকিলরা, সুযোগ সন্ধানী, ফেইসবুকে ট্যাবলেট বিক্রয়কারীরা সুবিধাভোগীদের ভিড়ে আফছর ভাইরা হারিয়ে যাবে না। আফছর ভাই আজ নেই কিন্তু তার কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ স্বীকার এবং নি:স্বার্থ জনসেবার মাধ্যমে এই সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন, বেঁচে থাকবেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মাঝে, বেঁচে থাকবেন সর্ব স্থরের নেতাকর্মীর মাঝে, তার অকাল মৃত্যুতে আমরা কবির ভাষায় বলতে চাই-আবার আসিব ফিরে, ধান সিড়িটির তীরে-এই বাংলায়, হয়তো মানুষ নয়-হয়তবা শঙ্খচিল শালিকের বেশে, হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে, কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঠাল ছায়ায়। হয়তো বা হাঁস হবো-কিশোরীর ঘুঙ্গুর রহিবে লাল পায় সারদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে ভেসে। আবার আসিব আমি বাংলার নদী, মাঠ, ক্ষেত ভালবেসে। জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়। হয়ত দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধার বাতাসে হয়ত শুনিবে এক লক্ষী পেঁচা ডাকিতেছে শিমূলের ডালে। হয়তো খৈয়ের ধান সরাতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে। রুপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে, ডাঙ্গা বায় রাঙ্গা মেঘে সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে, দেখিবে ধবল বক, আমারে পাবে তুমি ইহাদের ভীড়ে।
লেখক: তপন দাশ শিক্ষানবীশ এ্যাডভোকেট, সাবেক যুগ্ন ও ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক, বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগ, সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামী লীগ, বিশ্বনাথ।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ