মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বনাথে জঙ্গিবাদ সচেতনতায় দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত  » «   বিশ্বনাথ থেকে স্কুলছাত্র নিখোঁজ  » «   আ’লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্বনাথে র‌্যালী-সভা  » «   বিশ্বনাথের পশ্চিম ধলিপাড়া গ্রামের পানি নিষ্কাশনে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে স্মারকলিপি  » «   কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২ : আহত ২৫০  » «   বিশ্বনাথের সড়কগুলো সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন  » «   বিশ্বনাথে হেক্সাস’র সার্টিফিকেট বিতরণ  » «   বিশ্বনাথে প্রেগনেন্সি টেস্টে ভূল রিপোর্ট : অল্পের জন্য রক্ষা পেল গর্ভের সন্তান  » «   বিশ্বনাথে ভ্রাম্যমান অভিযানে সাড়ে ৯ হাজার জরিমানা আদায়  » «   বিশ্বনাথে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রাস্তার ঝোপঝার পরিস্কার  » «   বিশ্বনাথে উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নুনু মিয়া  » «   বিশ্বনাথে আহমদ আলী স্মরণে উপজেলা আ’লীগের শোকসভা  » «   কৃষকরাই বাংলাদেশের প্রাণের বন্ধু :শফিক চৌধুরী  » «   বিশ্বনাথে প্রবাসীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের পাল্টা অভিযোগ : আদালতে মামলা  » «   সংবাদ প্রকাশের একদিন পরই বিশ্বনাথে সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ  » «  

বিশ্বনবীঃ বিশ্ববাসীর প্রতি সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত

12498810_957174464357370_1017024784_nমো. আমিনুল ইসলাম মাহফুজ আল মাদানী :: নিয়ামত। বাংলায় কৃপা, দয়া, প্রসন্নতা বা অনুগ্রহ বলা যায়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অগণিত নিয়ামত দ্বারা আচ্ছাদন করে রেখেছেন এই ধরাধাম। চন্দ্র-সূর্য, আলো-বাতাস, দিন-রাত, আগুন-পানি, তরু-লতা, সবকিছুই তারই কৃপা, করুনা। তাইতো আল্লাহর অমোঘ ঘোষণা- ‘যদি আল্লাহর নিয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না’ -(সূরা আহযাব : ১৮)। সত্যিই কারো সাধ্য নেই তাঁর করুণার হিসেব করে শেষ করা।
আল্লাহ তায়ালার এ সকল অগণিত অনুগ্রহের মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ বা নিয়ামত হলেন ‘হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। যিনি সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। যার সম্পর্কে স্রষ্টা নিজেই বলেন- ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি’ -(সূরা আম্বিয়া : ১০৭)। তিনি ছিলেন কূল কায়েনাতের জন্য রহমত বা অনুকম্পা। শুধু মানবজাতি নয়, বরং জ্বীন জাতি সহ সকল সৃষ্টির প্রতি রহমত হয়ে এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন। প্রশ্ন আসতে পারে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি শুধু মুসলমানদের জন্য রহমত নাকি কাফিরসহ সকলই রহমতের অন্তর্ভূক্ত? তার জবাব হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এর বর্ণনা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন- ‘যারা ঈমানদার তাদের জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহকাল ও পরকালে (উভয়কালে) রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, আর যারা মুসলমান নয় তাদের জন্য শুধু ইহকালে রহমত স্বরূপ প্রেরিত। তাদের প্রতি রহমতের উদাহরণ হলো, তিনি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা ভূমিধ্বস বা চেহারা বিকৃতির মত কোন কঠোর শাস্তি দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করবেন না। যা বিভিন্ন নবীগণের উম্মতের বেলায় অস্বীকার করার কারণে ঘটেছিল’।
অন্যত্র মহান আল্লাহ পাক বলেন- ‘তোমাদের কাছে এসেছেন তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসুল। তোমাদের দুঃখ কষ্ঠ তাঁর পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়’ -(সূরা আত তাওবাহ : ১২৮)। এখানে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন, অনুগ্রহের অন্যতম নমুনা। আর তাইতো হাসান ইবনে ফদ্বল বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা নবীগণের মধ্য হতে কোন নবী বা রাসুলের মধ্যে দুটি নামের সমাবেশ ঘটান নি, যা তাঁর নিজের মধ্যে রয়েছে। তবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মধ্যে সে দুটি নামের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন- মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময় (রাউফুর রাহীম)’। এটা দ্বারা সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ছিলেন করুনাশীল।
শুধু তাই নয়, আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরণকে অনুগ্রহ অনুকম্পা উল্লেখপূর্বক ঘোষণা করেন- ‘আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও বিজ্ঞান শিক্ষা দেন। বস্ততঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট’ -(সূরা আল ইমরান : ১৬৪)।
আর কেন তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হবেন না? কেননা, হেদায়াত লাভ করা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় করুনা বা দয়া। আর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জনমভর অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথের দিকে আহবান করে গেছেন। মহান রাব্বুল আলামীন সাক্ষ্য হিসেবে আরো বলেন- ‘আপনি যদি কর্কশ ও কঠিন হৃদয়ের অধিকারী হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত’ -(সূরা আল ইমরান : ১৫৯)। সুতরাং বুঝা যায় যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবার প্রতি ছিলেন কোমল, ভদ্র ও নম্র প্রকৃতির।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদা সর্বদা ছিলেন রহমত বা করুনাস্বরূপ। যার বিদ্যমান থাকাটা আল্লাহর শাস্তিকে দূরীভূত করে দেয়।কুরআনুল কারীমে ঘোষণা এসেছে- ‘আল্লাহ কখনই তাদের উপর শাস্তি অবতরণ করবেন না, যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন’ -(সূরা আল আনফাল : ৩৩)। এমনকি হাদীস শরীফে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেকে করুনা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। যার বর্ণনা এসেছে এভাবে- ‘হযরত হুযাইফা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে মদীনার পথে আমার দেখা হয়। তখন তিনি বললেন, আমি মুহাম্মদ, আমি আহমদ এবং আমি করুণাময় নবী’।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন সেই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করার তাওফীক দান করেন।
ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

লিখক- প্রাবন্ধিক, লিস্যান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল mahfujnb@yahoo.com

am-accountancy-services-bbb-1

সর্বশেষ সংবাদ