বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বনাথে বিভিন্ন মন্ডপ পরিদর্শনে শফিক চৌধুরী  » «   শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে বিশ্বনাথে শফিক চৌধুরী’র বস্ত্র বিতরণ  » «   সিলেটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ দূর্গাপূজা -পুলিশ সুপার  » «   পূজামন্ডপ পরিদর্শনে বিশ্বনাথ অনলাইন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ  » «   বিশ্বনাথে সরকারি রাস্তার গাছ কর্তন  » «   বিশ্বনাথে জাতীয় পার্টি ও পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নিস্পত্তি  » «   বিশ্বনাথে ‘ভূয়া নাগরিক সনদে’ নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বাতিলের দাবীতে মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান  » «   বিশ্বনাথে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে ইউএনও  » «   বিশ্বনাথে শিশু কন‌্যাকে অপহরণকালে জনতার হাতে আটক ১  » «   বিশ্বনাথে অজ্ঞাতনামা নারী হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের জন্য ওসি’কে আদালতের নির্দেশ  » «   বিশ্বনাথে রামপাশা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন  » «   স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত যমজ দুই ভাই মাফী ও শাফী  » «   আলোকিত দেশ গঠনে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই – প্রতিমন্ত্রী মান্নান  » «   বিশ্বনাথে ট্রাক ড্রাইভারকে মারধর করার অভিযোগ : এমপির বিরুদ্ধে মিছিল-পাল্টা মিছিল  » «   বিশ্বনাথে প্রবাসীর উদ্যোগে হুইল চেয়ার ও সেফটি জ্যাকেট বিতরণ  » «  

বিশ্বনাথে রাজনীতিবিদদের সবক দিলেন দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী

Ruhel-Soyfulরফিকুল ইসলাম জুবায়ের :: গত ৭ই মে অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে জেলা ও স্থানীয় রাজনীতিবিদদের বেশ ভালভাবেই সবক দিলেন ২ বিদ্রোহী হেভিওয়েট প্রার্থী ছয়ফুল হক ও নাজমুল ইসলাম রুহেল । তারা
দুজনেই নিজ দলের প্রার্থীর চেয়ে ২ হাজারের বেশী ভোট পেয়ে নিজ দলের প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত করে এবং বিজয়ের মুকুট পরে বিশ্বনাথের রাজনীতিতে দারুন এক চমক দিয়েছেন । তাদের এই ইতিবাচক ফলাফল বিশ্বনাথের স্থানীয় রাজনীতিতে ভবিষ্যতে বিরাট প্রভাব পড়বে বলে অনেকেই ধারনা করছেন ।

প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথের স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শনিরদশা। বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বিশাল দুটি দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি ) । এই দল দুটির মধ্যে স্থানীয় রাজনীতিতে যেমন রয়েছে দা – কুমড়ার সম্পর্ক ঠিক তেমনী সাম্প্রতিক কয়েক বছরধরে উভয় দলের আভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল মাত্রাতিরিক্ত অনেকটা বেশী ।সে কারণে উভয় দলের প্রাণ নিজ নিজ দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা প্রত্যাশা করেছিলেন আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হয়ত দলীয় আভ্যন্তরীণ বিরোধ অনেকটাই মিটে যাবে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় আভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির কোন প্রকার চেষ্টাও কেউ চালাননি বরং অনুষ্টিত নির্বাচনের নানান ঘঠনাবলী , বক্তব্য ও বিবৃতি তাদের এই বিরোধ অনেকটাই উস্কে দিয়েছিল । যার কারণে ভোটের ফলাফল পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মনে দারুন উদ্বেগ ও উৎকন্টা ছিল । তবে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল সমূহ , প্রার্থী ও সাংবাদিকদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের দিন বা পরবর্তীতে কোন প্রকার সহিংসতা বা অনাকাঙ্খিত ঘঠনা ঘঠেনি । প্রবাসী অধ্যুষিত এই জনপদের রাজনীতির নিত্যদিনের খবরাখবর মূহুর্তের মধ্যে মিডিয়ার কল্যানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রবাসীরা অতি সহজে পান বলে এই উপজেলার রাজনীতির উপর স্পট লাইটটি একটু বেশীই পড়ে। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে আভ্যন্তরীণ বিরোধটা একটু মাথাচাড়া দিয়ে উঠায় প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলার রাজনীতির নিত্যনতুন খবরা খবরের প্রতি সবারই আগ্রহ অনেকটা বেড়ে যায় । দেশে ৪র্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হওয়ার পর হাজার ডলারের প্রশ্ন আসে কোন দল থেকে কে নমিনেশন পাচ্ছেন ?
আওয়ামীলীগ ও বিএনপি উভয় দলে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার হেভিওয়েট প্রার্থী ছিল অনেকটা বেশী । যাদের অনেকেরই যেমন ছিল নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা ঠিক তেমনী ছিল একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব। তবে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘঠিয়ে ৬ টি ইউনিয়নে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ থেকে নমিনেশন পান ৪জন নতুন মুখ ও ২টি পুরাতন মুখ। অন্যদিকে ৬টি ইউনিয়নে বিএনপি থেকে নমিনেশন পান অনুরোপ ৪জন নতুন মুখ ও ২টি পুরাতন মুখ। আর তাতে উভয় দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কোমর বেধে মাঠে নামেন। বিশ্বনাথের সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় নির্বাচনে দলীমনোনয়ন বন্চিত প্রার্থীরা সর্বস্থরের সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করে সমবেদনা অর্জন করতে বিপুল ভাবে সক্ষম হয়েছেন । বর্তমান ইউপি নির্বাচনেও তারা সেটা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন । আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছয়ফুল হক নিজ দলের মনোনীত প্রার্থী আবুল জলিল জালালের চেয়ে ২ হাজার ৩শত ৪৩টি বেশী ভোট পেয়ে ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নাজমুল ইসলাম রুহেল নিজ দলের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হকের চেয়ে ২ হাজার ৪ শত ৭০টি ভোট বেশী পেয়েছেন। ছয়ফুল হক যেমন দলীয় প্রার্থীর চেয়ে বেশী ভোট পেয়ে জিতে গড়েছেন হ্যাট্টিক রেকর্ড ঠিক তেমনী নাজমুল ইসলাম রুহেল দলীয় প্রার্থীর চেয়ে বেশী ভোট পেয়ে এই প্রথম চেয়ারম্যান হলেন এর পাশাপাশি তিনি উপজেলার ৬টি ইউপির নির্বাচনে সবচেয়ে বেশী ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে গড়েছেন এক অনন্য রেকর্ড । এতে বিদ্রোহী এই দুই প্রার্থী যেমন নিজ দলের মনোনয়ন প্রদানকারী নিজ নিজ দলের নেতৃবৃন্দকে বেশ ভাল ভাবেই সবক দিতে পেরেছেন ঠিক তেমনী স্থানীয় রাজনীতিতে ভবিষ্যতের জন্য দারুন এক উদাহরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম হলেন।

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ